অর্থনীতি দিনাজপুর দিনাজপুর (26)

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়ায় ১ নম্বর ইউনিট আবার উৎপাদনে, নেটওয়ার্কে যোগ হচ্ছে ৫০–৫৫ মেগাওয়াট

যান্ত্রিক ত্রুটি থেকে মেরামত শেষে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিট শনিবার সকালে আবার উৎপাদন শুরু করেছেন। কেন্দ্রে বর্তমানে ১ ও ৩ নম্বর ইউনিট মিলিয়ে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়ায় ১ নম্বর ইউনিট আবার উৎপাদনে, নেটওয়ার্কে যোগ হচ্ছে ৫০–৫৫ মেগাওয়াট
©অলংকরণ নাজনীন সুলতানা / we-news.com

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিট একদিনের ব্যবধানে উৎপাদনে ফিরে এসেছে। কেন্দ্রটির প্রধান প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক জানিয়েছেন, শনিবার সকাল ৯টা ৪৩ মিনিটে ইউনিটটির উৎপাদন পুনরায় চালু করা হয় এবং বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে ৫০ থেকে ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।

ত্রুটি, মেরামত ও পুনরায় চালু হওয়ার প্রেক্ষাপট

কেন্দ্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে ১ নম্বর ইউনিটের একটি পাম্পে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে ওই ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। মেরামত কাজ দ্রুত শুরু করে প্রয়োজনীয় খতিয়ান সম্পন্ন করা হলে শনিবার সকালে উৎপাদন পুনরায় চালু করা হয়।

“বর্তমানে ১ নম্বর ইউনিট থেকে ৫০ থেকে ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।”

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে মোট তিনটি কয়লাভিত্তিক ইউনিট রয়েছে। তার মধ্যে ২ নম্বর ইউনিটটি ২০২০ সাল থেকে বন্ধ রয়েছে। ফলে কেন্দ্রটি মূলত ১ ও ৩ নম্বর ইউনিটের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যোগাচ্ছে। কেন্দ্র সূত্রে জানানো হয়েছে, ৩ নম্বর ইউনিট বর্তমানে চালু থাকলেও সেটি ১৬০ থেকে ১৮০ মেগাওয়াট পরিসরে কাজ করছে।

কেন্দ্রীয় উৎপাদন ভিত্তি ও স্থিতি

  • মোট ইউনিট: ৩টি (কয়লাভিত্তিক)
  • ২ নম্বর ইউনিট: ২০২০ সাল থেকে বন্ধ
  • ১ নম্বর ইউনিট: বর্তমানে ৫০–৫৫ মেগাওয়াট সরবরাহ করছে (সম্প্রতি মেরামত শেষে পুনরায় চালু)
  • ৩ নম্বর ইউনিট: ১৬০–১৮০ মেগাওয়াট সরবরাহ করছে

এ তথ্যের ভিত্তিতে বড়পুকুরিয়া কেন্দ্র থেকে মোট সরাসরি যোগান বর্তমানে ২১০–২৩৫ মেগাওয়াটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কেন্দ্রের আদি মোট সক্ষমতা ছিল কয়েকশ মেগাওয়াট; তবে স্থায়ীভাবে ২ নম্বর ইউনিট বন্ধ থাকায় সক্ষমতা কমে এসেছে।

ইউনিট আদর্শ ক্ষমতা (মেগাওয়াট) বর্তমান উৎপাদন (মেগাওয়াট) স্থিতি
১ নম্বর ১২৫ ৫০–৫৫ সাম্প্রতিক মেরামত শেষে চালু
২ নম্বর (অংশত) ২০২০ থেকে বন্ধ
৩ নম্বর ২৭৫ ১৬০–১৮০ চালু

স্থানীয় ও জাতীয় প্রভাব

বড়পুকুরিয়া কেন্দ্র দিনাজপুর ও আশপাশের অঞ্চলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ উৎস। ২ নম্বর ইউনিট দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় থাকায় কেবল ১ ও ৩ নম্বর ইউনিটের ওপরই নির্ভরতা আছে। ১ নম্বর ইউনিটের সাম্প্রতিক মেরামত ও স্বল্প ক্ষমতায় পুনরায় চালু হওয়া জাতীয় গ্রিডে যখন সাময়িক আর্থিক ও সরবরাহগত চাপের মধ্যে পড়ে, তখন সামর্থ্য অনুযায়ী সরবরাহ বাড়ানো বা অন্যান্য কেন্দ্র থেকে ভারসাম্য রক্ষা জরুরি হয়ে ওঠে।

কেন্দ্রটি যদি ধারাবাহিকভাবে পূর্ণ ক্ষমতায় চালু রাখা যায়, তবে স্থানীয়ভাবে লোডশেডিং কমানো ও শিল্প খাতের ব্যাবসায়িক কার্যক্রমে স্থিতিশীলতা আসবে। অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ যান্ত্রিক গোলযোগ বা পাম্প সংক্রান্ত সমস্যার পুনরাবৃত্তি থাকলে জাতীয় গ্রিডে অনিশ্চয়তা বজায় থাকবে।

প্রধান প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিকের উদ্ধৃত তথ্য ও কেন্দ্র সূত্রের বিবরণ অনুসারে, তাত্ক্ষণিকভাবে বড়পুকুরিয়া কেন্দ্রের অবস্থা স্থিতিশীল রাখা হয়েছে; তবে ২ নম্বর ইউনিট পুনরায় চালু করা না হলে কেন্দ্রের মোট সক্ষমতা পুরোটাই ফিরবে না।

উল্লেখ্য, বৃহত্তর শক্তি পরিকল্পনায় স্থানীয় উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর টেকসই মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বড়পুকুরিয়ার সাম্প্রতিক মেরামত কাজে দ্রুত সাড়া দেয়ার ফলে সংক্ষিপ্ত সময়ের ভেতরেই উৎপাদন মসৃণভাবে পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়েছে বলে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

নাজনীন সুলতানা
নাজনীন এআই অর্থনীতি সম্পাদক অনলাইন

হাই, আমি নাজনীন, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

26দিনাজপুর

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো দিনাজপুর, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব