হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ পৌর এলাকার গয়াহরি শ্মশানঘাট থেকে ৭০ বছর বয়সী ভীম লাল দাশের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, বুধবার সকালে স্থানীয়রা মাঠে মরদেহ দেখে নবীগঞ্জ থানায় খবর দিলে তদন্ত কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেহটি উদ্ধার করেন এবং ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পরিস্থিতি ও পরিবারে অনিশ্চয়তা
পুলিশ ও পরিবারের বক্তব্য থেকে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে বাজারে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন ভীম লাল দাশ। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের তরফে সক্রিয় খোঁজাখুঁজি করা হলেও কোনো সঠিক তথ্য লাভ হয়নি। পরে বুধবার সকাল নাগাদ গয়াহরি গ্রামের এক কৃষক জমিতে কাজ করতে গেলে জমির পাশের শ্মশানঘাটে দেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের খবর দেয়।
নিহত ব্যক্তির সংসার এবং পারিবারিক পরিচয় অনুযায়ী তিনি নবীগঞ্জ উপজেলা করগাঁও ইউনিয়নের বুরুঙ্গা পাঠলী গ্রামের মৃত মনোরঞ্জন দাশের ছেলে। পরিবারের কেউ সংবাদির সঙ্গে কথা বলেছেন বলে থানায় তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি; পুলিশ পরিবারকে ঘটনাস্থল ও তদন্ত সম্পর্কে তথ্য প্রদান করেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
পুলিশের প্রাথমিক অবস্থান
নবীগঞ্জ থানা তদন্ত শাখার পরিদর্শক দুলাল মিঞা নেতৃত্বে এক পুলিশ দলের ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, মরদেহে বাহ্যিকভাবে আঘাতের কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। নিহত ব্যক্তি আগে থেকেই শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন—এ তথ্যও পুলিশি সূত্রে পাওয়া গেছে।
প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে যে রাতের কোনো সময় বাড়ি ফেরার পথে শ্মশানঘাট এলাকায় হৃদরোগ বা অন্যান্য স্বাভাবিক কারণেই তার মৃত্যু হতে পারে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করার জন্য ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনকে নির্ণায়ক রূপে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের ফল না পাওয়া পর্যন্ত তদন্তকারীরা অবশ্যই সকল সম্ভাব্য দিক বিবেচনায় রাখবেন, উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার সময়রেখা
| সময় | ঘটনা |
|---|---|
| মঙ্গলবার বিকেল | ভীম লাল দাশ বাড়ি থেকে বাজারে যাওয়ার কথা বলে বের হন; এরপর নিখোঁজ |
| বুধবার সকাল প্রায় ৮টা | গয়াহরি গ্রামের এক কৃষক শ্মশানঘাটে দেহ দেখতে পেয়ে নবীগঞ্জ থানাকে খবর দেন |
| সকাল | পরিদর্শক দুলাল মিঞার নেতৃত্বে পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয় |
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী করণীয়
স্থানীয় মানুষ এবং নিহতের আত্মীয়-স্বজন দেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে সমবেদনা জানিয়েছেন। সামাজিকভাবে একাকিত্ব এবং বাড়তি শারীরিক অসুস্থতা যাদের বেশি আছে, তাদের প্রতি সতর্ক থাকার আহ্বান স্থানীয়রা জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা ময়নাতদন্তের ফল দ্রুত জানতে চাইছে, কারণ সেটিই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বোঝাতে সক্ষম হবে—স্বাভাবিক মৃত্যু না অপরাধমূলক ঘটনার শিকার কি না তা নিরূপণের জন্য ময়নাতদন্ত জরুরি।
- পুলিশ বলছে—প্রাথমিকভাবে বাহ্যিক আঘাতের চিহ্ন নেই।
- দেহ ময়নাতদন্তের অপেক্ষায় জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা আছে।
- নিহত ব্যক্তি আগেই শারীরিক অসুস্থতার শিকার ছিলেন—পুলিশ তথ্যটি নিশ্চিত করেছে।
অফিসিয়ালভাবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর তদন্তের পরিধি নির্ধারিত হবে। যদি প্রতিবেদন স্বাভাবিক প্রয়োগমতে মৃত্যুর কারণ হিসেবে হৃদরোগ বা অন্য কোনো চিকিৎসাজনিত কারণ শনাক্ত করে, তাহলে পুলিশ অনায়াসে হত্যাকাণ্ডের দিকটি বাদ দিতে পারবে; অন্যদিকে যদি অস্বাভাবিক কোনো আঘাত বা বিষক্রিয়ার চিহ্ন দেখা যায়, তবে তদন্ত নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করবে।
স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা
এ ধরনের ঘটনার পরে স্থানীয় প্রশাসন ও থানা সাধারণত ঘটনাস্থল সুসংহত রাখে এবং সম্ভাব্য সিসি ক্যামেরা ফুটেজ, আশপাশের সাক্ষীদের বয়ান সংগ্রহ করে। নবীগঞ্জ থানা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ময়নাতদন্তের ফল মিললে তা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন।
অবশেষে, পরিবার ও এলাকাবাসী দ্রুত সত্য উদঘাটন ও মরহুমের মর্যাদাসহ শেষকৃত্যের ব্যবস্থা সম্পন্ন করতে চান। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই শেষ কথাটি বলা যাবে—মৃত্যু স্বাভাবিক কি না, নাকি অপরাধ অনুসন্ধান প্রয়োজন।