কুমিল্লা শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় শুক্রবার বিকেলে নিখোঁজ হওয়া কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম-কে হত্যার ঘটনা তদন্তে পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম শনিবার রাতে আটক হওয়ার খবর নিশ্চিত করেন।
গ্রেফতারের পদ্ধতি ও অনুসন্ধান
পুলিশ জানায়, শুক্রবার বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হওয়ার পর থেকে ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিম নিখোঁজ ছিলেন। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২১ ঘণ্টা পর শনিবার দুপুরে কোটবাড়ি এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার ও ময়নাতদন্তের পর ঘটনাস্থল ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের ভিত্তিতে তিনজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে স্বাক্ষর করা হয়েছে।
ওসি মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম বলেন:
“সন্দেহভাজন তুহিন, আনাস ও ফাহিমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে।”
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রথমে বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে তুহিনকে আটক করা হয়। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সংলগ্ন সিসিটিভি ফুটেজে তুহিনকে অপ্রতিমের সঙ্গে ওই এলাকায় অবস্থান করতে দেখা গেছে। পরে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার সময় আনাসকে এবং তার পর পঞ্চত্রিশ মিনিটের মধ্যে ফাহিমকে গ্রেফতার করা হয়।
ঘটনার সময়রেখা
| সময় | ঘটনা |
|---|---|
| শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টা | অপ্রতিম বাড়ি থেকে বের হয় বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে |
| শুক্রবার রাত | অপ্রতিম বাড়ি না ফেরায় মা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন |
| শনিবার দুপুর (প্রায় ১টা) | কোটবাড়ি এলাকার জঙ্গলে মরদেহ পাওয়া যায় |
| শনিবার বিকেল ৩:৩০টা | তুহিন গ্রেফতার |
| শনিবার সন্ধ্যা ৭টা | আনাস গ্রেফতার |
| শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা | ফাহিম গ্রেফতার |
ময়নাতদন্ত ও জানাজা সংক্রান্ত তথ্য
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার রাত আটটার দিকে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আগামীকাল রোববার সকাল ১০টায় প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে; পরে সকাল ১১টায় গন্ধমতি ঈদগাহ মাঠে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে—এই安排টি পরিবার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
প্রভাব ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। তার আকস্মিক ও নির্মম মৃত্যু এলাকাবাসী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। অপ্রতিমের পরিবার, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ও পুলিশের একটি দল বিভিন্ন স্থানে তাকে খুঁজে বেড়িয়েছিলেন। স্থানীয়রা বলেন, ছোট ছেলে হত্যার ঘটনা নিয়ে এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্য বিরাজ করছে।
- পুলিশের পদক্ষেপ: সিসিটিভি ফুটেজ থেকে পাওয়া সূত্রে দ্রুত গ্রেফতার
- সমাজের উদ্বেগ: শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে
- পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা: আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং তদন্ত অব্যাহত
আচরণপ্রণালি ও আগামী করণীয়
তদন্তকার্য জোরদার করতে পুলিশ স্থানীয় সিসিটিভি ও মোবাইল কল ডেটা যাচাই করছে বলে জানিয়েছে তদন্তকারীরা। এছাড়া সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। মামলার আনুষ্ঠানিক ধারাবাহিকতা ও অভিযোগ দায়েরের বিস্তারিত তথ্য পরে জানা যাবে।
স্থানীয় প্রশাসন ও থানার তৎপরতা বাড়ানো হলেও অনানুষ্ঠানিক সংবাদের ভিত্তিতে বা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ছড়ানো অস্থিতিশীল বা ভুল তথ্য সম্পর্কে সতর্ক থাকতে পরিবার ও পুলিশ উভয়ই অনুরোধ করেছেন।
এই ঘটনায় কুমিল্লা জেলা ও বিশ্ববিদ্যালয় কমিউনিটির মধ্যে নিরাপত্তা, প্রহরায় বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ করা নিয়ে আলোচনার জন্ম নিয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য ও পুলিশের অনুসন্ধানের ফলাফলে আসল চিত্র স্পষ্ট হবে বলে স্থানীয় নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন।
ঘটনাস্থল ও তদন্ত সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক বিবরণ দেয়ার জন্য পুলিশ এবং ময়নাতদন্তকারী বিভাগকে বেশ কিছু অত্যাবশ্যক তথ্য সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে আমরা পাঠককে নিয়মিত জানিয়ে রাখব।