ঝিনাইদহে সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকট ও গ্রিড সরবরাহ কম হওয়ার ফলে জেলার বিদ্যুৎ সরবরাহে তীব্র বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। জেলা থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রয়োজনীয়তার তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় দিনে গড় করে ১৩ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে, যা সেচ, মিল-কলকারখানা ও ঘরোয়া ব্যবহারকারীদের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।
চাহিদা বনাম সরবরাহ
জেলার বিদ্যুতের চাহিদি এবং গ্রিড থেকে সরবরাহের পার্থক্যকে কেন্দ্র করে সমস্যা। স্থানীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহে বিদ্যুতের চাহিদা আনুমানিক ৪০ মেগাওয়াট, কিন্তু জাতীয় গ্রিড থেকে বরাদ্দে পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৩০ মেগাওয়াট।
| বিবরণ | মান |
|---|---|
| আনুমানিক চাহিদা | ৪০ মেগাওয়াট |
| গ্রিড থেকে বরাদ্দ | ৩০ মেগাওয়াট |
| দৈনিক গড় লোডশেডিং | ১৩–১৪ ঘণ্টা |
কোন কোন খাতে প্রভাব পড়েছে
লোডশেডিংয়ের ফলে জেলা জুড়ে কয়েকটি মূল খাতে সমস্যা দেখা দিয়েছে:
- চলতি আমন মৌসুমে সেচ কাজ ব্যাহত, জমি প্রস্তুতি ও ধান রোপণের সময় সমস্যা বাড়ছে।
- মিল ও কলকারখানাগুলোতে উৎপাদন সংকুচিত হচ্ছে; চালকলও সবেভাবে চালু রাখতে পারছে না।
- সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, এবং বিদ্যুৎ নির্ভর যানবাহন চালকেরা দৈনন্দিন কার্যক্রমে ভোগান্তিতে পড়েছেন।
জনমত ও কর্তৃপক্ষের নানা বক্তব্য
বিভিন্ন নাগরিক ও ব্যবসায়ী অভিযোগ করছেন লোডশেডিংয়ের মাত্রা বাড়ছে এবং কার্যকর কোনো সমাধান দেখা যাচ্ছে না। আরাপপুর এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা মাহমুদুর রহমান বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে লোডশেডিং "মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে"—এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকার পর দেড় থেকে দুই ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ বন্ধ থাকে, এতে শিশু ও অসুস্থদের সঙ্গে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। শালিয়া গ্রামের আব্দুল মান্নান জানান, গ্রামে এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে পরবর্তী দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা বিদ্যুৎ নেই, ফলে সেচ প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না।
"বিদ্যুৎ কয়েকদিন ধরে কম পাওয়া যাচ্ছে। এতে করে মিল চালাতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।"
অন্যদিকে, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম প্রকৌশলী মোহাম্মদ ওমর আলী সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ঝিনাইদহে কোনো লোডশেডিং বা বিদ্যুতের ঘাটতি নেই; যা পাওয়া যাচ্ছে ততটুকুই বিতরণ করা হচ্ছে এবং লোডশেডিং অসহনীয় পর্যায়ে নেই।
কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকি
ওজোপাডিকো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘাটতি পুষিয়ে দিতে তারা রেশনিং পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালাচ্ছে। যার ফলে একই সঞ্চালন লাইনে দিনে ৯ থেকে ১০ বার লোডশেডিং হতে দেখা গেছে। গতকালের সন্ধ্যায় জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও গ্রাহকদের অধিকাংশই সেটি পর্যাপ্ত বলে মনে করছেন না।
কৃষি মৌসুমকালীন সেচ ব্যাহত হলে ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে পারে—বিশেষ করে আমন রোপণের সময় এখনই জমি প্রস্তুত ও সেচ জরুরি। মিল-কলকারখানার উৎপাদন কমলে স্থানীয় শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা ও আয়েও প্রভাব পড়বে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিকে ঠেলে দিতে পারে।
কি চাইছেন স্থানীয়রা
স্থানীয়রা দ্রুত এবং স্থায়ী সমাধান চাইছেন—যেমন: অতিরিক্ত ব্যাকআপ সরবরাহ, কল-কারখানার জন্য নির্দিষ্ট সময়ে বিশেষ সার্কিট বরাদ্দ, এবং কৃষকদের সেচের জন্য অল্প হচ্ছে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন বিশেষ ব্যবস্থায় কল-কারখানাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ালে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান রক্ষা পেত।
বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যেই পরিষ্কার যে, ঝিনাইদহে বিদ্যুৎ সুনিশ্চিত না হলে কৃষি ও শিল্পখাত দুইই দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জেলার ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ও জাতীয় গ্রিডের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো না হলে সমস্যা টালাসই হবে—সমাধান নয়।