লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর উপজেলার চরমার্টিন ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মার্টিন গ্রামের কালু মাঝির বাড়ি এলাকা থেকে মঙ্গলবার সকালে মো. নাইম নামে একজন কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মরদেহটি পল্লী বিদ্যুতের একটি খুঁটির পাশে জমা থাকা পানির মধ্যে থাকা অবস্থায় পাওয়া যায়। স্থানীয়রা দাবি করছেন, খুঁটি থেকে মাটিতে টানা আর্থিংয়ের তার তে বিদ্যুৎ সঞ্চালিত হওয়ায় তিনি প্রাণ হারান।
ঘটনার সময়রেখা
| ঘটনার ধাপ | সময়/দিন |
|---|---|
| কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার সময় নিখোঁজ | সোমবার রাতে |
| মরদেহ উদ্ধার | মঙ্গলবার সকাল |
স্থানীয়রা জানান, নাইম স্থানীয় একটি খাবার হোটেলে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতো। সোমবার রাতে সে কাজ থেকে বাড়ির উদ্দেশে বের হয়, কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে বাড়িতে ফেরেনি। পরবর্তীতে ওই এলাকার মানুষ সকালে খুঁটির কাছে জমে থাকা পানির মধ্যে তার মরদেহ দেখতে পান এবং স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। নিহতের পিতার নাম গ্রন্থিত সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে—মো. ইলিয়াস।
স্থানীয়দের অভিযোগ ও বিদ্যুৎ সংস্থার পালটা বিবৃতি
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে, খুঁটি থেকে মাটিতে টানা আর্থিংয়ের তারে বিদ্যুতায়িত হয়ে নাইমের মৃত্যু হয়েছে। তাঁরা আরও বলেন, ওই তারের নিচে পানিতে থাকা ব্যাঙও মারা গেছে। এ ঘটনার জন্য পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেছেন এলাকাবাসী।
“খবর পেয়ে আমাদের প্রকৌশলীদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে... ধারণা করা হচ্ছে, কোথাও গাছের ডাল তারের ওপর পড়ে সমস্যাটি হয়েছে। বিষয়টি জানার জন্য প্রকৌশলীদের পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
এই মন্তব্যটি করেছেন কমলনগর উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম রাশেদুল ইসলাম, যিনি ঘটনার তদন্তে প্রকৌশলীদের পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল আলম ধরনটি জানেন না বলে স্থানীয় ভাষায় জানিয়েছেন এবং বলেছেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় প্রভাব ও সম্ভাব্য পরবর্তী ব্যবস্থা
এ ধরনের ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা এবং পল্লী বিদ্যুতের পরিকাঠামো নিয়ে উদ্বেগ বাড়াবে। নিম্নোক্ত বিষয়গুলো স্থানীয় প্রশাসন ও বিদ্যুৎ সংস্থার পদক্ষেপের জন্য গুরুত্ব বহন করে:
- আর্থিং ব্যবস্থার স্থিতি ও সার্বিকতা পুনরায় যাচাই করা।
- স্থানীয়ভাবে খুঁটি-তারের আশপাশে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা চিহ্নিত করে তাৎক্ষণিক সতর্কতা নির্দেশনা জারি করা।
- ঘটনাস্থলে দ্রুত তদন্ত শেষে দায়িত্বরতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ।
অভিযোগ ও প্রাথমিক তদন্তের বিবরণ থেকে স্পষ্ট যে, ঘটনার কারণ ঠিক কী ছিল তা জানতে আরও অনুসন্ধান প্রয়োজন। পল্লী বিদ্যুত কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক বক্তব্যে বলা হয়েছে যে, স্বাভাবিকভাবে এমন ঘটনায় ট্রান্সফরমারে সমস্যা হলে বিদ্যুৎ চলে যায়, কিন্তু এই ক্ষেত্রে তা হয়নি; ফলে তারা সম্ভাব্য গাছের ডাল বা বাইরের কোনো কারণে লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথাও উত্থাপন করেছেন।
স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে দাবি করেছেন যে, দ্রুত প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে দায়ী কর্তৃপক্ষকে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে যেন ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা এড়ানো যায়। পুলিশ ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি তদন্তের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তাবোধ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
এই ঘটনার পরবর্তী তদন্ত ও যে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদনে যা কিছু পাওয়া যাবে, তা স্থানীয় প্রশাসন ও বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জানানো হবে বলে জানা গেছে।