কুমিল্লায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীরা রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি বিশ্বরোড এলাকায় অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। প্রতিবাদ করে তারা নিহত ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান।
ঘটনার ধারাবাহিকতা ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলন
শুক্রবার বিকেলে নিখোঁজ হওয়া অপ্রতিমের মরদেহ শনিবার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি নির্জন স্থানে উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত অপ্রতিম ১৩ বছর বয়সী এবং তিনি কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। তাঁর মা ড. নাহিদা বেগম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বলে জানানো হয়েছে।
রবিবার সকাল সোয়া ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মাঠে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সকাল ১১টায় গন্ধমতি ঈদগাহ মাঠে দ্বিতীয় জানাজা শেষ করে পারিবারিক সিদ্ধান্তে অপ্রতিমকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজা ও দাফনের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ন্যায়বিচারের দাবিতে রাস্তায় নেমে আসে এবং মহাসড়ক অবরোধ করে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়।
গ্রেফতার ও তদন্ত
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের ভিত্তিতে প্রথমে তুহিন নামে এক যুবককে আটক করা হয়। তুহিনের জিজ্ঞাসাবাদে আরও আনাস ও ফাহিম আহমেদ নামে দুই যুবককে নিশ্চিত করা হলে তাদেরও আটক করে পুলিশ। সূত্র জানায়, নিহতের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করে তদন্ত শুরু করেছে এবং আইফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
‘সম্ভবত আইফোনটিই তার মৃত্যুর কারণ হয়েছে।’
এ মন্তব্যটি অপ্রতিমের পিতা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেছেন, বর্তমান তদন্তের প্রসঙ্গেই তিনি এই অনুমান ব্যক্ত করেন।
- নিহত: ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম, ১৩ বছর
- তিনজন আটক: তুহিন, আনাস ও ফাহিম (আটকের তথ্য পুলিশ সূত্রে)
- অবস্থান: কোটবাড়ি বিশ্বরোড—ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের অংশ
- পরিস্থিতি: জানাজা ও দাফনের পর শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ
স্থানীয় প্রভাব ও উত্তরদায়িত্ব
অবরোধ চলাকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উভয় লেনে যান চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। কুমিল্লার এই অংশটি বাংলাদেশে প্রধান সংযোগরাস্তাগুলোর একজন, তাই সাময়িক যানজট ও পরিবহন ব্যাহত হলে শহরের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ উল্লেখযোগ্যভাবে সমস্যায় পড়েন। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেয়।
এ ঘটনায় গিয়ে থাকা পরিবারের শোক ও শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ কুমিল্লা সমাজে নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচার নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি করেছে, তা নিশ্চিতভাবেই স্থানীয় বার্তার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে। পুলিশ কোটবাড়ি ফাঁড়ি ও জেলা প্রশাসন ঘটনার তদন্ত ও অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
| কার্যক্রম | সময় |
|---|---|
| নিখোঁজ হওয়া | শুক্রবার বিকেল (পরিবারের তথ্য) |
| মরদেহ উদ্ধাৰ | শনিবার দুপুর (সানন্দা, লালমাই পাহাড়ের নিকট) |
| প্রথম জানাজা | রবিবার সকাল সোয়া ১০টা (কুবি কেন্দ্রীয় মাঠ) |
| দ্বিতীয় জানাজা ও দাফন | রবিবার সকাল ১১টা (গন্ধমতি) ও পরবর্তীতে দাফন |
| মহাসড়ক অবরোধ | রবিবার বেলা সাড়ে ১১টা (কোটবাড়ি বিশ্বরোড) |
স্থানীয়রা বলছেন, শিশুমৃত্যু ও শিক্ষার্থী হত্যার মতো ঘটনা সামাজিক অস্থিরতা বাড়ায় এবং ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার বোধ জাগায়। ঘটনার সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার না হলে এমন পরিস্থিতি পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা সংশয়ের কথা প্রকাশ করেছেন।
কুমিল্লার প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনার দিকগুলো সম্পর্কে তদন্তে জোর দিচ্ছে; তবে বিচারের নির্দিষ্ট সময়সূচি ও ফলাফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি। মামলার তদন্তগত প্রক্রিয়া ও বিচারে স্থানীয় জনগণ, বিশেষ করে শিক্ষার্থী-সমাবেশগুলো নজর রাখছে।
এই ঘটনার পর নিহত অপ্রতিমের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হচ্ছে এবং কুমিল্লা নগরীতে ন্যায়বিচার দাবি করে বিভিন্ন পর্যায়ে চাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে স্থানীয় পরিস্থিতি ইঙ্গিত করছে।