খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলায় জেলা পুলিশের নয়—বরং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মহালছড়ি জোনের উদ্যোগে কৃতী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা ও সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে মহালছড়ি শিশু মঞ্চ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ, আর্থিক অনুদান ও স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত সচেতনতামূলক সেশন পরিচালিত হয়।
অনুষ্ঠানে মহালছড়ি উপজেলার একমাত্র জিপিএ-৫ অর্জনকারী শিক্ষার্থী টুম্পা চাকমাকে বিশেষভাবে সম্মাননা দেয়া হয়। তার উচ্চশিক্ষার সহায়তার উদ্দেশ্যে এইচএসসি পর্যন্ত প্রয়োজনীয় বই ও পড়াশোনার জন্য ১০,০০০ টাকা প্রদান করা হয়। উক্ত অনুদান টুম্পা ও তার পরিবারকে উৎসাহিত করেছে বলে আয়োজক ও পরিবার পক্ষ উভয়েই আশাব্যক্ত করেন।
কী ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়
অনুষ্ঠানে মহালছড়ি জোনের আওতাধীন বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কৃতী ও ভালো ফলাফলকারী মোট দশজন শিক্ষার্থী ও শিশু মঞ্চ উচ্চ বিদ্যালয়ের বৃত্তি প্রাপ্ত ছয়জন শিক্ষার্থীকে সম্মাননা ও শিক্ষা সামগ্রী প্রদান করা হয়। পরে সকল নির্বাচিত শিক্ষার্থীর মধ্যে বই, কাগজপত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
- বিশেষ সম্মাননা: ১ জন (টুম্পা চাকমা — জিপিএ-৫)
- অন্যান্য কৃতী শিক্ষার্থী: ১০ জন
- বৃত্তি প্রাপ্ত: ৬ জন (মহালছড়ি শিশু মঞ্চ উচ্চ বিদ্যালয়)
- অর্থ সহায়তা: ১০,০০০ টাকা (টুম্পা চাকমাকে)
- স্বাস্থ্য সেশনে অংশগ্রহণকারী ছাত্রী: প্রায় ৭০ জন (৯ম-১০ম শ্রেণীর)
| বিষয় | সংখ্যা/বিবরণ |
|---|---|
| জিপিএ-৫ প্রাপ্ত | ১ (টুম্পা চাকমা) |
| কৃতী শিক্ষার্থী (অন্যান্য) | ১০ |
| বৃত্তি প্রাপ্ত | ৬ |
| অর্থ সহায়তা | ১০,০০০ টাকা |
| স্বাস্থ্য সেশনে অংশগ্রহণকারী ছাত্রী | প্রায় ৭০ |
শিক্ষা-স্বাস্থ্য দুই দিকে জোর
সংবর্ধনা ও সামগ্রিক অনুষ্ঠানের পরে মহালছড়ি শিশু মঞ্চ উচ্চ বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ৯ম ও ১০ম শ্রেণির প্রায় ৭০ জন ছাত্রীকে নিয়ে একটি বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা ও সচেতনতা সেশন আয়োজন করা হয়। সেশনটি পরিচালনা করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিস এবং মহালছড়ি জোন। সেশনে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিচ্ছন্নতা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সচেতনতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়—বিশেষত কিশোরী স্বাস্থ্য ও টিকাদান, পরিচ্ছন্নতা ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে জোর দেওয়া হয়।
সেনা কর্মকর্তার বার্তা
“কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাদকদ্রব্য ও মোবাইল আসক্তি থেকে দূরে থাকতে হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি নৈতিকতা ও শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে। শিক্ষার্থীদের নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার পাশাপাশি দেশ ও সমাজের কল্যাণে ভূমিকা রাখার জন্য প্রস্তুত হতে হবে।”
এই বক্তব্যটি অনুষ্ঠানে মহালছড়ি জোনের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আল-জাবির আসিফকে বরাত করা হয়। তার অনুপ্রেরণামূলক কথাগুলো শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মধ্যে পুনরায় দায়িত্ববোধ জাগানোর কাজে সহায়তা করেছে বলে উপস্থিতরা মনে করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. এরফানুল হক চৌধুরীসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক ও সাংবাদিকরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
স্থানীয় প্রেক্ষাপট ও প্রত্যাশা
আয়োজনকারী ও উপস্থিতরা জানান, দুর্গম ও প্রান্তিক পাহাড়ি এলাকার শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো ও তাদের পড়াশোনায় উৎসাহ যোগানো অত্যন্ত জরুরি। তারা আশা করেন এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতে শিক্ষার প্রসার ও শিক্ষার্থীদের মানবিক বিকাশে সহায়ক হবে এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের অঞ্চলে সমৃদ্ধি ও সম্প্রীতি বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।
স্থানীয় স্কুলগুলো বলছেন, নিয়মিত সহায়তা ও মানসম্পন্ন শিক্ষা সামগ্রী প্রদান করলে প্রতিভাবান ছাত্র-ছাত্রীরা উচ্চশিক্ষায় আরও ভালোভাবে এগিয়ে যেতে পারবে। সেনাবাহিনীর এই ধরনের সহায়তা তাদের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়ায় বলে অভিভাবকরা মন্তব্য করেছেন।