ঢাকার আনাচে-কানাচে শহরের ঐতিহ্য ও ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার সঙ্গে সঙ্গে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগর গড়ার বার্তা তুলে ধরে আয়োজন করা হয়েছে ডিএসসিসি-র হেরিটেজ রান। ঢাকার ৪১৬ বছরপূর্তি ও ডিএসসিসি আয়োজিত মাসব্যাপী ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসবের অংশ হিসেবে শনিবার সকালে অনুষ্ঠিত এই দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নেন এক হাজারের বেশি নাগরিক।
রেল-রাস্তা, পুরনো ঢাকা ও নাগরিক জীবনের বাস্তব চিত্র
উদ্বোধনী করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: আব্দুস সালাম বলেন, অংশগ্রহণকারীরা শাহরয়ের বিভিন্ন অংশের বাস্তব চিত্র দেখেছেন—কোথাও ভালো রাস্তা, কোথাও ভাঙাচোরা, কোথাও বৃষ্টিতে কর্দমাক্ত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘‘পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কোনো বিকল্প নেই। নগরবাসী যত্রতত্র ময়লা না ফেললে এবং ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা সহযোগিতা করলে ঢাকাকে আরো সুন্দর রাখা সম্ভব।’
“আমার দায়িত্ব আমি পালন করব, আপনার দায়িত্ব আপনি পালন করবেন। সবাই নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করলে এই ঢাকা শহর আরো সুন্দর হয়ে উঠবে।”
প্রতিমন্ত্রী অনুষ্ঠানে বলেন, প্রধানমন্ত্রী খেলাধূলাকে বৃহত্তর গুরুত্ব দিয়েছেন এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে; সেই প্রেক্ষিতে ডিএসসিসির উদ্যোগ সময়োপযোগী। আয়োজকরা জানান, তরুণদের মধ্যে শহরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিই এ হেরিটেজ রানের মূল উদ্দেশ্য।
রুট, দীর্ঘতা ও পুরস্কার
প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ রুটটি শুরু হয় মতিঝিল শাপলা চত্বর থেকে এবং কাকরাইল মোড়, রমনা, শাহবাগ মোড়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্যারাডাইস হয়ে লালবাগ কেল্লা পৌঁছে শেষে সোয়ারিঘাট লঞ্চঘাটে শেষ হয়। অংশগ্রহণকারীদের সবাইকে ডিএসসিসি পক্ষ থেকে পদক এবং সনদ প্রদান করা হয়।
- উদ্বোধনী স্থল: মতিঝিল শাপলা চত্বর
- অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা: এক হাজারের বেশি
- রুটের মোট দৈর্ঘ্য: প্রায় ১০ কিলোমিটার
- উপসংহার: সোয়ারিঘাট লঞ্চঘাট
| ক্রমিক | স্টপিং পয়েন্ট |
|---|---|
| ১ | মতিঝিল শাপলা চত্বর |
| ২ | কাকরাইল মোড় |
| ৩ | রমনা |
| ৪ | শাহবাগ মোড় |
| ৫ | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় |
| ৬ | লালবাগ কেল্লা |
| ৭ | সোয়ারিঘাট লঞ্চঘাট (শেষ) |
আগাম পরিকল্পনা ও পাঠ
ডিএসসিসি প্রশাসক শব্দ্য মন্তব্যে বলেন, এটি প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হয়েছে, ফলে কিছু ভুলত্রুটি থাকতে পারে; পরবর্তী বছরে তা সংশোধন করে বার্ষিক আয়োজন করা হবে। এছাড়া পুরান ঢাকাকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা, সাইকেল চালনোর আলাদা লেন ও হাঁটা-দৌড়ের উপযোগী পথ তৈরির কথাও উল্লেখ করা হয়।
উৎসবটি ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে এবং এতে নৌকা বাইচ, পুরনো চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, ঘুড়ি উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন কার্যক্রম রয়েছে—আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী।
নাগরিকদের জন্য এই ধরনের হেরিটেজ র্যানে অংশগ্রহণকে কতটা শহর সচেতনতা বৃদ্ধি করল, তা পরিমাপ করা কঠিন। তবে প্রশাসক ও মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা জোর দিয়ে বলছেন—নাগরিক ও ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা ছাড়া ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়। আগামী দিনে বাস্তব সার্ভে ও নাগরিক অংশগ্রহণ বাড়লে এই উদ্যোগের প্রভাব সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
ঢাকা-র মানসম্মত নগরপরিবেশ গড়ে তোলা নিয়ে ডিএসসিসি ও কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের এমন উদ্যোগ স্থানীয় সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে—এটাই প্রত্যাশা।