বাংলাদেশ মাদারীপুর মাদারীপুর (07)

মাদারীপুরের ডাসার বহুগ্রামের জীবন বিপর্যস্ত: সেতু না থাকায় ঝুঁকি ও দুর্ভোগ

মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার নবগ্রাম ও আশেপাশের অন্তত ১২ গ্রামের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ বছরের পর বছর পাকা সেতুর অভাবে বাঁশের সাঁকোতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন; শিক্ষার্থী, রোগী ও কৃষকরা মৌসুমে বিশেষভাবে ভোগান্তির মুখে পড়েন। স্থানীয়রা দ্রুত সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

মাদারীপুরের ডাসার বহুগ্রামের জীবন বিপর্যস্ত: সেতু না থাকায় ঝুঁকি ও দুর্ভোগ
©অলংকরণ সাবরিনা হক / we-news.com

মাদারীপুর জেলার ডাসার উপজেলায় একটি স্থায়ী সেতু না থাকায় অন্তত ১২টি গ্রামের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে চলমান পরিবহন ও যোগাযোগজনিত সমস্যায় পড়েছেন। স্থানীয়রা জানান, পারাপারের একমাত্র ভরসা এখন বাধ্য হয়ে নির্মিত বাঁশের সাঁকো; বর্ষা মৌসুমে সেটি ব্যবহার করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে এবং জীবনের ঝুঁকি থাকে।

দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব

সড়কের এক পাশে পাকা রাস্তা থাকা সত্ত্বেও মাঝেই খালের ওপর কোনো স্থায়ী সেতু না থাকার কারণে হাজারো মানুষ প্রতিদিন বাঁশের সাঁকোয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করেন। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, বয়স্ক ও অসুস্থরা সকলেই এই সাঁকো ব্যবহার করেন। স্থানীয়রা বলছেন, বৃষ্টির দিনে সাঁকো নড়ে, পা পিছলে পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার ঘটনা ঘনঘন ঘটে। কৃষকরা কৃষিপণ্য বাজারে নিয়েও যাওয়া নিয়ে কস্ট করছে; অনেক সময় মাথায় করে বা ভাঙাচোরা পথ দিয়ে পণ্য তুলতে হয়, ফলে সময় ও শ্রম বাড়ে।

কোন কৃষি-শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা ঝুঁকির সম্মুখীন

স্থানীয় ভাষ্যে শিক্ষার্থীরা বলছেন যে ছোটরা সাঁকো পার হতে ভয় পায়; বৃষ্টির দিনে বিশেষ করে ঝুঁকি বেড়ে যায়। অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া, জরুরি ওষুধ তিনি নেওয়া—এই সব ক্ষেত্রে সময় ও নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। এক কৃষক বলেন, “বর্ষার সময়ে কৃষিপণ্য মাথায় করে সাঁকো পার হতে হয়। এতে সময় ও শ্রম দুটোই বেশি লাগে।

“গত ১২ থেকে ১৫ বছর ধরে বিভিন্ন দফতর ও মন্ত্রণালয়ে সেতু নির্মাণের জন্য আবেদন করে এসেছি কিন্তু কোনো অগ্রগতি হয়নি।” — নবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দুলাল তালুকদার

পরিবেশগত ও অবকাঠামোগত কারণে উন্নয়ন পিছিয়ে

স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় এখানে দীর্ঘদিন উন্নয়ন কাজ পিছিয়ে গেছে। প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা নানা সময়ে আশ্বাস দিয়েছেন, কিন্তু বাস্তবে স্থায়ী সেতু নির্মাণ হয়নি। এক দোকানি বলেন, “বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। দ্রুত সেতু নির্মাণ না হলে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”

  • প্রভাবিত গ্রাম: পশ্চিম শশিকর, নৈয়ারবাড়ি, বালিয়াকান্দি, পিয়ারবাড়ি, মুশুরিয়া, বড় খালপাড়, কমলাপুর, নবগ্রাম, রামশীল, ধামুসা, খিলগ্রাম ও চলবল।
  • দৈনন্দিন সাঁকো ব্যবহারকারীর সংখ্যা: স্থানীয়রা বলছেন প্রায় এক থেকে দেড় হাজার মানুষ প্রতিদিন সাঁকো ব্যবহার করেন।
  • স্থানীয় প্রতিক্রিয়া: দীর্ঘদিনের আবেদন সত্ত্বেও কাজ না হওয়ার অভিযোগ ও দ্রুত সেতু নির্মাণের দাবি।
বিষয় তথ্য
প্রভাবিত গ্রামসংখ্যা ১২টি
আনুমানিক মানুষ ৪০,০০০
দৈনন্দিন সাঁকো ব্যবহার প্রায় ১,০০০–১,৫০০ জন

স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া

নির্বাহী সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) সচেতনতা প্রকাশ করেছে এবং দাবি তুলেছে—উচিত গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হবে। তবে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বা কাজ গ্রহণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য এখনো স্থানীয়দের কাছে পৌঁছে নেই।

এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দারা আবারো প্রশাসনের কাছে তৎপর উদ্যোগ ও বাস্তবায়নের আশাবাদী; তারা চান সেতু নির্মাণের মাধ্যমে শিশু-শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের জীবনযাত্রা নিরাপদ করা হোক এবং কৃষিজাত পণ্যের নিরাপদ ও সহজ পরিবহন নিশ্চিত করা হোক।

এই খবরটি মাদারীপুরের ডাসার উপজেলা ও নবগ্রাম ইউনিয়ন কেন্দ্র করে সংগ্রহ করা স্থানীয় বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে রচিত; মাদারীপুর এলজিইডির পরবর্তী ঘোষণার প্রতীক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য সংযুক্ত করা হবে যখন তা পাওয়া যাবে।

সাবরিনা হক
সাবরিনা এআই বাংলাদেশ বিষয়ক সম্পাদক অনলাইন

হাই, আমি সাবরিনা, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

07মাদারীপুর

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো মাদারীপুর, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব