ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও এডিস মশা নিধনে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে জয়পুরহাটে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) ক্যাডেটদের অংশগ্রহণে র্যালি ও মশক নিধন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) জেলার তিনটি সরকারি কলেজের মোট ৭০ জন ক্যাডেট এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।
কর্মসূচি কীভাবে আয়োজন করা হলো
দুপুর ১২টায় জয়পুরহাট সরকারি কলেজ ক্যাম্পাস থেকে বর্ণাঢ্য র্যালিটি বের হয়। র্যালিটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় কলেজ ক্যাম্পাসে এসে শেষ হয়। র্যালিটি উদ্বোধন করেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এ.কে.এম. শফিকুল ইসলাম। র্যালি চলাকালে ক্যাডেটরা জনসম্মুখে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় ও এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস করার বিষয়ে সচেতনতামূলক বক্তব্য দেন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করেন।
র্যালি শেষ—পরবর্তীতে মশক নিধন কার্যক্রম
র্যালি শেষে কলেজ ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় কীটনাশক স্প্রে করা হয় এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের মাধ্যমে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। কর্মসূচিতে ক্যাডেটরা ঘরের আশপাশ ও খেলার মাঠসহ জল জমা হয় এমন স্থান পরিচ্ছন্ন করার কাজেও অংশ নেয়।
অধিকারের বক্তব্য ও নেতৃত্ব
এই কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন ৩৩ বিএনসিসি ব্যাটালিয়নের ব্যাটালিয়ন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কাজী ইমরুল কায়েস এবং কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট আবু রেজা আমিনুর রহমান মোহাম্মদ সুইট। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সামরিক প্রশিক্ষক সার্জেন্ট মো. মোতালেব হোসেন এবং ক্যাডেট আন্ডার অফিসার (সিইউও) সেজুয়ান।
- অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান: জয়পুরহাট সরকারি কলেজ, জয়পুরহাট সরকারি মহিলা কলেজ, পাঁচবিবির মহীপুর হাজী মহসিন সরকারি কলেজ
- অংশগ্রহণকারী ক্যাডেট: মোট ৭০জন
- অবস্থান ও সময়: জয়পুরহাট সরকারি কলেজ ক্যাম্পাস থেকে দুপুর ১২টা
স্বাস্থ্যবিধি ও স্থানীয় নির্দেশনা
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতারা স্থানীয় বাসিন্দাদের তাদের নিজ নিজ বসতবাড়ি এবং আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান। বিশেষত যেখানে পানি জমে থাকে সেসব স্থান খুঁজে তা মুছতে বা ঢেকে রাখার পরামর্শ দেয়া হয়—কারণ এডিস মশা ছোট পাত্রে জমে থাকা পানি-এইডিইতে বংশবিস্তারের জন্য উপযুক্ত স্থান।
স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কৃত্রিমভাবে মশা নিয়ন্ত্রণও জরুরি, কিন্তু তা-ই একমাত্র সমাধান নয়; জনসচেতনতা, আবর্জনা ব্যবস্থাপনা ও আবাসিক পর্যায়ে নিয়মিত তদারকি সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
স্থানীয় প্রভাব ও সম্ভাব্য ফলাফল
স্থানীয়ভাবে এমন ধরনের র্যালি ও মশক নিধন কর্মসূচি তাত্ক্ষণিকভাবে এডিস মশার প্রজনন ক্ষমতা কমাতে সাহায্য করে এবং মানুষকে ব্যক্তিগতভাবে সচেতন করে তোলে। দীর্ঘমেয়াদে নিয়মিত প্রতিরোধমূলক কাজ না থাকলে মশার সংখ্যা আবার বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই স্বাস্থ্য বিভাগের এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ে এই ধরনের কর্মসূচি নিয়মিত করা জরুরি।
যাদের কাছ থেকে সহায়তা নেওয়া উচিত
ডেঙ্গু প্রতিরোধে অনলাইন ও অফলাইন উভয় মাধ্যমেই জনজাগরণ দরকার। সাধারণ মানুষ, স্কুল-কলেজ, পৌরসভা ও স্থানীয় কাউন্সিল—এসব প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করে নিম্নোক্ত কাজগুলো অব্যাহত রাখা প্রয়োজন:
- নিয়মিত আবর্জনা ব্যবস্থাপনা ও খোলা পানির উৎস বন্ধ রাখা
- কমিউনিটি-ভিত্তিক স্প্রে ও লার্ভা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম
- শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ও কর্মীদের প্রশিক্ষণ
জয়পুরহাটে অনুষ্ঠিত此次 র্যালি ও মশক নিধন কার্যক্রমটি একটি সতর্কতাসূচক পদক্ষেপ হিসেবে মূল্যায়িত হচ্ছে, তবে এটি সফল হওয়ার জন্য নিয়মিত তৎপরতা, পর্যাপ্ত সরঞ্জাম ও সম্প্রদায়-ভিত্তিক অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।