ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইবার এসএসসি পরীক্ষায় পাশের হার ৫৭.৩৯ শতাংশ হয়েছে। সোমবার বোর্ডের একটি সংবাদব্রিফিংয়ে এই ফল প্রকাশ করা হয়; সেখানে বোর্ড সচিব প্রফেসর মো. এনামুল হক এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. শাহাদাত মোল্লা উপস্থিত ছিলেন। এবারের ফল আগের বছরের তুলনায় সামান্য নেমে এসেছে — গতবার ছিল ৫৮.২২ শতাংশ।
বিভাগভিত্তিক ফল ও জেলায় পার্থক্য
বোর্ড সূত্রে জানানো হয়, বিভাগের ভিত্তিতে পাশের হার ভিন্ন রকম দেখা গেছে। বিজ্ঞান বিভাগে পাশের হার ৭১.৮৭%, যেখানে মানবিক বিভাগে ৪৬.১২% এবং ব্যবসা শিক্ষা বিভাগে ৪৮.৯১%। বোর্ড কর্মকর্তা জানান, বিশেষ করে গণিত ও ইংরেজি প্রশ্নপত্র এই বছর কঠিন হওয়ায় সামগ্রিকভাবে পাশের হার কমেছে।
জেলার ভিত্তিতে ময়মনসিংহ বোর্ডের অধীন ভিন্নতা থাকায় নেত্রকোনার পাশের হার অনেক নীচে—৩০.৪৯%, ময়মনসিংহ জেলার পাশের হার ৫৭.৮০%, জামালপুরে ৫৫.৬০% এবং শেরপুরে ৫৫.৪১%।
ভাগ বন্টন ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তি
এবার মোট ১৮৮টি কেন্দ্র এবং ১ হাজার ৩৪৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ১ লাখ ৫ হাজার ২৮ জন পরীক্ষার্থীরা অংশ নেয়। পরীক্ষার্থী থেকে পাশ করেছে ৬০ হাজার ২৭৪ জন। ভিন্নতর এক দিক হলো ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা এবারও ভালো করেছে—পাশ করা ছেলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৮ হাজার ৩৭২ ও মেয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩১ হাজার ৯০২।
জিপিএ-৫ পেয়েছে মোট ৫ হাজার ৭০০ জন শিক্ষার্থী; এর মধ্যে ছেলেদের সংখ্যা ২ হাজার ৬২১ এবং মেয়েদের সংখ্যা ৩ হাজার ৭৯। এই হিসেবে পাশ ও উচ্চ গ্রেড উভয় সূচকেই মেয়েরা অগ্রণী।
- সংশ্লিষ্ট বোর্ড কর্মকর্তারা বলছেন—গণিত ও ইংরেজির প্রশ্নপত্র কঠিন হওয়ায় পাশের হার কমের একটি কারণ।
- অঞ্চলভিত্তিক বিশ্লেষণে নেত্রকোনা জেলার ফল সবচেয়ে কম।
- মোট ১০টি প্রতিষ্ঠান শতভাগ পাস করেছে, আর ৪টি প্রতিষ্ঠান অকৃতকার্য হয়েছে।
“এ বছরের ফলাফল বোর্ড পর্যায়ে বিভিন্ন অসামঞ্জস্য ও চ্যালেঞ্জ তুলে দিয়েছে; কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেমন উজ্জ্বল সাফল্য, তেমনি কিছু প্রতিষ্ঠানে উদ্বেগের বিষয়ও রয়েছে,”
সংবাদব্রিফিংয়ে পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের কঠিনতা এবং জেলায় পারফরম্যান্সের বৈষম্য সম্পর্কে বোর্ড কর্মকর্তারা অভিমত প্রকাশ করেন। তবে উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. সিরাজুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা অতিরিক্ত বিশ্লেষণ এবং সুপারিশের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
শতভাগ পাশ করা ও অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানসমূহ
বোর্ড ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী নিম্নলিখিত প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেক শিক্ষার্থী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে:
| শতভাগ পাশ অর্জনকারী ১০ প্রতিষ্ঠান |
|---|
| বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (ময়মনসিংহ নগরী) |
| ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ |
| ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ |
| ময়মনসিংহ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল |
| আইডিয়াল মডেল একাডেমি |
| ভালুকজান মডার্ন গার্লস একাডেমি (ফুলবাড়ীয়া) |
| নলুয়াকুড়ি কুমারী মারিয়া হাইস্কুল (ভালুকা) |
| উত্তর গোয়ালের চর আইডিয়াল হাই স্কুল (জামালপুর) |
| চিলড্রেনস হোম পাবলিক স্কুল (সরিষাবাড়ী) |
| শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠ (কেন্দুয়া, নেত্রকোনা) |
অন্যদিকে চারটি প্রতিষ্ঠান পুরোপুরি অকৃতকার্য (কোনো পরীক্ষার্থী পাস করেনি) হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে। সেগুলো হলো—চাপারকোনা মনিজা আবুল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (সরিষাবাড়ী, জামালপুর), কদমতলী কারিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় (ইসলামপুর, জামালপুর), মুক্তাগাছা কলেজ (মুক্তাগাছা, ময়মনসিংহ) এবং শহীদ স্মৃতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (ফুলবাড়ীয়া)।
এই ফল প্রকাশের পর শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, ফলের বিশ্লেষণ করে দুর্বল জেলা ও প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ সহায়তামূলক ও বাস্তবিক কর্মসূচি গ্রহণ করা উচিত। বোর্ডের কর্মকর্তারা ভবিষ্যতে শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, পাঠ্যক্রম সমন্বয় ও প্রশ্নপত্র প্রস্তুতির কৌশলে পরিবর্তন প্রয়োজন বলে মত দেন।
এই ফল ময়মনসিংহ অঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থা ও নীতি নির্ধারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা বহন করে — নানা জেলায় শিক্ষার মান ও প্রস্তুতির মধ্যে বৈষম্য রোধ না দিলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে জটিলতা দেখা দেবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।