লক্ষ্মীপুরে দেশের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) থেকে চালু হয়েছে হাম-রুবেলার বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন। জেলা স্বাস্থ্য প্রশাসন জানিয়েছে, এই কর্মসূচি চলবে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত এবং টিকাদানের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৭৭,৭৬০ শিশু—যাদের বয়স সীমা নির্ধারিত রয়েছে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস পর্যন্ত।
কীভাবে চলছে টিকাদান
গণপ্রচারের অংশ হিসেবে সোমবার সকালে জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে একযোগে কার্যক্রম শুরু করা হয়। জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ বাহারুল আলম প্রধান অতিথি হিসেবে সদর হাসপাতালে ক্যাম্পেইন উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাসপাতালের আরএমও ডা. অরুপ পাল ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানানো হয়েছে, জেলার টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হবে মোট ৬টি স্থায়ী কেন্দ্র ও ১,৪৭৪টি অস্থায়ী কেন্দ্রে। এই কেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত টিকাদান থেকে বাদ পড়া শিশুদেরও টিকাদানের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যাতে মিসিং চাইল্ডদেরও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
কেন জরুরি এই ক্যাম্পেইন?
হাম ও রুবেলা—উভয়ই সহজে ছড়ানো সংক্রামক রোগ। বিশেষত রুবেলা গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে ভ্রূণের বিকাশে মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। এ কারণে শিশুদের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং কমিউনিটি স্তরের রক্ষা নিশ্চিত করতে দ্রুত টিকাদান অপরিহার্য বলে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানান।
সিভিল সার্জন অফিস থেকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের ইম্যুনাইজেশন শিডিউলের অংশ হিসেবে ৯ থেকে ১৫ মাস বয়সী শিশুদের এমআর (মেজলস-রুবেলা) ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।此次 বিশেষ ক্যাম্পেইনে এমআর ভ্যাকসিনের নির্ধারিত ডোজের পাশাপাশি অতিরিক্ত ডোজও প্রদান করা হবে যেখানে প্রয়োজন।
“মা-বাবাদের বলতে চাই, আপনারা আপনার বাচ্চাদের অবশ্যই টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে আসবেন। হাম-রুবেলার যে ভ্যাকসিন, অবশ্যই আপনারা সবাই দেবেন।”
পদ্ধতি ও অভিভাবকদের করণীয়
- নির্ধারিত বয়সসীমার (৬ মাস–৫৯ মাস) যে কোনো শিশুকে দর্শনীয় কেন্দ্র লাগবে না—নজদি কেন্দ্রে নিয়ে আসলেই পর্যাপ্ত।
- যারা নিয়মিত টিকাদানে বাদ পড়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও টিকা প্রদান করা হবে—সেক্ষেত্রে পূর্ব শর্ত হিসেবে কোনো মেডিক্যাল রেকর্ড দেখানো বাধ্যতামূলক নয়, তবে থাকলে সুবিধা হবে।
- টিকাদানের আগে শিশুর সুস্থতা যাচাই করা হবে; জ্বর বা অন্য কোনো গুরুতর অসুস্থতা থাকলে পরে পুনঃনির্ধারণ করা হবে।
টিকাদান কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সময় অভিভাবকদের পরিচয়পত্র ও শিশুর জন্মনিবন্ধন/রেকর্ড থাকলে সঙ্গে নিয়ে আসার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, ফলে ডাটাবেজে সঠিকভাবে তথ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।
কেন্দ্র ও লক্ষ্যমাত্রার সংক্ষিপ্ত তথ্য
| বিষয় | পরিমাণ |
|---|---|
| লক্ষ্যমাত্রা (শিশু) | ৭৭,৭৬০ |
| স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র | ৬ |
| অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র | ১,৪৭৪ |
| কর্মসূচির মেয়াদ | ২৬ সেপ্টেম্বর–৩১ অক্টোবর |
অফিসিয়াল সূত্র বলছে, প্রতিটি কেন্দ্রে টিকাদান ইন্টারভ্যাল এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণসহ প্রয়োজনীয় কোল্ড চেইন বজায় রেখে কার্যক্রম পরিচালিত হবে। জেলা স্বাস্থ্য দল ক্যাম্পেইন চলাকালে নিয়মিত মনিটরিং করবে যাতে কোনো কেন্দ্র থেকে শিশুর টিকাদান বাদ না পড়ে।
স্থানীয় প্রভাব ও অগ্রাধিকার
লক্ষ্মীপুরের মতো জেলা পর্যায়ে বৃহৎ কর্মসূচি সফল হলে সম্প্রদায়ভিত্তিক রোগপ্রতিরোধ কার্যকর হয়; এ ধরনের ক্যাম্পেইন ভবিষ্যতে ভুমি সংক্রমণের ঝুঁকি কমায় এবং হাসপাতালভিত্তিক জটিলতা হ্রাস করে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের আশেপাশে রুবেলার প্রাদুর্ভাব থাকলে মাতৃতন্ত্রগত জটিলতা বৃদ্ধি পায়—সেজন্য স্থানীয় স্তরে এ কর্মসূচির গুরুত্ব অনন্য।
সিভিল সার্জন অফিসের অনুরোধ, সকল অভিভাবক নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তাদের শিশুদের টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে আসবেন এবং প্রয়োজনে স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করবেন।
ক্যাম্পেইন সংক্রান্ত আরও তথ্য বা সাহায্যের জন্য জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সাথে যোগাযোগ করা যাবে; অফিস সূত্রে বলা হয়েছে, মনিটরিং টিম সময় মতো তথ্য আপডেট করবে এবং ক্ষেত্রভিত্তিক সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা থাকবে।