ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার আড়পাড়া এলাকায় বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) ভোরে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, তারা স্থানীয়ভাবে মিছিল ও সরকারবিরোধী স্লোগান দিচ্ছিল—ঘটনাস্থল থেকে ধাওয়া করে তাদেরকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা সবাই ছাত্রলীগের সাবেক পরিচয়ে চিহ্নিত।
গ্রেপ্তারদের পরিচয় ও ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
জিজ্ঞাসাবাদের আগে থেকে পুলিশ বলেন, অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছেন—
| নাম | বয়স | ঠিকানা/প্রতিনিধিত্ব |
|---|---|---|
| তাজিম হোসেন | ২৬ | কালীগঞ্জ উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের ইকলাছুর রহমানের ছেলে; চাপরাইল কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি হিসেবে পরিচিত |
| রিফাত মিয়া | ২৫ | আড়পাড়া নদীপাড় এলাকার রিপন মিয়ার ছেলে; পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি হিসেবে পরিচিত |
| রমজান আলী | ৩৮ | আড়পাড়া এলাকার মৃত আব্দুল আজিজের ছেলে; ছাত্রলীগের সাবেক কর্মী হিসেবে পরিচিত |
পুলিশি দাবি ও অভিযানের পরবর্তী ধাপ
কালীগঞ্জ থানা পুলিশ জানিয়েছে, বেলা আরো আগে আড়পাড়া এলাকায় একদল ব্যক্তি মিছিল করে এবং সরকারবিরোধী স্লোগান দিচ্ছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তারা পালানোর চেষ্টা করে। পরে ধাওয়া করে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কবির হোসেন বলেন, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার তিনজনসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও জানিয়েছেন যে, মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। বিধায় এই ঘটনায় অংশগ্রহণকারী বা সহযোগী হতে পার এমন অন্যদেরও চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে—পুলিশের বক্তব্যে এ তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে।
- অভিযোগের ধরন: সরকারবিরোধী মিছিল ও স্লোগান (পুলিশি বিবরণ অনুযায়ী)
- আইনগত ধারা: সন্ত্রাসবিরোধী আইন আভিধানিক অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে
- বর্তমান অবস্থা: গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে; পলাতক আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে
স্থানীয় প্রভাব ও প্রশাসনের পরিপ্রেক্ষিত
কালীগঞ্জ শহর ও আড়পাড়া এলাকায় এই ধরনের ঘটনা তাতৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় নিরাপত্তা পরিবেশে উদ্বেগ বাড়াতে পারে। পথচারী ও ব্যবসায়ী শ্রেণি সাধারণত এই ধরনের গণজমায়েত থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করে থাকেন, কারণ ধাওয়া-পালানোর মুহূর্তে জনজীবনে ব্যাঘাত দেখা যায়। এছাড়া, রাজনৈতিক সৌজন্যবোধ ও সংগঠনের নামে সংঘটিত কর্মকাণ্ড স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারিতে থাকবে এবং প্রয়োজন হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে—পুলিশি পরিকল্পনা অনুযায়ী।
এই ঘটনার পরে স্থানীয় প্রশাসন ও থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পরিদর্শন বাড়িয়েছে বলে সূত্রে জানা গেছে। তবে গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত ও আদালতের রায়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তা ভবিষ্যতের বিষয়।
এই ঘটনার স্বাক্ষী বা প্রাসঙ্গিক তথ্য আছে এমনরা সরাসরি থানা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন; অভিযোগ ও তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে—থানার বার্তায় এ কথা বলা হয়।
এ ঘটনায় এখনও কোনও রাজনৈতিক দল থেকে প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি; অপরদিকে স্থানীয়রা বলছেন যে শান্তি প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকদের নিরাপত্তা প্রথমিক অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। পুলিশের অভিযোগ ও গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয়ও জানান দেয় যে ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয় জড়িত—তবে তদন্তে যে ফল পাওয়া যাবে সেটাই চূড়ান্ত প্রমাণ বহন করবে।