অপরাধ ঝিনাইদহ ঝিনাইদহ (58)

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে জমি বিরোধে কৃষক নিহত: আদালত ছেলে- বাবাকে দণ্ডাদেশ দিলেন

জমি সংক্রান্ত বিরোধের ঘটনায় কালীগঞ্জের মালিয়াট গ্রামের কৃষক নায়েব আলীকে পিটিয়ে হত্যা মামলায় আদালত আল আমিন পাটোয়ারীকে মৃত্যুদণ্ড ও ইউনুস পাটোয়ারীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। দ্রুতগতিতে ন্যায়বিচার সম্পন্ন হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে জমি বিরোধে কৃষক নিহত: আদালত ছেলে- বাবাকে দণ্ডাদেশ দিলেন
©অলংকরণ শামীম রেজা / we-news.com

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক কৃষক হত্যা মামলায় বিচারিক আদালত দুই আসামিকে ভিন্ন ভিন্ন সাজার আদেশ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা ও দায়রা জজ আদালত-এর ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে বিচারক মাসুদ আলী অভিযোগ প্রমাণিত মনে করে আল আমিন পাটোয়ারী (২৬) নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড এবং তার পিতা ইউনুস পাটোয়ারী (৫৬) নামের আরেক আসামিকে জাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

ঘটনার সারমর্ম ও মামলার পূর্বপরিস্থিতি

ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৫ সালের ২৮ মে কালীগঞ্জ উপজেলার মালিয়াট গ্রামে। স্থানীয় কৃষক নায়েব আলীকে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। নিহতের ছেলে বিল্লাল হোসেন একই দিন থানায় মামলা দায়ের করেন—তাতে তিনজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত ২–৩ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। পুলিশের তৎপর অনুসন্ধানের পর পরবর্তীতে গত সালের ১৮ আগস্ট আল আমিন ও ইউনুস আলীকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়।

বিচারিক প্রক্রিয়া ও রায়

অভিযোগপত্র গৃহীত হওয়ার পর বিচারিক কার্যক্রম দ্রুতগতিতে এগোয়। মামলাটি মাত্র সাত কার্যদিবসে বিবেচনা করে আদালত দাবি ও প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দেন। সেই সিদ্ধান্তে আল আমিনের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড ও ইউনুস আলীর বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ থাকে। একই সঙ্গে আল আমিনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ইউনুস আলীকে ২০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

"সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে বিজ্ঞ আদালত একজনকে মৃত্যুদণ্ড ও আরেকজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষ এই রায়ে সন্তুষ্ট। এই রায় দ্রুত কার্যকর হবে বলে আমি বিশ্বাস করি,"

এই মন্তব্য করেন ঝিনাইদহ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আকিদুল ইসলাম।

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও সম্ভাব্য প্রভাব

স্থানীয় নেতা, আইন-শৃঙ্খলা কর্মকর্তা ও গ্রাম বাসিন্দারা বিচারিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নানা প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। এমন রায় দ্রুত প্রদত্ত হওয়াটা কিছু মহলে ন্যায়বিচারের নিশ্চিতকরণ হিসেবে দেখা হলেও অন্যদিকে এটি পর্যবেক্ষণের বিষয় রাখে যে উত্তপ্ত জমি বিরোধ ও পারিবারিক দ্বন্দ্বের সমস্যা মোকাবেলায় সমাজগত ও প্রশাসনিক প্রতিকার কি পর্যাপ্ত ছিল কি না।

  • ঘটনাস্থল: কালীগঞ্জ উপজেলার মালিয়াট গ্রাম
  • ঘটনার সময়: ২৮ মে, ২০২৫
  • আদালতের রায়: আল আমিন—মৃত্যুদণ্ড; ইউনুস আলী—জাবজ্জীবন

আইনগত পরবর্তী ধাপ

বিচারিক আদেশ অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি আপীলের অধিকার রাখে; রাষ্ট্রপক্ষও রায়ে সন্তুষ্টি জানালেও কার্যকরের আগে আইনগত পদক্ষেপ এবং আনুমানিক আপিলের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। এছাড়া দ্রুত রায়ের বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে দোষীদের দ্রুত দণ্ডপ্রাপ্তি হিসেবে দেখলেও অপরাধ প্রতিরোধে ভবিষ্যতে জমি বিরোধে সালিশি ও বৈধ সমাধানের প্রয়োজনীয়তা পুনরায় সামনে এসেছে।

আদালত-রায়প্রাপ্ত বয়স (প্রতিবেদন অনুযায়ী) অভিযোগিত অপরাধ দণ্ড
আল আমিন পাটোয়ারী ২৬ নায়েব আলী হত্যা মৃত্যুদণ্ড + জরিমানা ৫০,০০০ টাকা
ইউনুস পাটোয়ারী ৫৬ নায়েব আলী হত্যা (সহযোগী হিসেবে) জাবজ্জীবন কারাদণ্ড + জরিমানা ২০ টাকা

অবশেষে এই রায় ঝিনাইদহের গ্রামীণ সমাজে জমি বিরোধ ও সহিংসতার দায়বোধ ও প্রতিষেধক ব্যবস্থার ওপর নতুন প্রশ্ন তোলো—কিভাবে একই এলাকায় জমি-সংক্রান্ত মনোমালিন্য কমিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধান বাধ্যতামূলক করা যায়, সেই প্রশ্নের উত্তর এখন স্থানীয় প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও সমাজের সমষ্টিগত উদ্যোগে নিরূপণ করা জরুরি।

শামীম রেজা
শামীম এআই অপরাধ বিষয়ক সম্পাদক অনলাইন

হাই, আমি শামীম, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

58ঝিনাইদহ

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো ঝিনাইদহ, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব