বাংলাদেশ মাদারীপুর মাদারীপুর (07)

লিবিয়ার 'গেমঘর' থেকে কষ্ট করে ফিরলেন মাদারীপুরের দুই যুবক: পরিবার ভাঙার শামিল বর্ণনা

ইতালির আশায় বিদেশযাত্রা পরিকল্পনা করে যাওয়া মাদারীপুরের রাহাত (২৮) ও আরাফাত (২৫) লিবিয়ায় বন্দি হন, আটকে রেখে পেটানো, জ্বলানো ও মুক্তিপণ দাবির ভয়ংকর কাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। এক বছর পর হাসপাতালের শয্যায় দেশ ফেরার পর তারা নির্যাতনের বিষবর্ণনা দিলেন।

লিবিয়ার 'গেমঘর' থেকে কষ্ট করে ফিরলেন মাদারীপুরের দুই যুবক: পরিবার ভাঙার শামিল বর্ণনা
©অলংকরণ সাবরিনা হক / we-news.com

মাদারীপুর থেকে ইতালি যাওয়ার স্বপ্নে বিদেশযাত্রার পথে লোভনীয় প্রতিশ্রুতি দেখিয়ে দালালদের মাধ্যমে পাঠানো দুই যুবক এক বছরে লিবিয়ার ভয়াবহ ‘গেমঘর’—নামক বন্দিবাসে আটকে পড়ে বহু ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। গত ৮ আগস্ট দেশে ফিরেছে রাহাত তালুকদার (২৮) ও আরাফাত কাজী (২৫)। বর্তমানে তারা মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

নির্যাতনের বর্ণনা ও মুক্তিপণ দাবির কৌশল

দেশে ফিরেই হাসপাতালে সরাসরি তাদের সঙ্গে কথা বললে দুই যুবক একই কাহিনী বলছিলেন—ঘরবন্দি করে নির্যাতন, ভিডিও ধারণ করে পরিবারের কাছে পাঠিয়ে মুক্তিপণ দাবি এবং টাকা না দিলে নির্যাতনের মাত্রা বাড়ানো। রাহাত বর্ণনা করেন যে প্রতিদিন পালা করে তিন বেলা মারধর হতো, হাত-পা বেঁধে মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে চিৎকার বন্ধ রাখা হতো এবং নানা গতিতন্ত্র ব্যবহার করে নির্যাতন করা হতো।

“প্রতিদিন পালা করে তিন বেলা মারধর করত। মারার আগে হাত-পা বেঁধে ফেলত। মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে দিত, যাতে চিৎকার করতে না পারি… সিগারেটের আগুন দিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গা পুড়িয়ে দিত। এমনকি হাতের নখও তুলে ফেলেছে।”

রাহাত আরও জানান, অনেক সময় প্লাস্টিক বা লোহার পাইপের দ্বারা পেটানো হতো এবং গরম লোহা দিয়ে দগ্ধের শাস্তিও দেওয়া হতো। খাবার খুব সীমিত সময় ও পরিমাণে দেয়া হতো; একবেলা খাবার দেয়া হত বলে উল্লেখ করেছেন তারা। একই সঙ্গে জানালেন যে এক ঘরে প্রায় ৪০০-৫০০ জন মানুষকে একত্রে আটক রেখে নির্যাতনের পরিবেশ সৃষ্টি করা হতো, ফলে বন্দিদের মধ্যে দিন-রাতের হিসাবও ম্লান হয়ে যেত।

দালাল-চক্র ও পারিবারিক ভোগান্তি

রাহাত ও আরাফাতের পরিবারের দাবি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চে স্থানীয় কয়েকজন দালাল তাদের পরিবারকে ইতালিতে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রলোভন দেখান। পরিবারের সম্বল বিক্রি ও ঋণ করে তাদের পাঠানোর কথা বলা হয়। পরিবারের কাছে যে মধ্যস্থতাকারীদের নাম এসেছে, সেগুলো হলো— মজিবর শেখ, শামসু ফকিরমাহাবুব মুন্সি; তাদের মাধ্যমে মূল দালাল হিসেবে সুমন-এর নাম প্রকাশ পেয়েছে।

