গ্রেপ্তার ও পুলিশের দাবি
কুমিল্লার পুলিশ নাঙ্গলকোট ও মনোহরগঞ্জে পাহাড়ে ওঠা দুই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে শ্রেণিক্রমে আরেক অভিযুক্তকে ধরে ধরো করেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি হলেন আব্দুল ওয়াদুদ ওরফে মানিক, যাকে স্থানীয়রা ‘সিরিয়াল কিলার’ হিসেবে চিনতে পারে।
ঘটনার সারসংক্ষেপ
পুলিশ বলছে, হত্যাগুলোতে মোট লক্ষ্য ছিল অটোরিকশা ছিনতাই করা। অভিযোগ আছে যে চালকদের টার্গেট করে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে পরিকল্পনা অনুযায়ী আঘাত করা হয়েছে এবং পরে অটোরিকশা পুলিশের নজর এড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। তদন্তে আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।
প্রাথমিক খোঁজখবর ও উদ্ধার
নাঙ্গলকোটে গত ১২ আগস্ট আটিয়াবাড়ি এলাকার কাছ থেকে একটি অর্ধগলিত মরদেহ পাওয়া যায়; পরে শনাক্ত করা হলে জানা যায় ওই ব্যক্তি ছিলেন ১৮ বছর বয়সী মো. মেহেদী, যিনি পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন। একইভাবে ২৪ আগস্ট থেকে একজন অটোরিকশাচালক নিখোঁজ ছিলেন—পরে তার ব্যবহৃত যানবাহন কাটা অবস্থায় পাওয়া যায়।
জিজ্ঞাসাবাদ ও স্বীকারোক্তি
পুলিশ জানিয়েছে, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ও দলের সদস্যদের গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছেন মেহেদীকে হত্যার পর তার অটোরিকশা ছিনতাই করা হয়েছিল। এক পর্যায়ে মানিক নিজেও আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে পুলিশ দাবি করেছে।
আরমান হত্যা ও উদ্ধার
পুলিশি তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ আগস্ট নাঙ্গলকোটে অটোরিকশাচালক মো. আরমান হোসেন (১৫) নিখোঁজ হন। তদন্তে মোবাইল ফোনের তথ্য ও অভিযান চালিয়ে একটি কাটা অটোরিকশা পাওয়া যায়। তার পরে অপর কয়েকজন—জবায়ের হোসেন সুজন, নূর আলম ও মো. গিয়াস উদ্দিন—গ্রেপ্তার হন। এক পর্যায়ে মানিকের দেওয়া তথ্য অনুসরণ করে মনোহরগঞ্জ উপজেলার বিনয়ঘর এলাকার একটি পুকুর থেকে আরমানের লাশ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের বক্তব্য
কুমিল্লা জেলা পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা দাবি করেছেন যে দুই হত্যাকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য ছিল অটোরিকশা ছিনতাই; অভিযুক্তরা অটোরিকশাচালকদের টার্গেট করতেন এবং হত্যা করে যানবাহন নিয়ে যেতেন। তিনি আরও জানালেন তদন্ত এখনও চলমান এবং সংশ্লিষ্ট মামলায় আরও মামলা ও চার্জশীট দিতে পারে পুলিশ।
অভিযোগের প্রসঙ্গ ও বিচারাধিকার
পুলিশি বর্ণনায় উঠে এসেছে, অভিযুক্ত মানিকের বিরুদ্ধে আরও একটি ঘটনার অভিযোগ আছে—এটি ঘটেছিল ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর এবং অভিযোগ অনুযায়ী একটি কিশোরকে শ্বাসরোধে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাই করা হয়েছে। ওই হত্যার মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা বিষয়ক উদ্বেগ
গ্রেপ্তারীকৃত ঘটনায় স্থানীয় অটোরিকশাচালক ও তাদের পরিবারের মধ্যে ভীতি বিরাজ করছে। শহর ও উপজেলায় রাতে একাকী চলাচল কমেছে বলে একাধিক চালক জানিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আশ্বস্ত করেছেন যে অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ, আইনি প্রক্রিয়া ও তদন্ত সম্পন্ন করে দ্রুত বিচারের উদ্দীপনা নিশ্চিত করা হবে।
জরুরি সতর্কতা ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
স্থানীয় পুলিশ ও দপ্তরগুলো ইতোমধ্যে অটোরিকশা চালকদের জন্য কিছু সাধারণ নিরাপত্তা পরামর্শ দিয়েছে:
- রাতে একা ভ্রমণ কমানো এবং পরিচিত রুটে চলা;
- যদি সম্ভব হয়, যাত্রীদের শনাক্তকরণ এবং সন্দেহভাজন ক্ষেত্রে দ্রুত থানায় জানানো;
- অন্য চালক বা গৃহস্থদের সাথে যোগাযোগের ব্যবস্থা রাখা।
ঘটনার সময়রেখা
| তারিখ | ঘটনার সারমর্ম |
|---|---|
| ১২ আগস্ট | নাঙ্গলকোট, আটিয়াবাড়ি থেকে অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার (মরদেহ পরে মো. মেহেদী শনাক্ত) |
| ২৪ আগস্ট | নিখোঁজ অটোরিকশাচালক; তার ব্যবহৃত অটোরিকশা কাটা অবস্থায় পাওয়া যায় |
| ১৫ সেপ্টেম্বর | পুলিশ সংবাদ সম্মেলনে গ্রেপ্তার ও ঘটনার বিবরণ প্রকাশ |
তদন্ত এখনও চলমান। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশি সূত্র থেকে জানা যাবে আর কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং মামলার আনুষ্ঠানিক আবেদনের প্রক্রিয়া কীভাবে এগোচ্ছে—এই সংবাদে তা নিয়মিতভাবে আপডেট করা হবে।
রুবিনা আক্তার
কুমিল্লা প্রতিনিধি, WE NEWS