লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর উপজেলার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সেবা নিতে আসা রোগীদের দাবি, ডেন্টাল বিভাগের এক দায়িত্বশীল চিকিৎসক সরকারি কর্মস্থল থেকে তাঁদের প্রাইভেট ল্যাবে পাঠিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছেন। অভিযোগ ওঠা প্রতিষ্ঠানটির নাম কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং অভিযোগ সম্পর্কিত ডেন্টাল সার্জনের নাম ডা. প্রিন্স দাস।
রোগীদের গল্প ও অভিযোগ
ভুক্তভোগী বলে আসেন, তারা সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে দাঁত সংক্রান্ত চিকিৎসা নেওয়ার আশা নিয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু চিকিৎসক হাসপাতালের সরঞ্জাম বা বিদ্যুৎ না থাকার কথা বলে তাদেরকে ছাড়া করছেন। পরে একই চিকিৎসক হাসপাতালের পাশে থাকা নিজ ব্যক্তিগত ল্যাবে দুপুরের পর বা বিকেলে আসতে অনুরোধ করেন। সেখানে দাঁত উত্তোলন বা অন্যান্য চিকিৎসার বিনিময়ে প্রতি রোগীর কাছ থেকে ৮০০০ থেকে ১৫০০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অজ্ঞাতনামা একাধিক রোগী বলেন, সরকারি সেবার জন্যই তারা হাসপাতালে এসেছিলেন, তাতে চিকিৎসা না পেয়ে বাধ্য হয়ে ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানে যেতে হচ্ছেন এবং সেখানেও উচ্চ মূল্য দিতে হচ্ছে। অভিযোগে তারা জানিয়েছেন এটি তাদের জন্য আর্থিক কষ্ট সৃষ্টি করছে এবং স্বাস্থ্যসেবায় সমতা ভঙ্গ হচ্ছে।
হাসপাতালের প্রতিক্রিয়া ও আইনি উদ্যোগ
কমলনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগী-পরিচর্যা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মাহবুব রহমান সাংবাদিকদের জানান, ডেন্টাল সেবার জন্য প্রয়োজনীয় বেশ কিছু যন্ত্রপাতি ইতোমধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে এবং তা ডা. প্রিন্স দাসকে হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি বলেন তিনি এমন অভিযোগ আগেও শুনেছেন এবং বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টকে তিনি ডেকে বসবেন। প্রয়োজনে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমন আশ্বাসও দেন ডা. মাহবুব।
“হাসপাতালে যন্ত্রপাতি থাকার পরও যদি কেউ প্রাইভেট চেম্বারে রোগী পাঠান, সেটি রোগী অধিকার লঙ্ঘন—তাই আমরা খতিয়ে দেখব এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেব।”
রোগী ও স্থানীয়রা ঘটনার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত তদন্ত ও জরুরি ব্যবস্থার দাবি করেছেন। তাদের একাংশ জেলা সিভিল সার্জন এবং মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর তৎক্ষণীন হস্তক্ষেপ কামনা করছেন যাতে কেউ সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত না হন।
প্রভাব ও স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবার ইস্যু
স্থানীয়দের অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলো কেবল ব্যক্তিগত আচরণ নয়—এগুলো স্বাস্থ্যসেবার উপর সাধারণ মানুষের বিশ্বাস, সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থার ক্ষমতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্নও তৈরি করে। হাসপাতালের বাইরে ব্যক্তিগত ল্যাবে পাঠানো হলে নিম্ন আয়ের রোগীরা সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বা অতিমূল্য পরিশোধ করতে বাধ্য হতে পারেন।
কমলনগরের মতো উপজেলায় সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য সেবা দেবেন—এটাই নীতিগত দাবি। একই সঙ্গে সেখানকার কর্মীদের আচরণ ও সেবাপ্রদান পদ্ধতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ না করা হলে সেবার মান ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
পরবর্তী করণীয়
- হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্ত চালিয়ে ফল প্রকাশ করবেন বলে জানিয়েছেন—তাই স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ ও তদারকিতে জোর দেওয়া প্রয়োজন।
- রোগীদের সহজভাবে অভিযোগ জানার ব্যবস্থা থাকা উচিত এবং অভিযোগের তদন্তে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।
- যদি তদন্তে কখনোই প্রমাণ মেলে যে সরকারি কল্যাণমূলক সেবা বিপর্যস্ত করা হয়েছে, আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে—এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন সবার দাবি।
| বিষয় | উল্লেখিত বিবরণ |
|---|---|
| অভিযুক্ত ব্যক্তি | ডা. প্রিন্স দাস (ডেন্টাল সার্জন) |
| স্থান | কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স (লক্ষ্মীপুর) |
| অভিযোগের প্রকৃতি | সরকারি সেবা না দিয়ে প্রাইভেট ল্যাবে পাঠিয়ে 8,000–15,000 টাকা আদায় |
| হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া | সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে, তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে—ডা. মাহবুব রহমান |
এ ঘটনায় যে ধরনের অভিযোগ উঠেছে তা তদন্তে সরকারি কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ এবং ফলাফল স্থানীয়দের মধ্যে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ঘটনার পরবর্তী করণীয় ও তদন্ত প্রতিবেদন সম্পর্কিত কোনো অফিসিয়াল বিবৃতি পাওয়া গেলে তা আপাতত সংগ্রহ করে পরবর্তী প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।