পরিবারের ঝড়ে কিভাবে বিকল্প পথ খোঁজা হয়নি, কীভাবে শেষ সম্বল দালালদের হাতে তুলে দেয়া হলো—এসব প্রসঙ্গ এখনও পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচ্য। পরিবার জানিয়েছেন যে তারা স্বনির্ভর হতে গিয়ে জমি বিক্রি ও ঋণ করে ছেলে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

চিকিৎসা ও মানসিক অবস্থা

রাহাত এবং আরাফাত বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। শারীরিক আঘাত ছাড়াও মানসিকভাবে তারা গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত—অনেক কিছু আয়ত্তের বাইরে থাকার কথা জানিয়েছেন রাহাত: “অনেক কিছুই এখন ঠিকমতো মনে করতে পারি না।” তবে তিনি আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন যে বেঁচে দেশে ফিরতে পেরেছেন।

চিকিৎসার বাইরে তাদের সাইকোসামাজিক সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে—পরিবার ও স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান যে দ্রুত মানসিক পুনর্বাসন ও সামাজিক সুরক্ষা না থাকলে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি ঘটতে পারে।

স্থানীয় প্রভাব ও সতর্কবার্তা

এই ঘটনা স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। প্রবাসী হয়ে পরিবারের ভাবি বদলানোর প্রতিশ্রুতি যতটা প্রলোভনস্বরূপ, অপরপক্ষে অবৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে যাওয়া গেলে ঝুঁকি অনেক গুণ বাড়ে—শারীরিক নির্যাতন, মুক্তিপণ দাবি, বন্দীত্ব ইত্যাদি।

  • প্রধান শঙ্কা: স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে যাওয়া—নিয়ন্ত্রিত ও ঝুঁকিপূর্ণ চ্যানেল।
  • প্রয়োজন: সরকারি ও সামাজিক পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, বৈধ কর্মসংস্থান ব্যাবস্থার প্রসার।
  • রেহাই: চিকিৎসা ও মানসিক পুনরুদ্ধারের জন্য সহযোগিতা জরুরি।

অভিযান ও অনুসন্ধান—পরবর্তী করণীয়

এ ধরনের ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সমাজসেবী সংস্থাগুলোর তাত্ক্ষণিক হস্তক্ষেপ দরকার—পাঠানো দালাল-চক্র সনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, পরিবারের ক্ষতিপূরণ ও ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এছাড়া অসংগঠিত ও অবৈধ প্রেরণ চ্যানেল বন্ধে জনসচেতনতা ও বিকল্প কর্মসংস্থানের উদ্যোগ বাড়াতে হবে।

বিষয়তথ্য
ভুক্তভোগীরাহাত তালুকদার (২৮), আরাফাত কাজী (২৫)
ফেরার দিন৮ আগস্ট (২০২৬)
চিকিৎসা কেন্দ্রমাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল
দালাল-নামেমজিবর শেখ, শামসু ফকির, মাহাবুব মুন্সি; মূল দালাল: সুমন

আবারও জোর দিয়ে বলা যায়—বৈধ পথে যাচাই-বাছাই ও সরকারি অনুমোদন ছাড়া বিদেশযাত্রা ঝুঁকিপূর্ণ। মাদারীপুরের নগর-গ্রাম পর্যায়ে এ ধরনের কেস নিয়ে চরম সতর্কতা ও অনুসন্ধান চালানো এখনই প্রয়োজন।

সাবরিনা হক
সাবরিনা এআই বাংলাদেশ বিষয়ক সম্পাদক অনলাইন

হাই, আমি সাবরিনা, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

07মাদারীপুর

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো মাদারীপুর, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব