গাজীপুর সাফারি পার্কে গত কয়েক দিনের মধ্যে দুটি হাতি মারা গেছে। পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাদের মৃত্যু নিশ্চিত করে জানান যে, এক হাতি দীর্ঘদিনের আঘাত ও জটিল চিকিৎসা স্বত্ত্বেও প্রাণ হারায় এবং অপরটি ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।
ঘটনার সূচনা ও আহত হাতিটি — রাজু বাহাদুর
পার্ক সূত্রে জানা যায়, রাজু বাহাদুর নামের হাতিটি গত বছর এলাকার কাঁচপুর থেকে উদ্ধার করে ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে গাজীপুর সাফারি পার্কে আনা হয়েছিল। উদ্ধারকালে তার বয়স আনুমানিক ৯ বছর ছিল। পরবর্তীতে প্রাণীটিকে হাতিশালায় রক্ষা করে রাখা হয়েছিল।
গত ২৪ মে পার্কের একই আইলে থাকা অন্য একটি হাতি জয়িতা রাজু বাহাদুরকে আক্রমণ করে। আঘাতে রাজু বাহাদুর মাটিতে পড়ে যায় এবং তার একটি পা ভেঙে যায়। আহত হাতিটির চিকিৎসার জন্য স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করা হয়। চিকিৎসার কার্যক্রমের অংশ হয়ে গঠিত হয় একাধিক মেডিকেল বোর্ড; থাইল্যান্ড থেকে বিশেষজ্ঞ দল আনা হয় এবং শ্রীলঙ্কার চিকিৎসকদের সঙ্গেও পরামর্শ নেওয়া হয়েছিল।
চিকিৎসা এবং মৃত্যুর দিনগুলো
অধিকারের বরাত দিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘ চিকিৎসা সত্ত্বেও রাজু বাহাদুরের অবস্থা ধারাবাহিকভাবে আশঙ্কাজনক ছিল। গত ৭ আগস্ট (শুক্রবার) সকালে পার্কের হাতিশালায় রাজু বাহাদুরকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। একইসঙ্গে পার্কে আরেকটি হাতি গত ৬ আগস্ট রাতে মারা যায়; পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে ওই হাতিটি ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত ছিল।
বাহ্যিক পদক্ষেপ ও নমুনা পরীক্ষা
দুটি হাতির মৃত্যুর পরে পার্ক কর্তৃপক্ষ তাদের দেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে। পরে যথাযথ অনুমতি নিয়ে মৃত হাতিদের পার্কের ভেতরই মাটি চাপা দেওয়া হয়। বর্তমানে পার্কে মোট হাতির সংখ্যা ৮টি রয়েছে — মৃত দুটি বাদ দিলে।
- শেকলে বাঁধা অবস্থায় আঘাতপ্রাপ্ত হাতি: রাজু বাহাদুর (উদ্ধার: ২০২৫ সালের জানুয়ারি, বয়স তখন ~৯ বছর)
- যে আক্রমণে পা ভেঙে যায়: ঘটনার তারিখ ২৪ মে — হামলাকারী হাতি: জয়িতা (৪ বছর)
- মৃত্যুর তারিখ: এক হাতি ৬ আগস্ট, অপরটি ৭ আগস্ট
পার্ক কর্তৃপক্ষ জানায় যে, রাজু বাহাদুরের চিকিৎসায় থাইল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হয়েছিল এবং দেশের অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি মেডিকেল বোর্ড নিয়মিত তত্ত্বাবধানে ছিলেন। তথাপি শেষ পর্যন্ত প্রাণহানি রোধ করা সম্ভব হয়নি।
লোকাল প্রভাব ও প্রশ্নাবলি
দুইটি হাতির মৃত্যু গাজীপুর সাফারি পার্কের প্রাণিকোষ ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা প্রসঙ্গে নানা প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। স্থানীয়রা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন যে— বন্যপ্রাণীর পরিচর্যা, আইল নির্মাণ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার ব্যবস্থায় কোথায় দুর্বলতা ছিল এবং ভবিষ্যতে একই রকম ঘটনা রোধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পার্কে হাতি-সংখ্যালঘু হওয়ার ফলে পরিবেশগত ও দর্শকসংক্রান্ত নিয়ন্ত্রণেও প্রভাব পড়তে পারে। বন ও পরিবেশ বিভাগের পরবর্তী পর্যায়ের নির্দেশনা, পার্ক কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদনের ফলাফল এবং ল্যাব পরীক্ষার রিপোর্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধারকালে রাজু বাহাদুরকে কাঁচপুর এলাকা থেকে আনা হয়েছিল; এরপর থেকে পার্কের চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল এ প্রাণিটি। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্তি থাকলেও আঘাত ও সংক্রমণ জটিলতার কারণে চিকিৎসা ব্যর্থ হয়েছে।
এ ঘটনায় পার্ক কর্তৃপক্ষ যে নমুনা ল্যাবে পাঠিয়েছে তার রিপোর্ট আসলেই পরবর্তী নীতিগত সিদ্ধান্তগুলো নির্ধারিত হবে— রোগ শনাক্তকরণ, প্রতিরোধমূলক টিকা, আইল ও আলাদা রুমে রাখার নির্দেশ এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য ব্যবস্থার ওপর।
এই প্রতিবেদন তৈরির সময় পার্ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আরো বিস্তারিত মন্তব্যের চেষ্টা করা হলেও অফিসিয়াল বিবৃতির বাইরে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ভবিষ্যতে ল্যাব রিপোর্ট, মেডিকেল বোর্ডের চূড়ান্ত মূল্যায়ন ও বন বিভাগ বা সাফারি পার্ক ম্যানেজমেন্টের কার্যনির্বাহী সিদ্ধান্তগুলো গাজীপুরবাসী ও দর্শকদের জানানো হবে।
গাজীপুর থেকে সোমবার সংবাদ সংগ্রহ করা হয়েছে।