গাজীপুর সাফারি পার্কে একদিনের ব্যবধানে দুটি হাতির মৃত্যু ঘটেছে বলে পার্ক কর্তৃপক্ষ বুধবার (১২ আগস্ট) নিশ্চিত করেছে। পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমান জানান, এক হাতি দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাধীন ছিল; অপরটি ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের কারণে অসুস্থ হয়ে মারা গেছে।
ঘটনার সারমর্ম
পার্ক সূত্রে জানা গেছে, প্রথম মৃত হাতিটি—নাম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে রাজু বাহাদুর—কয়েক মাস ধরে চিকিৎসাধীন ছিল। গত ২৪ মে, হাতিশালায় বাঁধা অবস্থায় থাকা অবস্থায় এক তরুণ হাতি জয়ীতা রাজুর ওপর হামলা করে। ওই ঘটনার ফলে রাজুর পা ভেঙে যায় এবং পরবর্তী সময়ে অবস্থার অবনতি দেখা দেয়। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে এবং থাইল্যান্ড থেকে পাঠানো বন্যপ্রাণী চিকিৎসক দলের সহযোগিতায় রাজু বাহাদুরকে চিকিৎসা ও যত্ন দেয়া হয়েছিল। সেই প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ৭ আগস্ট রাজু বাহাদুর মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
অন্যদিকে, আরেকটি হাতি ৬ আগস্ট রাতে ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে মারা যায়। পার্ক কর্তৃপক্ষ মৃতদেহের নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠিয়েছে যাতে মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয় করা যায়। বর্তমানে পার্কে মোট ৮টি হাতি রয়েছে।
“রাজু বাহাদুরকে সুস্থ করে তুলতে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা ও পরিচর্যা চালানো হয়েছিল। তবে সব ধরনের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ৭ আগস্ট সকালে হাতিটি মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
পার্কের প্রশাসনিক ও চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রশ্ন
দুই হাতির মৃত্যু নিয়ে স্থানীয় প্রাণীপ্রেমী ও সংশ্লিষ্টরা উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে এক হাতি দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকা সত্ত্বেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি এবং অপরটি সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে দ্রুত মারা গেছে—এতে পার্কের ভেটেরিনারি ব্যবস্থাপনা, ইনফেকশন নিয়ন্ত্রণ এবং হাতিদের আলাদা রাখার নীতিমালা কার্যকর ছিল কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
তথ্য অনুযায়ী, রাজু বাহাদুরকে চিকিৎসার জন্য একাধিক মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছিল এবং বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করা হয়। পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন যে, প্রয়োজনে শ্রীলঙ্কারও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ নেয়া হয়েছিল। তদন্ত শেষে ল্যাবরেটরি রিপোর্টে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া না পর্যন্ত বিস্তারিত মন্তব্য করার আগেই এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব নয়।
উপস্থিত তথ্য ও করণীয়
- ডাইরেক্ট তথ্য: দুই হাতির মৃত্যু: ৬ ও ৭ আগস্ট।
- চিকিৎসা ও পরামর্শ: দেশি ও বিদেশি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেয়া হয়েছিল, থাইল্যান্ড থেকে চিকিৎসক দল নিয়ে আসা হয়েছে।
- নমুনা পরীক্ষা: মৃতদেহের নমুনা ল্যাবে পাঠানো হয়েছে; রিপোর্টের ওপর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে।
স্থানীয় প্রশাসন ও পার্ক কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করতে এবং সামনের দিনগুলোতে প্রাণীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপত্তা জোরদার করতে নির্দিষ্ট করণীয় গ্রহণ করতে।
| তারিখ | হাতির নাম/পরিচিতি | সংক্ষেপে ঘটনা |
|---|---|---|
| ৬ আগস্ট | অবহিত | রাতে ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু |
| ৭ আগস্ট | রাজু বাহাদুর (দীর্ঘ চিকিৎসাধীন) | আগামী সময়ে অবনতি; মৃতদেহ পাওয়া হয়েছে |
স্থানীয় প্রভাব ও মনোভাব
সাফারি পার্কটি এলাকার দূর্গম না হলেও প্রতিবেশী এলাকা ও দর্শকদের জন্য প্রিয় একটি স্থান। হাতিদের মৃত্যু পার্কের দর্শক সংখ্যাকে প্রভাবিত করতে পারে এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ নিয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। প্রাণীপ্রেমীরা দ্রুত প্রকৃত কারণে অবগত হওয়া এবং ভবিষ্যতে এমন অনভিপ্রেত ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পরিকল্পনা চেয়েছেন।
পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ল্যাব রিপোর্ট আসলে তা প্রকাশ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে আক্রান্ত জনসংখ্যা, জীবাণুনাশক নীতি, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষিত স্টাফ নিয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।
গাজীপুর সাফারি পার্কের এই ঘটনায় স্থানীয় সমাজ, প্রাণীসংরক্ষণ কর্মী ও প্রশাসন মিলিয়ে যে রিপোর্ট ও সুপারিশ আসবে তা ভবিষ্যতে পার্ক পরিচালনা ও হাতে-পায়ে কাজ করা ভেটেরিনারিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা হয়ে উঠবে।
রিপোর্ট: শাহনাজ পারভীন, গাজীপুর প্রতিনিধি