প্রশাসন, পুলিশ ও সুশীল সমাজের অংশগ্রহণ
লালমনিরহাট রিপোর্টার: মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদকের প্রলোভন থেকে রক্ষা করতে সোমবার সকালে লালমনিরহাট জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে এক সচেতনতা মূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার আয়োজক ছিল র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১৩, এবং সভাপতিত্ব করেন কোম্পানি কমান্ডার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মুহা:রাশেদুল হক প্রধান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার মোঃ আসাদুজ্জামান, জেলা পরিষদ প্রশাসক একেএম মমিনুল হক ও ১৫ বিজিবি অধিনায়ক লে: কর্নেল মেহেদী ইমাম। সভায় স্থানীয় সুশীল সমাজ, আলোকিত লালমনিরহাট আন্দোলনের সদস্যবৃন্দ, সাংবাদিকরা এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা অংশ নেন।
আলোচ্য বিষয়ে জনসচেতনতা ও প্রত্যক্ষ উদ্যোগ
সভায় মাদক সেবন ও পাচারের ফলে স্থানীয় সমাজে যে সামাজিক ও নৈতিক ক্ষতি হচ্ছে সে বিষয়ে বক্তারা বিশদ আলোচনার মাধ্যমে সচেতনতার গুরুত্ব স্থানীয়ভাবে জোর দিয়ে বলেন। বক্তারা একে শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজ বলে সীমাবদ্ধ করার বিপক্ষে মন্তব্য করেন এবং পরিবার, স্কুল, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও খেলাধুলার মাধ্যমে যুবশক্তিকে জড়িত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলার অর্থে সরঞ্জাম প্রদান অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাস্তব উদ্যোগও নেওয়া হয়।
- আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে কেবল র্যাব-ও চালান নয়, বরং তৎপরতা বাড়ানো হবে—এমন নির্দেশনা এসেছে।
- শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মাদক প্রতিরোধী কার্যক্রম ও ক্যাম্পেইন নিয়মিত করার প্রস্তাব রাখেন অংশগ্রহণকারীরা।
- খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ইতিবাচক কার্যকলাপে অভ্যস্ত করাই অপরিহার্য বলা হয়।
সভায় উপস্থিতদের তালিকা ও ভূমিকা
আলোচনায় যারা বক্তব্য দেন তাদের নাম ও পদভিত্তিক একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা নিম্নে দেওয়া হলো:
| পদবী | নাম |
|---|---|
| জেলা প্রশাসক (প্রধান অতিথি) | মুহা:রাশেদুল হক প্রধান |
| পুলিশ সুপার (বিশেষ অতিথি) | মোঃ আসাদুজ্জামান |
| জেলা পরিষদ প্রশাসক (বিশেষ অতিথি) | একেএম মমিনুল হক |
| ১৫ বিজিবি অধিনায়ক (বিশেষ অতিথি) | লে: কর্নেল মেহেদী ইমাম |
| র্যাব-১৩ কোম্পানি কমান্ডার (সভাপতি) | অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী |
সভায় মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে স্থানীয়ভাবে কার্যকর করার লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা প্রস্তাব করা হয়। বক্তারা বলেন, মাদক সেবনের বিরুদ্ধে দক্ষ সমন্বয় আর অভিভাবকদের পর্যবেক্ষণ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মাদক-বিরোধী শিক্ষা ও অনুশাসনের জোরদারকরণ চাওয়া হয়।
আয়োজকরা জানান যে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলায় আগ্রহী করে তোলার জন্য বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলার উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। এ উদ্যোগকে স্থানীয় পর্যায়ে সম্প্রসারিত করে নিয়মিত টুর্নামেন্ট ও ক্লাব কার্যক্রম চালু করার প্রস্তাবও আলোচনায় উঠে আসে।
অবশেষে উপস্থিতরা এক ঝাঁক পরিকল্পনা গ্রহণে সম্মত হন যাতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক, অভিভাবক এবং নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে মাদকবিরোধী কাজগুলো ত্বরান্বিত করা যায়। তারা দাবি করেন, এ ধরনের সচেতনতামূলক সভা শুধু প্রতিটি বিড়ি বা নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রাস বন্ধ করার আহ্বান না থেকে বাস্তব কর্মসূচি ও নিয়মিত মনিটরিং-এ পরিণত করতে হবে।
রয়েছে প্রশ্নও—কীভাবে তরুণদের বিনোদন ও পেশাগত বিকল্প করে মাদক থেকে দূরে রাখা যাবে। সভার বক্তারা বলছেন, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা বাড়ালে যুবসমাজকে ইতিবাচক পথে রাখা সম্ভব। লালমনিরহাটের স্থানীয় শাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ উদ্যোগকে সামনে রেখে ভবিষ্যতে নিয়মিত কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারে বলেও সভায় ধারণা করা হয়।