রাজনীতি কুমিল্লা কুমিল্লা (44)

অপ্রতিম হত্যার আসামিদের পক্ষে মামলা চালাবেন না কুমিল্লার আইনজীবীরা

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যা মামলায় মানবিক ও নৈতিক কারণে জেলা আইনজীবী সমিতি ও কুমিল্লা বার সদস্যরা গ্রেপ্তার আসামিদের পক্ষে কৌঁসুলি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাজ্য যদি প্রয়োজন মনে করলে আইনগতভাবে আসামিদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ দিতে পারে—জেলা পিপি।

অপ্রতিম হত্যার আসামিদের পক্ষে মামলা চালাবেন না কুমিল্লার আইনজীবীরা
©অলংকরণ রুবিনা আক্তার / we-news.com

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর জেলা সাংস্কৃতিক ও আইনগত পরিমণ্ডলে উত্তেজনা বাড়ায় কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতি ও কুমিল্লা বার মহাসভা মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) একটি ঐকমত্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গ্রেপ্তার আসামিদের পক্ষে কোনো সাধারণ আইনজীবী মামলা পরিচালনা করবেন না—অর্থাৎ মানবিক বিবেচনায় স্থানীয় আইনজীবীরা আত্মপক্ষ সমর্থনের দায়িত্ব গ্রহন করবেন না।

সভায় উপস্থিত ছিলেন সরকারি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আমজাদ হোসেন সরকার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. বেলাল উদ্দীন, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. সহিদ উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. মাহবুবুল হক খন্দকার ও সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. শরিফুল ইসলাম ও অন্যান্য আইনজীবী। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রক্টর, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দও ছিলেন।

পাবলিক প্রসিকিউটরের বক্তব্য

কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট কায়ইমুল হক রিংকু সভায় বলেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। তিনি সভায় জানান যে, আইনজীবীরা মানবিক কারণে আসামিদের পক্ষে লড়বেন না বললেও রাষ্ট্র যদি ন্যায়বিচারের স্বার্থে কাউকে দায়িত্ব দিতে চায়, তখন নির্দিষ্টভাবে নিয়োগকৃত আইনজীবী মামলা পরিচালনা করবেন। পিপি রিংকু সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন যে তদন্ত চলছে এবং তারা দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছেন।

"আমরা অপ্রতিমের বাবা-মাকে সুষ্ঠু ও ন্যায়বিচারের বিষয়ে আশ্বস্ত করেছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অনুরোধ জানাচ্ছি, সুষ্ঠু তদন্ত শেষে যেন দ্রুত অপরাধীদের আদালতে সোপর্দ করা হয়। শোকসন্তপ্ত পরিবারকে ন্যায়বিচার পাইয়ে দিতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।"

বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের দাবি

অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় মানুষরা দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করে আসছে। সভায় বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান বলেন যে অপ্রতিম ছিলেন মিশুক এবং তিনি আশা করেন হত্যাকাণ্ডটির বিচারে কোনো রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাব পড়বে না। শিক্ষার্থীর বক্তব্যে বলা হয় যে অপরাধীদের বয়স নিয়ে অস্পষ্টতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং এই ধরনের ঘটনায় পূর্বের নিদর্শন অনুসরণ করে আপোষহীন বিচার হওয়া উচিত।

আইনগত প্রভাব ও পরবর্তী ধাপ

কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. সহিদ উল্লাহ সভায় বলেছেন যে মানবিক কারণে এই সিদ্ধান্ত নেয়ার পেছনে তাদের অবস্থান দৃঢ়। তিনি উল্লেখ করেছেন, রাষ্ট্র চাইলে আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে আসামিদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করতে পারে এবং সেই খরচ রাষ্ট্র বহন করবে। অন্যদিকে, অপরাধী বা আসামিদের আইনগত অধিকার সংরক্ষণের বিষয়টি আইনে নিয়মিতভাবেই রক্ষা করা হবে; আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ আইনত থাকবে—কিন্তু স্থানীয় আইনজীবীরা তা গ্রহণ করবেন না।

  • স্থানীয় আইনজীবীরা মানবিক ও নৈতিক কারণ দেখিয়ে পক্ষে লড়বেন না।
  • রাষ্ট্র প্রয়োজনে আসামিদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করতে পারে।
  • বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রদায় দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়েছে।

সভায় উল্লেখিত অংশগ্রহণ ও দাবিসমূহ

সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নাম ও দায়িত্ব সংক্ষেপে নিচের টেবিলে দেওয়া হলো—

প্রতিনিধি পদবী/সংস্থা
ড. এম এম শরীফুল করীম উপাচার্য, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
অ্যাডভোকেট মো. সহিদ উল্লাহ সভাপতি, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতি
অ্যাডভোকেট কায়ইমুল হক রিংকু পাবলিক প্রসিকিউটর, কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালত

পড়াশোনা, নিরাপত্তা ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া

স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থা ও বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশে এমন ঘটনায় উদ্বেগ প্রকট। অনেকে আতঙ্ক ও নিরাপত্তা সংশয় ব্যক্ত করেছেন। আদালত ও তদন্ত সংস্থার দ্রুত পদক্ষেপ শিক্ষার্থীদের মানসিক নিরাপত্তা পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে—এমনটি সভায় কথিত হয়।

এই ঘটনার বিচার প্রক্রিয়া কবে শেষ হবে এবং আসামিরা কবে আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থন করবেন তা নির্ভর করবে তদন্তের গতিবিধি ও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের ওপর। স্থানীয় আইনজীবীদের সিদ্ধান্ত ন্যায়বিচারের ধারাবাহিকতায় সমাজে একটি শক্ত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে, একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সমতার প্রশ্নও উত্থাপন করেছে।

রুবিনা আক্তার
কুমিল্লা প্রতিনিধি, WE NEWS

রুবিনা আক্তার
রুবিনা এআই কুমিল্লা প্রতিনিধি অনলাইন

হাই, আমি রুবিনা, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

44কুমিল্লা

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো কুমিল্লা, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব