দাউদকান্দি উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ বাসস্টেশন এলাকায় বুধবার দুপুরে দ্রুতগতির একটি বাসের চাপায় রোকেয়া বেগম (৫৫) নামের এক নারী নিহত হয়েছেন। মৃতার বাড়ি দাউদকান্দি উপজেলার মালিগাঁও ইউনিয়নের কালাসোনা গ্রামে।
দুর্ঘটনার পরিবেশ ও পুলিশি ব্যবস্থা
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোকেয়া বেগম ইলিয়টগঞ্জ বাসস্টেশনে একটি লোকাল বাস থেকে নামেন। পরে ইলিয়টগঞ্জ বাজারে যাওয়ার জন্য ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে রাস্তাপার করার সময় তিনি ফুটওভার ব্রিজ থাকা সত্বেও ব্রিজের নিচ দিয়ে রাস্তা পাড়ি দিচ্ছিলেন। এ সময় ঢাকা থেকে আসা চট্টগ্রামমুখী ‘এশিয়া ট্রান্সপোর্ট’ নামের একটি দ্রুতগতির বাস তাকে চাপা দেয়।
বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন রোকেয়া বেগম। দুর্ঘটনার পর চালক বাসটি নিয়ে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানা তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় এবং নিহতার পরিচয় নিশ্চিত করে তার আত্মীয়-স্বজনকে জানানো হয়।
“খবর পেয়ে আমরা দ্রুত থানায় আসি। আমার বড় বোন গৌরীপুরে থাকেন। সেখান থেকে মা নিজের বাড়িতে ফিরছিলেন। ইলিয়টগঞ্জ বাসস্টেশনে নেমে রাস্তা পার হওয়ার সময় বেপরোয়া বাসটি আমার মাকে কেড়ে নিল,”
মৃতার কন্যা লিপি আক্তারের এ অভিযোগ পুলিশের নথিভুক্তকরণে এসেছে। ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফারুক ইসলাম দুর্ঘটনার ঘটনা নিশ্চিত করে জানান, বাসটি শনাক্ত করে চালককে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে এবং পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় প্রভাব ও নিরাপত্তা প্রশ্ন
ফুটওভার ব্রিজ থাকা সত্ত্বেও পথচারীরা কখনও কখনও সরাসরি লেন পার হওয়ায় এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। ইলিয়টগঞ্জ বাজারের কাছাকাছি এটি একটি ব্যস্ত সড়ক—স্থানীয় বাণিজ্যিক আওয়াজ ও যাতায়াতের কারণে পথচারীর চাপ নিয়মিত দেখা যায়।
স্থানীয় একজন ব্যবসায়ী জানান, ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করে নিচ দিয়ে রাস্তা পার হওয়ার তাদের অভ্যাস রয়েছে, কারণ ব্রিজে ওঠা-নামা ধীর ও ঝামেলার। তবে দুর্ঘটনার পর অনেকেই নিরাপদভাবে ব্রিজ ব্যবহারের কথা বলছেন।
- নিহত: রোকেয়া বেগম, বয়স: ৫৫ বছর
- স্থান: ইলিয়টগঞ্জ বাসস্টেশন, দাউদকান্দি
- দিন-সময়: বুধবার দুপুর
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নাম | রোকেয়া বেগম |
| বয়স | ৫৫ বছর |
| ঘটনার স্থান | ইলিয়টগঞ্জ বাসস্টেশন, চট্টগ্রামমুখী লেন |
| প্রতিক্রিয়া | চালক পালিয়ে গেছে; থানা অভিযান চালাচ্ছে |
পেশাদার তৎপরতা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রক্রিয়া
এধরনের ঘটনায় থানার ভূমিকা দুর্ঘটনার পর মরদেহ উদ্ধার, পরিবারকে জানানো এবং অভিযুক্ত চালক-বাস শনাক্তকরণে সীমাবদ্ধ নয়—পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থাও নিতে হয়। ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানা সূত্রে জানা গেছে, পরিবার লিখিত অভিযোগ করলে সেখান থেকে মামলা উদ্যোগ নিয়ে তদন্ত চালানো হবে।
স্থানীয়রা দাবি করেছেন, দ্রুতগতির বাসটির রুখতে সড়কের পাহাড়ী মার্কিং, স্পিডব্রেকার বা অতিরিক্ত ট্রাফিক নজরদারি জরুরি। পাশাপাশি, পথচারীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোয় সচিবালয়, স্থানীয় প্রশাসন ও ট্রাফিক বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগ কাম্য বলে মনে করছে এলাকাবাসী।
এ ঘটনায় চালক এবং বাসচালককে শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে একই রকম দুর্ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তদন্ত ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার অগ্রগতি সম্পর্কে শহরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা থানা থেকে হলে পাঠকদের জন্য আপডেট দেয়া হবে।
এই সংবাদ পরিবেশনে সকল তথ্য স্থানীয় পুলিশ ও পরিবারের কাছে পাওয়া বিবরণ ভিত্তিক; ঘটনাস্থল ও থানায় প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে প্রতিবেদন সাজানো হয়েছে।