শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর ইউনিয়নের ছৈয়ালকান্দি গ্রামে চুরির অপবাদে নয়—উত্ত্যক্ততার প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে দুই বোনকে গাছে বেঁধে নির্যাতন এবং এক বোনের চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তাদের মা বাদী হয়ে সখিপুর থানায় মামলা করেন এবং পুলিশের অভিযানে ওই রাতেই দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ঘটনাক্রম ও পুলিশী উদ্ধার
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন তিন ভাই-বোন দোকানে কেনাকাটা করতে গিয়েছিলেন। মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত মনির মোল্যা মেয়েটির কাছে কুপ্রস্তাব দিলে সে প্রতিবাদ করেন। প্রতিবাদের জবাবে মনির এবং তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন ওই তিন ভাই-বোনকে দোকানের পাশের একটি ঘরে কয়েক ঘণ্টা আটকে রেখে মারধর ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায় বলে মামলায় উল্লেখ আছে।
পরবর্তীতে গ্রামবাসী বা অন্য কেউ ঘটনার খবর পেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিন ভাই-বোনকে উদ্ধার করে। সামাজিক মাধ্যমে নির্যাতনের কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় পরিবারের সদস্যরা দ্রুত মামলা করেন। সখিপুর থানার ওসি মোফাজ্জল হুসাইন জানিয়ায়, মামলার অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
পরিবারের দাবি ও ভুক্তভোগীর বর্ণনা
ভুক্তভোগী তরুণী জানান যে মনির তাকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন এবং প্রতিবাদ করার পর তাকে ও তার ভাইবোনকে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। অভিযোগ আছে যে নির্যাতনের সময় বড় বোনের চুল কেটে দেওয়া হয়েছে এবং তাদেরকে জুতার মালা পরিয়ে অপমান করা হয়েছে। নির্যাতনের দৃশ্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় পরিবার ও গ্রামবাসীর মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
“মানুষ আর কী জোরালোভাবে অপমান করতে পারে—আমার চুল কেটে দিয়েছে, আমাদের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছে; আমি আর কাউকে মুখ দেখাতে পারছি না। আমি তাদের শাস্তি চাই।”
মামলা ও গ্রেপ্তার
ভুক্তভোগীর মা ওই রাতেই সখিপুর থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় স্থানীয় আবুল মোল্যার ছেলে মনির মোল্যাসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে—এমনটি মামলার কপিতে উল্লেখ আছে। পুলিশ ওই রাতেই আফসানা সরদার (৫০) ও মো. আমির (৩০) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ঘটনাস্থল | ছৈয়ালকান্দি, সখিপুর ইউনিয়ন, ভেদরগঞ্জ, শরীয়তপুর |
| ভুক্তভোগী | দুই বোন ও তাদের ছোট ভাই |
| আসামি (মামলায়) | ৬ জন নির্দিষ্ট, ৪–৫ জন অজ্ঞাতনামা |
| গ্রেপ্তার | আফসানা সরদার (৫০), মো. আমির (৩০) |
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও সামাজিক প্রভাব
সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় ঘটনাটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। এমন ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মানসিক ও সামাজিক নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে—বিশেষত যখন অপমানজনক ভিডিও অনলাইনে থাকছে। অপরদিকে গ্রাম পর্যায়ে নারী ও কিশোরীদের সুরক্ষা, শিক্ষা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে পুনরায় প্রশ্ন উঠছে।
পুলিশি বার্তা ও চলমান তদন্ত
সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোফাজ্জল হুসাইন জানিয়েছেন, পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনার তদন্ত ও অপর আসামিদের ধরার চেষ্টা চলছে। তিনি জানিয়েছেন যে উদ্ধারকৃতদের সুরক্ষা ও আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা হবে। প্রাথমিক উদ্ধার ও গ্রেপ্তারের পর তদন্তের পরবর্তী ধাপগুলো নিয়ে আদালত ও পুলিশ সিদ্ধান্ত নেবে।
কীভাবে প্রতিরোধ সম্ভব—উপযোগী তথ্য
- এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে দ্রুত থানায় জানানো ও চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা জরুরি।
- ভিডিও বা অন্য কোনো প্রমাণ থাকলে তা সংরক্ষণ করে থানায় প্রদান করা উচিত।
- ভুক্তভোগীদের জন্য স্থানীয় মহিলা ও শিশু কল্যাণ সংস্থা বা স্যোশাল সার্ভিসে যোগাযোগ করা যেতে পারে।
ঘটনাটির সাথে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে পুলিশ তদন্ত আগেভাগেই তৎপর রয়েছে। পরিবারের ক্ষতিপূরণ, ভিকটিম সাপোর্ট এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার প্রতিরোধ কিভাবে করা যায়—এসব প্রকৃত বাস্তবতায় উঠে আসবে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া এগোলে।