নারায়াণগঞ্জে প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটার স্থাপন বন্ধ ও অতিরিক্ত বিল প্রত্যাহার করার দাবিতে মঙ্গলবার দুপুরে সমাবেশ ও গণমিছিল করেছে নারায়াণগঞ্জ নাগরিক অধিকার ফোরাম। চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত সমাবেশ থেকে মিছিল বের হয়ে কালীবাজার প্রদক্ষিণ করে নারায়াণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে শেষ হয়।
নাগরিক অভিযোগ ও সংগঠনের দাবি
সমাবেশে অংশ নেওয়া নেতারা বলেন, গ্রাহকদের অবহিত করা কিংবা সম্মতি না নিয়েই অনেক বাসায় পুরোনো মিটার খুলে প্রিপেইড মিটার বসানো হচ্ছে। তারা অভিযোগ করেছেন যে, বিদ্যুৎ বিলের বর্তমান স্ল্যাব বিন্যাস ও প্রিপেইড মিটারের প্রক্রিয়ায় গ্রাহকদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে।
নাগরিক অধিকার ফোরামের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান ইসমাইল বলেন, সরকারি অনুমোদিত দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি কয়েক ধরনের স্ল্যাব প্রয়োগের ফলে অনেক গ্রাহকের বিল বাস্তবে বেশি বেড়ে যাচ্ছে। তাদের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে মাসিক ১ হাজার টাকার বিল বেড়ে ৩-৪ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে।
“প্রয়োজনে মামলা-হামলা কিংবা জেলে যাব, তবুও নারায়াণগঞ্জে আর প্রিপেইড মিটার লাগাতে দেব না,”
এই মন্তব্যটি সমাবেশে মাহবুবুর রহমান ইসমাইলের বক্তব্যের একটি অংশ হিসেবে বলা হয়েছে।
প্রিপেইড মিটারের অভিযোগ: সার্ভিস চার্জ ও ভ্যাট
ফোরামের প্রধান উপদেষ্টা ও নারায়াণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেন, প্রিপেইড মিটার ব্যবস্থায় রিচার্জের সময় বিভিন্ন ধরনের সার্ভিস চার্জ ও ভ্যাট কেটে নেয়া হচ্ছে, যা গ্রাহকের প্রকৃত বিদ্যুৎ ব্যবহারের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করছে। সমাবেশে আরও বলা হয় যে, বিদ্যুতের নতুন বিল কাঠামো কারিগরি ব্যাখ্যার অভাবে সাধারণ গ্রাহক বুঝতে পারছেন না কিভাবে তাদের বিল নির্ধারণ করা হচ্ছে।
অভিযোগকারী নেতারা মনে করেন যে, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য এই অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা গুরুতর সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলছে।
স্থানীয় কর্মপরিকল্পনা ও সম্ভাব্য কর্মবিরতি
নাগরিক অধিকার ফোরাম জানান, তারা চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে পরবর্তী কয়েকদিনে জেলার বিভিন্ন ওয়ার্ডে গণসংযোগ ও গণকমিটি গঠন করবে। পরিকল্পনায় উল্লেখযোগ্য তারিখগুলো:
- ১২-২৪ আগস্ট: জেলা বাসীলে বিভিন্ন ওয়ার্ডে গণসংযোগ ও গণকমিটি গঠন
- ২৫ আগস্ট: নারায়াণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে গণঅনশন
- ১ সেপ্টেম্বর: ঢাকায় বিদ্যুত ভবনের সামনে অবস্থান
| তারিখ | কার্যক্রম |
|---|---|
| ১২-২৪ আগস্ট | ওয়ার্ডভিত্তিক গণসংযোগ ও গণকমিটি গঠন |
| ২৫ আগস্ট | প্রেসক্লাবের সামনে গণঅনশন |
| ১ সেপ্টেম্বর | ঢাকায় বিদ্যুত ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি |
আয়োজকরা সতর্ক করে বলেছেন যে, তাদের দাবি পূরণ না হলে জেলা স্তরে কঠোর কর্মসূচি যেমন হরতাল ঘোষণা করা হতে পারে। সমাবেশে বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন; উপস্থিতদের মধ্যে ছিলেন হাজী রুহুল আমীন, সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ এবং ভবানি শঙ্কর রায়।
লোকাল প্রভাব ও প্রশ্ন
প্রতিবাদটি নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলছে—বিল কাঠামো, মিটার প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া ও অভিযোগ আদায়ে স্বচ্ছতা না থাকলে স্থানীয় ব্যবসা ও গৃহস্থালী ব্যয় বাড়তে পারে। স্থানীয় পর্যায়ের চাপ বাড়লে রূপান্তরিত হতে পারে প্রশাসনিক পদক্ষেপ অথবা বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির কার্যপ্রণালী পরিবর্তন।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে—উপযুক্ত তদন্ত বা সমঝোতা ছাড়া কি কোনও প্রতিষ্ঠান একপক্ষীয়ভাবে মিটার বদলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে? স্থানীয় গ্রাহকদের কোনও নির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তারা কোন পথে তা ন্যায়বিচার প্রাপ্তি করতে পারেন—এই খাতে কোন সরবরাহকারী কর্তৃপক্ষ প্রতিক্রিয়া দেবে কি না, তা সময় বলে দেবে।
নারায়াণগঞ্জ নাগরিক অধিকার ফোরামের এই কর্মসূচি এবং তাদের ঘোষিত সময়সূচি স্থানীয় প্রশাসন ও বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থার প্রতিক্রিয়া কি হবে, তা সামনের দিনগুলোতে নির্ধারণ করবে।