নেত্রকোনায় নৃশংসভাবে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির (আলিফ ফকির) হত্যা ঘটনায় কুমিল্লায় সাংবাদিক নেতারা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভার মাধ্যমে কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) বেলা ১২টায় কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড়স্থ পূবালী চত্বরেই এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
সমাবেশের আয়োজক ও বক্তব্য
মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশ—কুমিল্লা জেলা শাখা। জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কাজী খোরশেদ আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের সাংবাদিক ও কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় অংশ নেওয়া বক্তারা একযোগে বলেছিলেন যে, “সাংবাদিকের ওপর হামলা, নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।” তারা বিগত ঘটনায় দ্রুত, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
উপস্থিত নেতাদের দাবি ও আশঙ্কা
বক্তারা জানান, একজন সাংবাদিককে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা কেবল একটি পরিবারকে ক্ষতিগ্রস্ত করেনি; এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের নিরাপত্তার জন্যও গভীর হুমকি। তারা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
- তৎকালীন ও ভবিষ্যৎ তদন্তে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
- হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রত্যেককে দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা।
- আইনানুগভাবে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
- সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের আগ্রাসী পদক্ষেপ নেওয়া।
সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি ওমর ফারুকী তাপস, সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, সহসভাপতি মনোয়ার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আক্কাস আল মাহমুদ হৃদয়, বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, লালমাই উপজেলা শাখার সভাপতি রিয়াজ মোশেদ মাসুদ ইত্যাদি।
“সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হত্যার ঘটনায় দায়ীদের বিচার নিশ্চিত না হলে এ ধরনের ঘটনা আরও উৎসাহিত হতে পারে।”
স্থানীয় প্রেক্ষাপট ও পরবর্তী প্রত্যাশা
মানববন্ধনে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বিভিন্ন সংবাদপত্র ও অনলাইন নিউজ সূত্রের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন। তারা আলিফ ফকিরের পরিবারকে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে অনুরূপ আক্রমণ রোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি করেন। একই সঙ্গে তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তৎপরতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়াতে রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারা বিষয়টি নিন্দা করেছেন এবং সততার সঙ্গে তদন্ত হলে স্থানীয় গণমাধ্যমে ও জনগণের আস্থাও পুনরুদ্ধার হবে বলে মনে করেন। বক্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, যদি অপরাধীদের বিরুদ্ধে কড়াকড়ি না দেখা যায়, তাহলে সাংবাদিকতায় কাজ করা যারা সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশনে ঝুঁকিতে রয়েছেন—তাদের নিরাপত্তা আরও সংকটাপন্ন হবে।
| নাম | পদবী/সংগঠন |
|---|---|
| কাজী খোরশেদ আলম | জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি |
| ওমর ফারুকী তাপস | সাবেক সভাপতি |
| আবু বকর সিদ্দিক | সাধারণ সম্পাদক |
| মনোয়ার হোসেন | সহসভাপতি |
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া সাংবাদিক নেতারা বলেছেন, তারা এই হত্যাকাণ্ডের বিচারে রাষ্ট্রকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য নিয়মিত নজর রাখবেন এবং গণমাধ্যম কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি নেওয়া হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।
কুমিল্লা থেকে রিপোর্টিং — রিপোর্টারের তথ্য সংগ্রহ ও বক্তব্যের উপর ভিত্তি করে উপস্থাপিত।