ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় অবস্থিত গোরকপুর শহরুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা থেকে ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ৩৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৭ জন পাস করেছেন। এতে প্রতিষ্ঠানটির পাস হার দাঁড়িয়েছে কেবল ১৮.৪২%, আর অকৃতকার্য হয়েছেন ৩১ জন।
ফলাফলের পরিসংখ্যান ও গতকালের তুলনা
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পাস করা সাতজনের মধ্যে কেউই জিপিএ-৫ পাননি। ফলাফলগুলোর মধ্যে দুটি জিপিএ-৩, চারটি জিপিএ-২ এবং একটি জিপিএ-১ রয়েছে। মাদ্রাসাটিতে বর্তমানে মোট ১৩ জন শিক্ষক কর্মরত আছে—শিক্ষকসংখ্যা বিবেচনায় এমন ভয়াবহ ফলাফল স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও প্রশ্ন বাড়িয়েছে।
| সাল | পরীক্ষার্থীর সংখ্যা | পাস সংখ্যা | পাসের হার |
|---|---|---|---|
| ২০২৬ | ৩৮ | ৭ | ১৮.৪২% |
| ২০২৫ | ১৬ | ৬ | ৩৭.৫০% |
| ২০২৪ | ২৮ | ২১ | ৭৫% |
| ২০২৩ | ২২ | ১৫ | ৬৮.১৮% |
| ২০২২ | ১৭ | ১৩ | ৭৬.৪৭% |
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ
স্থানীয় শিক্ষানুরাগী, অভিভাবক ও সচেতন মহল মাদ্রাসার ফলাফলে থাকা ওঠানামা এবং বিশেষ করে ২০২৬ সালের এই মারাত্মক পতন নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাদের অভিযোগ, কিছু বছর ধরেই মাদ্রাসাটির ফলাফলে ওঠানামা থাকলেও শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর ও দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না। অনেকে মনে করেন, এত সংখ্যক পরীক্ষার্থীর অকৃতকার্যের পেছনে নিয়মিত পাঠদান ও দুর্বলদের জন্য বিশেষ সহায়তার অভাব রয়েছে।
- স্থানীয়রা বলেন—নিয়মিত ক্লাস ও পাঠদানের নিশ্চয়তা দরকার।
- দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ টিউশন বা সমন্বিত সহায়তা চালু করতে হবে, এমনটাই উল্লেখ করেছেন সচেতনরা।
- মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ফলাফলের কারণ খুঁজে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে তারা দাবি করেন।
প্রশাসন এবং মাদ্রাসার প্রতিক্রিয়া
এই বিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট মাওলানা আইন উদ্দিন বলেন:
“এ বছর আমাদের ফলাফল খারাপ হয়েছে।”
তবে তিনি ফলাফল বিপর্যয়ের বিস্তারিত কারণ বা গ্রহণযোগ্য সমাধান সম্পর্কে সংবাদকর্তাকে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।
বিশ্লেষণ: কেন উদ্বেগজনক?
গত পাঁচ বছরের ফলাফল দেখলে মাদ্রাসার পারফরম্যান্সে বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা যায়—কিছু বছরে ৭৫ শতাংশের উপরে পাসের হার ছিল, আবার ২০২৫ সালে তা ৩৭.৫০ শতাংশে নেমে এসেছে। ২০২৬ সালে ১৮.৪২ শতাংশে লাফিয়ে নামা স্থানীয়দের মধ্যে শিক্ষা ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা ও মান নিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। বিশেষত মাদ্রাসায় জনবহুল শিক্ষার্থী থাকলে শিক্ষাদানের ধারাবাহিকতা ও মান নিশ্চিত করা জরুরি—বিনা বেতনে বা কম উৎসাহে পাঠদান থাকলে দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষার ফলাফল নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হয়।
কী করা উচিত: স্থানীয় পরামর্শগুলো
সরাসরি সমস্যা নিরসনে স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও অভিভাবকদের প্রস্তাবগুলোতে প্রধানত দেখা গেছে—
- নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা ও তদারকির ব্যবস্থা বাড়ানো।
- দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়তা বা অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা করা।
- শিক্ষক-অভিভাবক সমন্বয় বৃদ্ধি ও মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
এ সম্পর্কে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ, উপজেলা শিক্ষা বিভাগ বা মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদ কী ব্যবস্থা নেবে—তার দ্রুত প্রতিক্রিয়া না হলে স্থানীয়দের উদ্বেগ বাড়লেও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া নাও হতে পারে।
ময়মনসিংহ জেলার শিক্ষা পরিস্থিতি ও মাদ্রাসা কার্যক্রমের ধারাবাহিক মান নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক কোনো নীতিনির্ধারক নীরব থাকলে বা পর্যবেক্ষণের অভাব থাকলে এ ধরনের ফলাফলের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে—এটি স্থানীয় পর্যায়ে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করার দাবি তুলছেন সচেতন মহল।