কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ) — ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে কুলিয়ারচরের লক্ষ্মীপুর দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয় এক তথ্যনিষ্ঠ ও অনুপ্রেরণামূলক সাফল্য উপস্থাপন করেছে। বিদ্যালয়টি থেকে মোট ৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন এবং সবেই নারী শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ৫ জন গোল্ডেন জিপিএ-৫। ফলাফল নিয়ে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়রা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।
সংখ্যায় যা জানা গেল
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কার্যালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিদ্যালয় থেকে মোট ১৩০ জন পরীক্ষার্থী এইবার এসএসসিতে অংশ নেন। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ৯২ জন, ফলে পাশের হার দাঁড়ায় ৭০.৭৭%। গোল্ডেন জিপিএ-৫ ও জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ছয়জন শিক্ষার্থীর নাম ও শ্রেণীবিভাগ বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে।
- গোল্ডেন জিপিএ-৫: নূরে জান্নাত ইভা, নুসরাত আলম জামিয়া, মোছা. সানজিদা ইসলাম, মোছা. তাসমিয়া বাশার, মোছা. জান্নাত আক্তার
- জিপিএ-৫: মোছা. নাবিলা আক্তার
শিক্ষকের মূল্যায়ন ও অভিভাবকের প্রতিক্রিয়া
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জসিম উদ্দিন (খোকন) বলেন,
“এ অর্জন কেবল বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের একার নয়। এটি আমাদের সকল শিক্ষক-কর্মচারী, পরিচালনা পর্ষদের সম্মানিত সভাপতি ও সদস্যবৃন্দ, অভিভাবক এবং সর্বোপরি শিক্ষার্থীদের যৌথ প্রচেষ্টার ফসল।”
তিনি আরও বলেন যে, ভবিষ্যতে ছেলেমেয়েরা সমানভাবে এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন এবং সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বিদ্যালয় সর্বোচ্চ নিষ্ঠায় কাজ করবে। প্রধান শিক্ষকের ভাষ্য থেকে পাঠে ও পরিচালনায় ঐক্যবদ্ধতা ও অভিভাবকদের সমর্থন কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা স্পষ্ট হয়ে উঠে।
প্রেক্ষাপট: স্থানীয় শিক্ষার চিত্র
স্থানীয় শিক্ষানুরাগীরা বলছেন, গ্রামীণ জনপদে মেয়েদের শিক্ষায় সুযোগ সৃষ্টি ও তাদের এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে লক্ষ্মীপুর দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভূমিকা বিবেচনাযোগ্য। বিদ্যালয়ের ধারাবাহিক সাফল্য স্থানীয়ভাবে ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে কাজ করতে পারে এবং ভবিষ্যতে একটি শিক্ষিত প্রজন্ম গঠনে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উপজেলার সামগ্রিক ফলাফল
প্রসঙ্গত, কুলিয়ারচর উপজেলার সব স্কুল-কলেজ মিলিয়ে এ বছর মোট ২১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ১,৭৪০ জন শিক্ষার্থী এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এগুলোর মধ্যে ১,১১৫ জন পাশ করছেন এবং গোল্ডেনসহ জিপিএ-৫ পেয়েছেন মোট ৫২ জন শিক্ষার্থী। এই প্রেক্ষিতে লক্ষ্মীপুর দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ছয়জনই নারী হওয়া একটি বিশেষ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
| আইটেম | সংখ্যা |
|---|---|
| বিদ্যালয়ভিত্তিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা | ১৩০ |
| উত্তীর্ণ | ৯২ |
| পাশের হার | ৭০.৭৭% |
| গোল্ডেন জিপিএ-৫ | ৫ জন (সবাই নারী) |
| জিপিএ-৫ | ১ জন (নারী) |
সমস্যা ও পর্যালোচনার দিক
প্রধান শিক্ষক জানান, মেয়েদের সঙ্গে সঙ্গে কয়েকজন ছেলে শিক্ষার্থীও গোল্ডেন বা জিপিএ-৫ পাওয়ার মতো দক্ষতা দেখিয়েছিল; তবু তাদের প্রত্যাশিত ফলাফল মেলেনি। তিনি অভিভাবকদের দায়শীল আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ফলাফল নিয়ে অভিভাবকরা যদি দায়িত্বশীলভাবে মূল্যায়ন ও সহযোগিতা করেন, ভবিষ্যতে ভাল ফলের আশা রাখা যাবে।
শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়ন, প্রাশিক্ষণ ও বাড়তি শিক্ষাসহায়তা এবং পরিবার-সমাজিক সহায়তা পাওয়া বজায় থাকলে এমন সাফল্যের ধারাবাহিকতা সম্ভব—এসংক্রান্ত মন্তব্য স্থানীয় শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের দ্বারাই বারবার এসেছে।
লক্ষ্মীপুর দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের এ সাফল্য স্থানীয়ভাবে আনন্দের কারণ হলেও শিক্ষা মান উন্নয়নের বৃহত্তর চিত্রে এটি একটি উৎসাহব্যঞ্জক দিক নির্দেশ করে। বিশেষ করে গ্রামীণ পরিবেশে মেয়েদের এগিয়ে যাওয়া, তাদের উচ্চমানের ফলাফল অর্জন করা—এই বিষয়গুলো ঐতিহ্যগত বাধা ও সামাজিক প্রতিক্রিয়ার মধ্যেও ইতিবাচক বিকাশের ইঙ্গিত বহন করে।