ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার মান্দারবাড়িয়া ইউনিয়নের হুদা শ্রীরামপুর গ্রামে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে পঞ্চম শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে রবিউল ইসলাম (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে মহেশপুর থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারটি বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে করা হয়।
ঘটনা ও গ্রেপ্তারের বিবরণ
পুলিশের প্রাথমিক ঘটনাবলির অনুযায়ী, অভিযুক্ত রবিউল স্থানীয় মানুষের পরিচিত এক ব্যক্তি এবং তিনি মান্দারবাড়িয়া ইউনিয়নের হুদা শ্রীরামপুর গ্রামের রমজান আলীর ছেলে। ঘটনার দিন ওই শিশু স্থানীয় একটি মুদি দোকান থেকে বাড়ি ফিরছিল। পথিমধ্যে শিশুটি বাড়ির পেছনে থাকা কামরাঙ্গা গাছের নিচে পৌঁছালে সেখানে ওত পেতে থাকা রবিউল একা পেয়ে মেয়েটিকে যৌন হয়রানি করে।
শিশুটির চিৎকার শুনে আশপাশের মানুষ ঘটনাস্থলে এসে পড়ে; তখন অভিযুক্ত পালিয়ে যায়। ভুক্তভোগীর চাচা সুজন হোসেন বাদী হয়ে মহেশপুর থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন। এ অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুযায়ী মামলা রুজু করে পুলিশ।
"মামলা দায়েরের পরপরই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত রবিউলকে গ্রেপ্তার করা হয়।"
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, মামলার তদন্তভার দেয়া হয়েছে উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রাজ্জাককে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও পিসিআর যাচাই শেষে গ্রেপ্তারকৃতকে আদালতে পাঠানোর ব্যবস্থাপনা চলছে। পুলিশ বলেন, বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও শিশু মনস্তত্ত্ব বিষয়ক উদ্বেগ
এই ধরনের ঘটনা গোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও বাড়ির আশপাশে শিশুদের অব্যাহত চলাচল নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায়। পঞ্চম শ্রেণির ওই মেয়েটি মাত্র ১২ বছর বয়সী—শিশুর এনে-জেয়ে, আতঙ্ক-চিন্তা ও পরিবারের মানসিক চাপ বিবেচনায় আইনি ও মনোরোগীয় সহায়তার প্রয়োজন দেখা দেয়।
স্থানীয়দের জন্য কিছু ব্যবহারিক পরামর্শ:
- শিশুদের অসহনীয় পরিস্থিতি সম্পর্কে জানাতে ও খোলামেলা কথা বলতে উৎসাহিত করুন।
- বাচ্ছাদের আনার-জাওয়ার সময় কাছাকাছি কোনো আত্মীয় বা পরিচিত কাউকে রাখুন।
- অভিযুক্ত বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড দেখা গেলে দ্রুত থানায় বা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করুন এবং লিখিত অভিযোগ করুন।
আইনি প্রক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ ব্যবস্থা
মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী তদন্ত শেষে অভিযুক্তকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়সংগত বিচারের জন্য পুলিশ সহ প্রাসঙ্গিক কর্তৃপক্ষকে দ্রুত এবং পেশাদারভাবে কাজ চালাতে বলা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির আগে গত ২০১৬ সালে মহেশপুর থানায় মারামারি ও হামলার একটি ফৌজদারি মামলার রেকর্ডও আছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। এটি তদন্তে কাজে লাগতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| স্থান | মাহেশপুর থানা, মান্দারবাড়িয়া ইউনিয়ন, হুদা শ্রীরামপুর গ্রাম |
| ঘটনার সময় | মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা (প্রতিবেদন সূত্র) |
| ভিকটিম বয়স | ১২ বছর (পঞ্চম শ্রেণি) |
| গ্রেপ্তার | রবিউল ইসলাম (৪৫) |
স্থানীয় পরিবার, স্কুল ও সমুদাযকে আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন পুলিশ ও এলাকাবাসী। শিশুর মানসিক ও শারীরিক সুরক্ষার জন্য দ্রুত নির্ভরযোগ্য মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা ও দরকারি চিকিৎসা প্রদান করা উচিত।
হালনাগাদ তথ্য ও মামলার পরবর্তী অগ্রগতি সম্পর্কে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সূত্র থেকে নিয়মিতভাবে জানানো হবে বলে মহেশপুর থানার দায়িত্বশীলরা জানিয়েছেন।