চাঁদপুর: চাঁদপুর সড়ক বিভাগের নতুন নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ভূঁইয়া রেদওয়ানুর রহমান। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায়ী নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইউনুস আলী থেকে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
অভিজ্ঞতার ওপর জোর ও স্থানীয় অগ্রাধিকার
২০১২ সালে সড়ক বিভাগে যোগদানের পর দীর্ঘ সময় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন ভূঁইয়া রেদওয়ানুর রহমান। তাঁর শৈশব-সার্ভিসের অভিজ্ঞতা এবং পূর্বের দায়িত্বগুলোকে ভিত্তি করে সংশ্লিষ্ঠরা আশা করছেন চাঁদপুরে সড়ক ও সেতু প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন দ্রুত ও মানসম্মত হবে। দায়িত্ব গ্রহণের পরে তিনি সাংবাদিকদের কাছে বলেন:
“চাঁদপুর জেলার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, চলমান প্রকল্পগুলো যথাসময়ে বাস্তবায়ন এবং সড়ক ও সেতুর গুণগত মান নিশ্চিত করাই আমার প্রধান লক্ষ্য। প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় থাকবে।”
নতুন নির্বাহী প্রকৌশলী কর্তব্য নেওয়ার পরে তিনি আরও বলেন, চলমান প্রকল্পগুলোকে আরও গতিশীল ও মানসম্মতভাবে বাস্তবায়ন করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং জনসাধারণের ভোগান্তি কমানোর দিকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
কর্মজীবন ও পূর্ববর্তী অবস্থান
ভূঁইয়া রেদওয়ানুর রহমান আগে সড়ক ভবনে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১২ সালে সড়ক বিভাগে যোগদানের পরের বছর পর্যন্ত তিনি সড়ক ভবনে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করেন। এরপর বিভিন্ন জায়গায় দায়িত্ব পালন করেছেন।
| পদ | অধিকৃত বিভাগ/জেলা (সূত্র অনুযায়ী) |
|---|---|
| উপবিভাগীয় প্রকৌশলী | নরসিংদীর শিবপুর সড়ক বিভাগ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়ক বিভাগ, ঢাকা কল্যাণপুর সড়ক উপবিভাগ |
| নির্বাহী প্রকৌশলী | শরীয়তপুর সড়ক বিভাগ; সড়ক ভবনের বিভিন্ন বিভাগে কার্যভার |
| এইচডিএম অপারেশনস (সড়ক ভবন) | প্রধান কার্যালয় |
সূত্রে উল্লেখ আছে, তাঁর দায়িত্বকালজুড়ে সড়ক ও সেতুসহ নানা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ভূমিকা রেখেছেন। এই অভিজ্ঞতা চাঁদপুরের চলমান ও পরিকল্পিত প্রকল্পগুলোকে ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে কাজে লাগবে বলেই কর্মকর্তারা মনে করছেন।
চাঁদপুরে প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জ
চাঁদপুর জেলায় রাস্তা-সেতু উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কয়েকটি প্রধান চ্যালেঞ্জ তুলে ধরা হয়: বন্যা প্রবণতা, নদীমাতৃক ভৌগোলিক পরিবেশের কারণে সেতু-বন্ধন ও দুর্যোগ-প্রতিরোধী নকশার প্রয়োজন, এবং চলমান প্রকল্পগুলোর সময়ে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। এসব সমস্যা সামাল দিতে প্রকৌশলগত দক্ষতা, নিয়মিত তদারকি ও স্থানীয় জনসাধারণের সঙ্গে সমন্বয় অপরিহার্য।
নতুন নির্বাহী প্রকৌশী তাঁর বক্তব্যেই সড়ক নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে গুণগত মান নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন এবং বলেন, শুধু কাজ শেষ করাই নয়, এর স্থায়িত্ব ও গুণগত মান নিশ্চিত করাই জরুরি। এজন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।
- প্রশাসনিক লক্ষ্য: চলমান প্রকল্প সময়মত শেষ করা।
- গুণগত মান: নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে মান বজায় রাখা।
- স্বচ্ছতা: প্রকল্প বাস্তবায়নে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ আশা করছেন নতুন নির্বাহী প্রকৌশলীর দক্ষ নেতৃত্বে সড়ক যোগাযোগে উন্নতি আসবে এবং ট্র্যাফিক ও চলাচলে সহজতা সৃষ্টি হবে। তবে বাস্তবতা যাচাই করা যাবে প্রকল্পগুলোর নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে অগ্রগতি ও কাজের মান দেখে।
চাঁদপুর জেলার সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন স্থানীয় অর্থনীতি ও মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলবে—কৃষিজাত পণ্যের বাজারজাতকরণ, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত, স্বাস্থ্যসেবায় প্রাপ্যতা সবই উন্নত সড়ক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। এই প্রেক্ষাপটে বিভাগীয় প্রধান হিসেবে ভূঁইয়া রেদওয়ানুর রহমানের সিদ্ধান্ত এবং কার্যক্রম অধিকারি নজরদারি ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করলে দ্রুত ফলাফল দেখা যেতে পারে।
চাঁদপুর সড়ক বিভাগের নতুন প্রশাসনিক বাস্তবতার ওপর স্থানীয় পর্যায়ে নজর রাখব—কোন প্রকল্প কোন সময়ে শুরু ও শেষ হচ্ছে, অর্থ বরাদ্দ কী পরিমাণে ব্যবহার হচ্ছে এবং মান নিয়ন্ত্রণ কিভাবে হচ্ছে—এসব প্রশ্নের উত্তরই আগামী সময়ে জনতার মূল বিচার হবে।
রিপোর্ট: বেলাল হোসেন, চাঁদপুর প্রতিনিধি