গাজীপুর সাফারি পার্কের হাতিশালায় এক সপ্তাহের মধ্যে দুটি হাতির মৃত্যু ঘটেছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ৬ আগস্ট রাতে এক হাতি ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায় এবং পরের দিন সকালে পার্কের একই হাতিশালায় গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকা আরেকটি হাতি—রাজু বাহাদুর—কে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
চিকিৎসা ও উদ্ধারকাজ
পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমান মুঠোফোনে বলেছেন যে, চলতি বছরের ২৪ মে পার্কের হাতিশালায় শেকলে বাঁধা ১০ বছর বয়সী রাজু বাহাদুরকে তাকের (জয়িতা নামের) অন্য একটি হাতি হামলা করে। হামলায় রাজুর একটি পা ভেঙে যায় এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। আহত হাতিটির চিকিৎসার জন্য একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয় এবং থাইল্যান্ড থেকে বিশেষজ্ঞ বন্যপ্রাণী চিকিৎসক ডাকা হয়। এছাড়া শ্রীলঙ্কার চিকিৎসকদের সঙ্গেও পরামর্শ নেওয়া হয়।
“চলতি বছরের ২৪ মে পার্কের হাতিশালায় শেকলে বাঁধা ১০বছর বয়সী রাজু বাহাদুরের উপর হামলা করে ৪বছর বয়সী হাতি জয়িতা। আক্রমণে রাজু বাহাদুরের একটি পা ভেঙ্গে যায়।”
তবে গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে রাজু বাহাদুরকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তারেক রহমান জানিয়েছেন, ইতোমধ্যেই মৃত হাতি দুটির দেহের নমুনা পরিবেশগত ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। পার্ক কর্তৃপক্ষ অনুমতি নিয়ে মৃত দুটি হাতিকে পার্কের ভেতরে মাটি চাপা দিয়ে দাফন করেছে।
পিঠে থাকা প্রশ্নগুলো
এই ঘটনার ফলে উঠে এসেছে পার্কে হাতিদের স্বাস্থ্য-পরিচর্যার স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা বিষয়ে উদ্বেগ। সূত্রে জানানো হয়েছে, রাজু বাহাদুরকে উদ্ধারের সময় তার বয়স ছিল নয় বছর; পরে সে পার্কের হাতিশালায় আশা-নিপর্যায়ের মধ্যে হাসপাতালে ও বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলছিল। তবু চিকিৎসার পরও সে মারা যায়—এটি স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্নের উদ্রেক করেছে যে, চিকিৎসা ব্যবস্থার পর্যাপ্ততা ছিল কি না এবং শেকলে বাঁধার মতো পরিস্থিতি কি পুনরায় ঘটছে না।
- মৃত্যুর তারিখ: প্রথম হাতি ৬ আগস্ট রাতে, দ্বিতীয় হাতি ৭ আগস্ট সকালে।
- হাতির নাম: রাজু বাহাদুর (মৃত), জয়িতা (হামলাকারীর নাম হিসেবে আলোচিত)।
- বর্তমান হাতির সংখ্যা: পার্কে বর্তমানে ৮টি হাতি রয়েছে।
পার্ক কর্তৃপক্ষ ঘটনার জন্য শ্রীপুর থানায় পৃথক সাধারণ ডায়েরি করেছে। এছাড়া বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের তথ্য অনুযায়ী, রাজু বাহাদুরকে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর এলাকা থেকে উদ্ধার করে সাফারি পার্কে আনা হয়েছিল। তখন রাজুর বয়স ছিল ৯ বছর।
স্থানীয় প্রভাব ও পরবর্তী করণীয়
গাজীপুর সাফারি পার্ক স্থানীয় পর্যটন ও বিনোদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থান। পার্কে প্রাণীর মৃত্যুর ঘটনা দর্শক, কর্মচারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জন্য উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে। এখন যে প্রশ্নগুলো উঠে এসেছে—আক্রান্ত হাতিটির চিকিৎসা ও আপৎকালীন সেবা কত দ্রুত এবং সমন্বিতভাবে পরিচালিত হয়েছে; শেকলে বাঁধা থাকার মতো পরিস্থিতি পুনরাবৃত্তি রোধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে—এসবের জবাব দাবী করছেন কয়েকজন পশুপ্রেমী ও স্থানীয়রা।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে তারা ল্যাব রিপোর্ট পাওয়ার পর নিহত হাতিদের মৃত্যের সঠিক কারণ চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করবে এবং প্রয়োজনে রোগপ্রতিরোধ ও পশুস্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন বিষয়ক পরবর্তী পরিকল্পনা গ্রহণ করবে। বর্তমানে পার্কে আর কতদিনের জন্য বা কীভাবে অতিরিক্ত বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করা হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা আলোচিত হয়নি।
এই ঘটনার পর কিভাবে পার্কের নিরাপত্তা, পশু চিকিৎসা ও দর্শক উভয়ের স্বার্থে ব্যবস্থা নেওয়া হবে—সেটাই এখন স্থানীয় সংঘঠিতদের এবং কর্তৃপক্ষের কাছে সবচেয়ে তাত্পর্যপূর্ণ প্রশ্ন। স্থানীয় প্রশাসন ও বন বিভাগ থেকে পাওয়া আনুষ্ঠানিক তথ্যে ভবিষ্যতে পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা দিলে স্থানীয়দের উদ্বেগ কিছুটা শমাতে পারে।
গাজীপুর সংবাদদাতা, WE NEWS