লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে পাঁচ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন ১৩ বছর বয়সী মাদ্রাসাছাত্র আরাফাত হোসেন শাহীন. পরিবার ও স্থানীয় শিক্ষকেরা তাকে খুঁজে না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। বাবার জানান, গত শনিবার সকাল-দুপুরের কোনো সময় চর পোড়াগাছা থেকে তিনি মাদ্রাসার উদ্দেশে বের হন এবং এরপর থেকেই তার অস্তিত্ব মিলছে না।
ঘটনার সময়রেখা ও পরিবারে উদ্বেগ
শাহীনের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চর কাদিরা ইউনিয়নের চর বসু গ্রামে। পরিবার বলছে, সে রামগতির চর পোড়াগাছা থেকে কমলনগরের তোরাবগঞ্জের দারুস সুন্নাহ ইসলামিয়া মাদ্রাসা-র হেফজ বিভাগে পড়তে যায়। নির্ধারিত সময়ে মাদ্রাসায় পৌঁছায়নি বলে ধরে নিয়ে পরিবারের সদস্যরা এবং মাদ্রাসার শিক্ষকরাও খোঁজাখুঁজি করেছেন, কিন্তু এখনও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
শিশুটির মা শাহিনুর বেগম রামগতি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে সন্ধান এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা মাদ্রাসা, আশপাশের এলাকা ও লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন স্থানে খোঁজ চালিয়েছেন, তবু কোনো সূত্র মিলেনি বলে তারা জানিয়েছেন।
পুলিশের অবস্থান ও অনুসন্ধান
রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান জানিয়েছেন, জিডি পাওয়া গেছে এবং তারা প্রাথমিক ব্যাবস্থা গ্রহণ করছে। ওসি বলেন যে, শিশুটির মা তাকে মাদ্রাসা পর্যন্ত আনেননি; ফলে তিনি অর্ধেক পথ থেকে নিখোঁজ হওয়ার সম্ভাবনা উত্থাপন করেছেন। ওসি আরও যোগ করেছেন, মাদ্রাসার পড়াশোনার ভীতি থেকেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে।
“অভিভাবক জিডি করেছেন, আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।” — ওসি লিটন দেওয়ান
শাহীনের শারীরিক বর্ণনা ও প্রাথমিক তথ্য
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শাহীনের গায়ের রং শ্যামলা, উচ্চতা ৪ ফুট ৫ ইঞ্চি। সে খোঁজার সময় গায়ে ছিল একটি কালো পাঞ্জাবি এবং মাথায় টুপি।
| বৈশিষ্ট্য | মৃত্যু/অবস্থা |
|---|---|
| বয়স | ১৩ বছর |
| উচ্চতা | ৪ ফুট ৫ ইঞ্চি |
| পোশাক | কালো পাঞ্জাবি ও টুপি |
| বাসস্থান | চর বসু, চর কাদিরা ইউনিয়ন, কমলনগর |
স্থানীয় প্রভাব ও উদ্বেগ
একটি ছোট কমিউনিটিতে কোনো শিশুর অনিশ্চিতভাবে নিখোঁজ থাকা সংশ্লিষ্ট পরিবারে ভয় ও সামাজিক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। মাদ্রাসায় পড়ুয়া শিশুরা নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারার খবর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ায়। স্থানীয়রা বলছেন, এসব ঘটনার দ্রুত সমাধান না হলে বড় ধরনের নিরাপত্তাবিষয়ক প্রশ্ন উঠতে পারে।
- পরিবার জানিয়েছে তারা মাদ্রাসার শিক্ষকসহ স্থানীয়ভাবে খোঁজাখুঁজি করেছেন।
- পুলিশ জিডি পাওয়ার পর প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করেছে বলে জানানো হয়েছে।
- ওসি অর্ধেক পথ থেকেই নিখোঁজ হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলেছেন; তবে তদন্ত চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বা তদন্তকারীরা যদি আরও তথ্য দেয়, আমরা আপডেট দেব। পরিবার জানিয়েছেন তারা যে কাউকে যদি কোনো তথ্য থাকে তা দিতে চান থানা বা পরিবারকে জানাতে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয়ভাবে নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা যেতে পারে: পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অনুপস্থিত শিশুর শেষ দেখা স্থানের চারপাশ দ্রুত তল্লাশি করা এবং মাদ্রাসা-অভিভাবক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে শক্ত করা। তবে এ সব প্রস্তাবনা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বাস্তব পদক্ষেপের সাথে মিলিয়ে চালাতে হবে।
রামগতি থানার সাথে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং তদন্তের অগ্রগতি পাওয়া মাত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও পরিবারকে জানানো হবে।