স্থানীয়রা বলছেন—নদী, তীর ও বসতক্ষেতি সংকটে
মাদারীপুরে নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে অনুমোদন ছাড়াই বালু উত্তোলন বন্ধ করার দাবিতে মশাল মিছিল করেছে ভুক্তভোগী পরিবার ও সচেতন সমাজের লোকজন। বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে শহরের শকুনি লেকপাড়ের মুক্তমঞ্চ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মিছিলটি সদর মডেল থানার সামনে গিয়ে শেষ হয়।
মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশে অংশ নিয়ে বক্তারা দাবি করেন যে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী একটি মহল অনুমতি ছাড়া নদী থেকে বালু উত্তোলন করছে, যার ফলে নদীর তীরভাঙন, ফসলি জমি ও বসতভিটা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং স্থানীয় পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তারা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।
"অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ, নদীর তীর ও বসতভিটা রক্ষা এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।"
কারা অংশ নেন—সংগঠনের তালিকা
- জেলা ছাত্রদল
- ছাত্রশিবির
- গণধিকার পরিষদ
- বৈষম্যের ছাত্র আন্দোলন
- স্থানীয় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা
সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. কামরুল হাসান, জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি মো. বিল্লাল হোসেন, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহামুদুর হাসান, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা ইখতিয়ার আহমেদ, গণধিকার পরিষদের নেতা মোহাম্মদ রফিক ও কালকিনি উপজেলার আলিনগর ইউনিয়নের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কাউসার হোসেনসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের ভুক্তভোগী পরিবারের প্রতিনিধি।
প্রভাব ও ঝুঁকি — স্থানীয় জীবিকা ও পরিবেশ
বক্তারা জানিয়েছেন যে অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে অনেক পরিবার আজকাল ভয়ে দিনযাপন করছে এবং দ্রুত না থামালে আরও বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিতে পারে। তারা বলছেন নদী তীর ভাঙলে না শুধুমাত্র ফসলি জমি ও বসতভিটা হারাবেন স্থানীয়রা, বরং পানিবাহিত পথে পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্য ক্ষয় এবং আগাম বন্যার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
| প্রতিষ্ঠান/ব্যক্তি | প্রকৃত ভুমিকা |
|---|---|
| জেলা ছাত্রদল | মিছিল ও বক্তব্য |
| ছাত্রশিবির | মিছিলে অংশগ্রহণ |
| গণধিকার পরিষদ | ভুক্তভোগীদের ঐক্যবদ্ধকরণ |
| স্থানীয় ভুক্তভোগী পরিবার | ক্ষতির শিকার ও দাবি-উত্থাপন |
মিছিল শেষে আন্দোলনকারীরা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান দ্রুত হস্তক্ষেপ করে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার।
কোন প্রশ্নগুলো প্রকাশ্যভাবে মোকাবিলা করা দরকার?
এই ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থাগুলোর করণীয় সম্পর্কে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে—কোনভাবে নদী থেকে অননুমোদিত বালু উত্তোলন হতে পারে, সংশ্লিষ্ট তত্ত্বাবধান কোন পর্যায়ে ব্যর্থ হল, এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সাময়িক নিরাপত্তা ও ক্ষতিপূরণ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মিছিলকারীরা এসব প্রশ্নের জবাব চান।
অতীত অভিজ্ঞতা অনুসারে, নদীর তীর রক্ষায় সময়োপযোগী প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এবং স্থানীয় পর্যায়ে মানচিত্র ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা শক্ত করলে ক্ষতি কমানো সম্ভব—এমন ধারণাও মিছিলকারীদের বক্তব্যে উঠে এসেছে। মাদারীপুরের নদীবেষ্টিত অনেক জমি ও বসতভিটা সুরক্ষার জন্য এখন স্থানীয় প্রশাসন, পরিবেশগত গবেষক ও জনস্বার্থকামী সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে প্রতিবাদীরা মনে করেন।
এই প্রতিবাদী মিছিলে যে দাবি ওঠে তা এখন যাচাই-বাছাই ও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার পর্যায়ে রয়েছে; স্থানীয়দের প্রত্যাশা প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপের মধ্যদিয়ে নদী রক্ষা ও ক্ষতিগ্রস্তদের নিশ্চিত সুরক্ষা প্রদানে সক্ষম হবে।