লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানায় শুক্রবার (১৬ আগস্ট) বিকেলে জমা দেওয়া এক লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, পৌরসভার ড্রেনে টয়লেটের পাইপলাইন সংযোগ দেওয়ায় বাধা দেওয়ার ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. আলী অভিযোগ করেন, তাঁদের সঙ্গে দীর্ঘদিন জটিলতা থাকা প্রতিবেশীরা জোরপূর্বক তাদের জমিতে টয়লেট নির্মাণ করেছেন ও পরে টয়লেটের ময়লা পানি রাস্তায় চলে আসায় সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও পেশ করা অভিযোগ
ভুক্তভোগী মো. আলীর দাবি অনুযায়ী, শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে সমসেরাবাদ এলাকায় মাকসুদুর রহমান মাকসুদ ও তার ভাই জাহিদুল ইসলাম জাহিদ তাদের টয়লেটের পাইপলাইন পৌরসভার ড্রেনের সঙ্গে সংযোগ দেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে বাধা দিলে, মো. আলী, তার ছেলে মো. ফয়সাল ও মেয়ে ফারজানা-সহ চার জনকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারার মাধ্যমে আহত করা হয়। আলী জানিয়েছেন, তাঁর মেয়ের চুলের মুঠি ধরে টেনে-হিঁচড়ে আনা হয়েছে এবং ছেলেকে এলোপাতাড়ি মারপিট করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্য
অভিযোগে নাম থাকা মাকসুদুর রহমান মাকসুদ ও জাহিদুল ইসলাম জাহিদ অভিযুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত মাকসুদ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আলী ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের ওপর হামলা করা হয়েছে এবং পরে ধস্তাধস্তি হয়েছে। মাকসুদ আরও জানান, ‘‘ড্রেনের সঙ্গে কোনো পাইপলাইন সংযোগ দেওয়া হয়নি।’’
পুলিশের বক্তব্য ও বিচারপ্রক্রিয়ার অবস্থা
ঘটনার বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা, সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইব্রাহিম জানিয়েছেন, ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগ করেছেন—এমন খবর শুনেছেন। তবে অভিযোগটি এখনও তার হাতে পৌঁেনি। তিনি বলেন, অভিযোগ হাতে পেয়েই বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- ঘটনার তারিখ: শনিবার, ১৫ আগস্ট (অভিযোগ অনুযায়ী)
- অভিযোগ দায়েরের তারিখ: রোববার, ১৬ আগস্ট
- অন্তর্ভুক্ত পক্ষ: ভুক্তভোগী মো. আলী ও তার পরিবারের সদস্যরা; অভিযুক্ত মাকসুদুর রহমান মাকসুদ ও তার ভাই জাহিদুল ইসলাম
- ঘটনাস্থল: লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ড, সমসেরাবাদ এলাকা
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| অভিযোগকারী | মো. আলী (ব্যবসায়ী) |
| অভিযুক্ত | মাকসুদুর রহমান মাকসুদ ও জাহিদুল ইসলাম জাহিদ |
| থানায় দায়ের | লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানা |
| পুলিশের অবস্থা | অভিযোগ এখনও তদন্ত কর্মকর্তার হাতে না পৌঁছানো; অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে |
"ভালো কাজে বাধা দেওয়ায় মাকসুদ ও তার ভাই আমাদের ব্যাপক মারধর করেছে। আমার মেয়ের চুলের মুঠি ধরে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে গেছে। আমার ছেলেকেও এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মেরেছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।" — মো. আলী (ভুক্তভোগী)
স্থানীয়ভাবে এই ধরনের জমি-সীমা ও নালা সংযোগ নিয়ে বিরোধ নতুন নয়; অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তরা ও ভুক্তভোগীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। স্থানীয়দের জন্য পৌরসভার ড্রেন সুষ্ঠুভাবে ব্যবহারের বিষয়টি নাগরিক স্বচ্ছতা ও জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে জড়িত, তাই এমন বিবাদ দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে মীমাংসা করা প্রয়োজন বলে আইনশৃঙ্খলা বলিষ্ঠরা মনে করেন।
অপরাধ বিভাগের হিসাবে, এ ধরনের ঘটনা দ্রুত তদন্ত ও নিরপেক্ষ বিচার দাবি করে—বিশেষত যখন অভিযোগে শারীরিক আঘাত ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি উঠে আসে। থানা সূত্রে জানা যায়, অভিযোগপত্র জমা পেলেই পুলিশ ঘটনাস্থল ও সংশ্লিষ্ট নলকূপ, ড্রেন সংযোগ ও প্রমাণসহ কার্যক্রম তদন্ত করবে।
রিপোর্টে উল্লেখ্য—ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকল পক্ষকে থানায় হাজির রেখে প্রমাণাদি আহরণ ও সাক্ষ্যগ্রহণ করবে পুলিশ। স্থানীয় প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা নালা ব্যবস্থাপনা ও অনুমোদিত সংযোগ বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিতে পারে।