লক্ষ্মীপুর জেলায় নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক যৌথ অভিযানে তিনটি হোটেলকে মোট ১০ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযানে খাদ্য প্রস্তুতের অনিয়ম, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রান্না ও পচা‑বাসি খাবার সংরক্ষণ ও বিক্রির প্রমাণ পাওয়া যায়।
অভিযোগ ও জরিমানা
অভিযানটি শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত লক্ষ্মীপুর শহরে পরিচালনা করে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. ওমর ফারুক, যারা প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকদের বিরুদ্ধে অর্থদণ্ড প্রদান করেন। জরিমানা পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো ও মালিকদের নাম এবং জরিমানার পরিমাণ নিচের তালিকায় দেওয়া হলো:
| প্রতিষ্ঠান | মালিক | জরিমানা (টাকা) |
|---|---|---|
| নূরজাহান হোটেল | সাইফুল আলম | ৫,০০,০০০ |
| রাজমহল হোটেল | বিষ্ণু বণিক | ৪,০০,০০০ |
| মোহাম্মদীয়া হোটেল | নাজমা বেগম | ১,২০,০০০ |
অভিযানে উপস্থিত সংস্থা ও কর্মকর্তারা
অভিযানে অংশ নেয় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত এবং এসআরবি (স্পেশাল রেসপন্স ইউনিট) নোয়াখালী ক্যাম্প। উপস্থিত ছিলেন জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সুমধু চক্রবর্তী এবং লক্ষ্মীপুর পৌরসভার নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক আব্দুল্লাহ হিল হাকিম। এসআরবি নোয়াখালী ক্যাম্পের ডিএডি অমলেশ বাইনও অভিযানে ছিলেন।
প্রমাণ ও অভিযোগের ধরন
নির্দেশিত তদারকিতে তিন প্রতিষ্ঠানের রান্নাঘরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি করা হচ্ছিল বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদুপরি, সংশ্লিষ্ট হোটেলগুলোতে পচা ও বাসি খাবার সংরক্ষণ ও বিক্রির তবে-তবে অভিযোগ ছিল। তদন্তকারীরা নথিভুক্ত পর্যবেক্ষণ, খাদ্যদ্রব্য পরিদর্শন ও现场 পরীক্ষার ওপর ভিত্তি করে এসব সিদ্ধান্তে উপনীত হন।
“বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও এসআরবির যৌথ অভিযানে তিনটি প্রতিষ্ঠানেই রান্নাঘরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি, পঁচা ও বাসি খাবার বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেছে।”
অফিস সূত্রে জানানো হয়, নূরজাহান হোটেলে খাবার তৈরির সময় নিষিদ্ধ হিসেবে চিহ্নিত কেওড়াজল ব্যবহারের প্রমাণও পাওয়া গেছে। এটি খাদ্যতথ্য ও স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
স্থানীয় প্রভাব ও পরবর্তী পরিকল্পনা
জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সুমধু চক্রবর্তী জানান, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি সরাসরি নিয়মভঙ্গের প্রতি কঠোর মনোভাব ব্যক্ত করেন এবং হোটেল, রেস্তোরাঁ ও খাবারের দোকানগুলোর কাছে সতর্কতার বার্তা দেন।
- নিয়মিত তদারকি চালিয়ে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই কর্তৃপক্ষের প্রধান উদ্দেশ্য।
- ভোক্তাদেরও সতর্ক থাকার এবং সন্দেহভাজন খাবার পাওয়া গেলে দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানাতে বলা হয়েছে।
- অভিযানগুলোতে অনিয়ম পেলে আইনি ও অর্থনৈতিক উদ্যোগ চালানো হবে—জরিমানা সহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
এ ধরনের অভিযান জনস্বাস্থ্য ও ভোক্তা অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, বিশেষ করে রেস্তোরাঁ ও হোটেলে একাধিক মানুষ প্রতিদিন খাবার গ্রহণ করে। লক্ষ্মীপুর শহরের ভোক্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের তৎপরতা বাড়ানো হলে স্থানীয়দের মধ্যে আস্থার পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী।
এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিকরা আদালতে আপিল করার হার উপস্থিত নন বলে জানানো হয়নি। এছাড়া তদন্তে পাওয়া অন্যান্য দিক সম্পর্কে পরবর্তী প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হবে।