লক্ষ্মীপুরে চলতি বছরের মে থেকে আগস্ট—চার মাসের মধ্যে গ্রাম আদালতে নতুনভাবে ১,৮০২টি মামলা দায়ের হয়েছে। ওই সময়ে এই মামলাগুলোর মধ্যে ১,১৪৭টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে এবং ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে মোট ৩ কোটি ২৮ লাখ ৮৬ হাজার ৮০০ টাকা আদায় করা হয়েছে।
সভায় উপস্থাপিত তথ্য ও অংশগ্রহণ
এসব পরিসংখ্যান জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একটি সমন্বয় সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগ ও বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ—তৃতীয় পর্যায় প্রকল্পের আয়োজনে উপস্থাপন করা হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) সম্রাট খিসা; জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, গ্রাম আদালতে মামলা দায়েরের সময় নারীরা মোট মামলার মধ্যে প্রায় ৪১% অংশগ্রহণ করেছেন। সভায় জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ও জেলা তথ্য অফিসার মোকাবেলা ও প্রচার-প্রচারণা বিষয়ক কার্যক্রম নিয়ে বক্তব্য দেন।
কেন গ্রাম আদালত গুরুত্বপূর্ণ: প্রশাসনিক ও আর্থ-সামাজিক উদ্দেশ্য
জেলা প্রশাসক সভায় আলোচনা দিয়ে বলেন, গ্রামের ছোটখাটো বিরোধ যদি স্থানীয় পর্যায়ে, অর্থাৎ গ্রাম আদালতে নিষ্পত্তি করা যায় তবে সাধারণ মানুষ টাকা ও সময় দুইটাই বাঁচাতে পারবেন। তিনি আরো বলেন, গ্রাম আদালতকে সক্রিয় করার জন্য ইতোমধ্যে ইউনিয়ন পর্যায়ে এজলাস স্থাপনসহ নানাভাবে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
“গ্রামের ছোট বিরোধ নিয়ে জেলা পর্যায়ে মামলা করতে গেলে মানুষের সময় ও অর্থ উভয়ই ব্যয় হয়, সেখানে গ্রাম আদালতে মামলা করলে তুলনামূলক কম খরচে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ থাকে।”
প্রয়োজনে প্রচার-প্রচারণার ওপর জোর
সভায় আলোচিত এক মূল দিক ছিল জনসচেতনতা বাড়ানো। প্রশাসনিক বক্তব্য অনুযায়ী, যদি গ্রাম আদালত ও এর সুবিধা সম্পর্কে আরও ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ ওই মাধ্যমেই বিরোধ মিটিয়ে নেওয়ার দিকে ঝুঁকবে এবং উল্লিখিত সমস্যা দ্রুত ও সাশ্রয়ীভাবে সমাধান হবে।
- মামলা দায়ের: ১,৮০২ (মে–আগস্ট)
- নিষ্পত্তি: ১,১৪৭
- ক্ষতিপূরণ আদায়: ৩ কোটি ২৮ লাখ ৮৬ হাজার ৮০০ টাকা
- নারীর অংশগ্রহণ: ৪১%
কোন ধরনের বিরোধে গ্রাম আদালত কার্যকর?
সূত্রভিত্তিক আলোচনায় বলা হয় যে গ্রাম আদালত সাধারণত জমি-বৈষম্য, অলৌকিক অভিযোগ, পারিবারিক সামান্য কোন্দল, ক্ষুদ্র আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত মতবিরোধের মতো মামলায় দ্রুত নিষ্পত্তি দিতে সক্ষম। এ ধরনের মামলার জন্য জেলা পর্যায়ে মামলা করলে মামলা পরিচালনা ও আদালতে উপস্থিতির কারণে সময় ও অর্থের বড় বোঝা পড়ে।
ত্রুটিসমূহ ও পরবর্তী করণীয়
সভায় অংশগ্রহণকারীরা গ্রাম আদালতের কার্যক্রম আরও ফলপ্রসূ করতে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন:
- গ্রাম আদালত সংক্রান্ত আইন ও প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যাপক স্থানীয় প্রশিক্ষণ ও গণসচেতনতা কর্মসূচি চালানো।
- ইউনিয়ন পর্যায়ে এজলাস ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহ নিশ্চিত করা।
- নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে লক্ষ্যভিত্তিক উদ্যোগ নেওয়া।
টেবিলে সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান
| আধিকারের সময়কাল | মামলা দায়ের | নিষ্পত্তি | ক্ষতিপূরণ (টাকা) | নারীর অংশ |
|---|---|---|---|---|
| মে–আগস্ট | ১,৮০২ | ১,১৪৭ | ৩,২৮,৮৬,৮০০ | ৪১% |
গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্প চালু থাকায় প্রশাসন আশা করছে যে ভবিষ্যতে স্থানীয় স্তরে বিরোধ নিষ্পত্তির হার আরও বাড়বে এবং জেলা আদালতের ওপর চাপ কমবে। তবে সঠিক ফল পেতে হলে জনজাগরণ, পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করাই হবে মূল চ্যালেঞ্জ।