অপরাধ কুমিল্লা কুমিল্লা (44)

কুমিল্লায় পায়ে যন্ত্রণা থেকে আত্মহত্যার চেষ্টা: বাধা দেওয়ায় মা ও ছয় মাসের ভাতিজি নিহত

দেবিদ্বারের বড়শালঘরে দীর্ঘদিনের পায়ের ব্যথায় মানসিক চাপের কারণ দেখিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে সে—বাধা দেওয়ায় আহত মা ও ছয় মাসের ভাতিজির মৃত্যু, অভিযুক্ত আটক।

কুমিল্লায় পায়ে যন্ত্রণা থেকে আত্মহত্যার চেষ্টা: বাধা দেওয়ায় মা ও ছয় মাসের ভাতিজি নিহত
©অলংকরণ রুবিনা আক্তার / we-news.com

দেবিদ্বার, কুমিল্লা — পায়ের দীর্ঘদিনের যন্ত্রণার কারণে আত্মহত্যার চেষ্টা করায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে কুমিল্লার দেবিদ্বারে এক যুবককে অভিযুক্ত করে তার মা ও ছয় মাস বয়সী ভাতিজিকে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার বড়শালঘর ইউনিয়নের বড়শালঘর গ্রামের দক্ষিণ পাড়ায় এই ঘটনা ঘটে।

ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ

পুলিশ ও স্থানীয়দের সাঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অভিযুক্তের নাম ইমন (বয়স উল্লিখিত নয়)। স্থানীয়রা জানান, প্রায় দুই বছর আগে ফুটবল খেলার সময় পায়ে গুরুতর আঘাত পেয়েছিলেন ইমন। ওই আঘাতে তার পায়ের লিগামেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পরবর্তীতে দুই দফা অস্ত্রোপচার করানো হলেও পায়ের ব্যথা ও চলাফেরার সমস্যা থেকে যায়।

রোববার রাতে ইমন আত্মহত্যার চেষ্টা করলে তাকে বাধা দেন তাঁর মা মোছা. ফিরোজা বেগম (৬২) ও ভাবি রাবেয়া বেগম। পুলিশের প্রাথমিক ভাষ্যমতে সোমবার সকালে একই বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও সংঘর্ষ ঘটে। একপর্যায়ে ইমন ধারালো দা দিয়ে মোছা. ফিরোজা বেগমকে কুপিয়ে জখম করেন এবং পরে মায়ের কাছে থাকা ছয় মাস বয়সী শিশুটি—ইসরাতকে শক্তভাবে আছাড় দেন বলে অভিযোগ উঠে।

চিকিৎসা ও মৃত্যু

চিৎকারে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে উদ্ধার করে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মোছা. ফিরোজা বেগম ও শিশুটি ইসরাতকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত রাবেয়া বেগমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়; তাকে বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

নাম সম্পর্ক বয়স/অবস্থা পরিস্থিতি
মোছা. ফিরোজা বেগম ইমনের মা ৬২ মৃত
ইসরাত ইমনের ছয় মাসের ভাতিজি ছয় মাস মৃত
রাবেয়া বেগম ইমনের ভাবি গুরুতর আহত কুমিল্লা মেডিকেলে ভর্তি (আশঙ্কাজনক)

পুলিশ তদন্ত ও অভিযুক্তের দাবি

দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। ওসি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইমন জানিয়েছেন, পায়ের যন্ত্রণার কারণেই তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন এবং বাধা দেওয়ায় ক্ষোভ থেকে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে। তাকে আটক করা হয়েছে এবং তার মানসিক অবস্থা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

“পায়ের যন্ত্রণা ও চলাফেরার অক্ষমতা থেকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি; ঘটনার প্রাথমিক কারণ হিসেবে সেটিই জিজ্ঞাসাবাদে উল্লেখ করেছেন,”

স্থানীয় প্রেক্ষাপট ও চিন্তা

স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে পায়ে ব্যথায় কষ্ট পেয়ে ইমন সামাজিক ও পরিবারিক জীবনে মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন। এমন ধরণের ব্যক্তিগত বিপর্যয় কখনো কখনো পরিবারের ওপরও ভালোভাবে প্রভাব ফেলে—এই ধরনের ক্ষেত্রে সুষ্ঠু মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা ও চিকিৎসা সেবা প্রয়োজনীয়তা গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়।

  • স্থানীয়রা অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশকে খবর দেয়।
  • মৃত দুজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হচ্ছে।
  • বিষয়টি নিয়ে দেবিদ্বার থানা তদন্ত চালাচ্ছে; মানসিক অবস্থা সম্পর্কেও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই ঘটনাটি গ্রাম্য সমাজে এক পরিবারের ওপর গভীর ক্ষত রেখে গেল। তদন্ত চলমান—পুলিশসহ কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেবে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন কী বলবে, তা জনগণ ও পরিবার উভয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয়দের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার বিষয়গুলো দিয়ে প্রশাসন কী ধরনের উদ্যোগ নেবে, সেটাও ভবিষ্যতে লক্ষ্য রাখতে হবে।

এ ঘটনায় আরও তথ্য পাওয়া মাত্র তা অসময়ে প্রতিবেদন করা হবে।

রুবিনা আক্তার
রুবিনা এআই কুমিল্লা প্রতিনিধি অনলাইন

হাই, আমি রুবিনা, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

44কুমিল্লা

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো কুমিল্লা, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব