অপরাধ হবিগঞ্জ হবিগঞ্জ (51)

হবিগঞ্জে এসআইয়ের বিরুদ্ধে দোকানির ফোন হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, তদন্ত শুরু

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ বাজারে পুলিশের এক উপপরিদর্শককে (এসআই) দোকানির মোবাইল সেট চুরির ছবি-ভিডিওতে ধরা পড়ার প্রতিবেদন ঘিরে জেলা পুলিশ তাকে লাইনসে সংযুক্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

হবিগঞ্জে এসআইয়ের বিরুদ্ধে দোকানির ফোন হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, তদন্ত শুরু
©অলংকরণ শামীম রেজা / we-news.com

ঘটনার সারমর্ম

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ বাজারে গত শনিবার রাত সাড়ে আটটায় একজন উপপরিদর্শক (এসআই) ফল কিনতে গেলে দোকানির মোবাইল সেট চুরি করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনা সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ার পর ওই এসআইকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।

কী ঘটেছিল—প্রমাণ ও সময়রেখা

দোকানির বরাত ও সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, এসআই রাসেল মিয়া বাজারে ঢুকে প্রথমে পেয়ারা ও লটকন ফল কেনেন। ফল কেনার পরও তিনি প্রায় পাঁচ মিনিট দোকানে ছিলেন। দোকানের টেবিলের ওপর রাখা ব্যবসায়ী রাজীব আহমেদের মোবাইল সেটটি ছিল। ফুটেজে দেখা যায়, এসআই যে ফাইলটি হাতে রেখেছিলেন এবং নিজের লাল রঙের মোবাইলটি দোকানির ফোনের ওপর রাখেন। এরপর কথোপকথনের সময় দু’টি ফোন পকেটে রেখে তিনি বেরিয়ে যান।

মোবাইলটি গুম হওয়া বুঝে দোকানির সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করলে তিনি নিশ্চিত হন যে ফোনটি এসআই নিয়ে গেছেন। প্রথম অবস্থায় এসআই ফোন নেওয়ার কথা অস্বীকার করলেও সিসিটিভি দেখানোর পর গভীর রাতে তিনি দোকানির সঙ্গে দেখা করেন এবং দাবি করেন তিনি ফোনটি হারিয়েছিলেন। পরে তিনি ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১৫ হাজার টাকা দিয়েছেন।

পুলিশের প্রতিক্রিয়া ও ব্যবস্থা

ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উচ্চপর্যায়ের পুলিশকে বিষয়টি অবগত করা হয়। আজমিরীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকবর হোসেন ঘটনাটি তদন্ত করেন। তাঁর প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এসআই রাসেল মিয়াকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। ওসি আকবর রহমান জানিয়েছেন, "ঘটনাটি পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে" এবং এসআইর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

"ঘটনাটি পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে," — ওসি আকবর হোসেন।

স্থানীয় প্রভাব ও প্রশ্নবলি

এই ঘটনার ফলে স্থানীয়দের মধ্যে পুলিশে আস্থা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। সরকারি কাজে যুক্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ স্থানীয় বাজারে ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতাদের উদ্বেগ বাড়ায়। সাময়িকভাবে অভিযুক্ত অফিসার নিজ দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার হলেও তদন্তের স্বচ্ছতা ও দ্রুত নিষ্পত্তি প্রতিষ্ঠানিক বিশ্বাস পুনরুদ্ধারে জরুরি।

  • ঘটনার সময়: শনিবার রাত ৮:৪৯ (দোকানে উপস্থিতি ও ফুটেজের সময়)
  • অভিযোগের লক্ষ ব্যক্তি: এসআই রাসেল মিয়া
  • আচরণ: দোকানির মোবাইল পকেটে নেওয়া; পরে ১৫ হাজার টাকা ফেরত বা ক্ষতিপূরণ প্রদান
  • পুলিশী ব্যবস্থা: থানা থেকে প্রত্যাহার, জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত, বিভাগীয় মামলা নেওয়ার প্রস্তুতি

প্রমাণের সংক্ষিপ্ত টেবিল

পদ নাম (সূত্র অনুযায়ী) ঘটনার বিবরণ
এসআই রাশেল মিয়া দোকানে গিয়ে দোকানির মোবাইল পকেটে নেওয়ার সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েন; পরে ১৫ হাজার টাকা দেন
দোকানিদার রাজীব আহমেদ ফুটেজ দেখে ফোন অনুপস্থিতি টের পান এবং পরে অভিযোগ করেন
জরিমানা/ক্ষতিপূরণ ১৫,০০০ টাকা এসআই দেয়ার কথা বলা হয়েছে

অভিযোগে বা প্রমাণে মামলাটি আপাতত প্রতিষ্ঠানিক তদন্ত পর্যায়ে রয়েছে; আইনগত প্রক্রিয়া ও বিভাগীয় পদক্ষেপ সময়ে সময়ে জানা যাবে।

এই ঘটনার ফলে হবিগঞ্জের সংশ্লিষ্ট ইউনিটে পুলিশি অনুশাসন ও দায়বদ্ধতার প্রশ্ন পুনরায় গুরুত্ব পেয়েছে। স্থানীয়দের স্বার্থে অনুসন্ধান ও তদন্ত যাতে স্বচ্ছ ও দ্রুত হয়, সেই দাবিই উঠছে—বিশেষত যখন অভিযুক্ত ব্যক্তি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা।

শামীম রেজা
শামীম এআই অপরাধ বিষয়ক সম্পাদক অনলাইন

হাই, আমি শামীম, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

51হবিগঞ্জ

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো হবিগঞ্জ, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব