ঝিনাইদহ শহরের কাঁচননগর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে মঙ্গলবার দুপুরে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ঝিনাইদহ সার্কেল, যেখানে শিক্ষার্থী ও স্কুল শিক্ষকরা অংশগ্রহণ করেন।
কেন আয়োজন করা হলো
বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শনিবার বা রবিবার নয়—শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বাড়াতে স্কুল পর্যায়ে সরাসরি প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে কর্মশালাটি আয়োজন করা হয়েছে। বক্তারা সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে চালক, পথচারী ও শিক্ষার্থীসহ সকলকে ট্রাফিক আইন মেনে চলার ওপর জোর দিয়েছেন। উপস্থিত শিক্ষার্থীদের সড়ক পারাপার এবং রাস্তায় নিরাপদ আচরণ সম্পর্কে দিব্যি নির্দেশনা দেওয়া হয়।
কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন — বিআরটিএ ঝিনাইদহ সার্কেলের সহকারী পরিচালক দেবাশীষ বিশ্বাস, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মশিউর রহমান, মোটরযান পরিদর্শক সজীব সরকার এবং সোহাগ হোসাইন। স্কুলের পক্ষে বক্তব্য দেন শিক্ষক রিগান মাহমুদ। বক্তারা মিলিতভাবে সড়ক নিরাপত্তা মেনে চলার গুরুত্ব এবং নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণের আহ্বান জানান।
প্রধান বার্তা ও প্রস্তাব
কর্মশালায় বলা হয়, রাস্তায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন:
- ট্রাফিক আইন ও সাইনবোর্ড মেনে চলা,
- রাস্তা পারাপারের সময়ে সতর্ক থাকা এবং নির্ধারিত ক্রসিং ব্যবহার করা,
- শিশুদের পরিবারের লোক ও সহপাঠীদেরও সচেতন করা।
বক্তারা শিক্ষার্থীদের প্রতি আবেদন জানান— নিজেরা সজাগ থাকুন, এবং learnt বিষয়গুলো বাড়িতে গিয়ে অন্যদেরও জানান। এই ধরনের সচেতনতাই দুর্ঘটনা প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার বলেও তারা অভিমত ব্যক্ত করেন।
স্কুল পর্যায়ের ভূমিকা ও প্রস্তুতি
রিগান মাহমুদ বলেন, স্কুলগুলি শুধু পাঠ্যবইয়ের শিক্ষাই নয়, বাস্তব জীবনের নিরাপত্তা বিষয়েও ছাত্রজীবন থেকে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করতে হবে। যদিও তিনি সরাসরি কোনো উদ্ধৃতি দেননি, তবে তাঁর বক্তব্য থেকে বোঝা যায়—বিদ্যালয় মহল এই ধরনের শিক্ষাকে নিয়মিত করা দরকার মনে করে।
প্রশিক্ষণের উপযোগিতা ও স্থানীয় প্রভাব
কর্মশালায় অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকেরই পরিবার শহরের বিভিন্ন পথ ব্যবহারে অভ্যস্ত; তাদের সচেতনতা বাড়লে সামগ্রিকভাবে পথচলাচলে সুশৃঙ্খলতা বৃদ্ধি পেতে পারে। এছাড়া এই ধরনের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ ভবিষ্যতে নিরাপদ রোড ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য স্কুল‑পরিবেশে স্থায়ী সংস্কৃতি তৈরিতেও ভূমিকা রাখে।
পরবর্তী পরিকল্পনা
প্রতিনিধিক্রমে জানানো হয়েছে, একাধিক স্কুলে সমানভাবে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পরিকল্পনা আছে—তবে নির্দিষ্ট তারিখ বা অংশগ্রহণকারী বিদ্যালয়ের নাম ছাড়াও কোন বিশদ ঘোষণা অবিলম্বে দেওয়া হয়নি। বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ যখন এমন উদ্যোগ নেয়, তখন স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষাবোর্ডের সমন্বয় এ কার্যক্রম প্রসারিত করতে সহায়ক হতে পারে বলেও সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
এক নজরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| স্থান | কাঁচননগর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঝিনাইদহ |
| আয়োজক | বিআরটিএ ঝিনাইদহ সার্কেল |
| উপস্থিত | দেবাশীষ বিশ্বাস, মশিউর রহমান, সজীব সরকার, সোহাগ হোসাইন, রিগান মাহমুদ |
শহর ও গ্রামের সড়ক ব্যবহারে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত—কারণ পরিবার ও সমাজে তাদের অনুকরণীয় প্রভাব থাকে। স্থানীয়ভাবে এই ধরনের প্রশিক্ষণ নিয়ম করে হলে দুর্ঘটনা রোধে এবং সচেতন প্রবাহ চালু করতে সহায়তা করবে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।