ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর সীমান্তে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৯৫৮ বোতল ইস্কফ সিরাপ জব্দ করেছে সরাইল ব্যাটালিয়ন (২৫ বিজিবি)। রোববার ভোরে সীমান্ত পিলার এলাকায় অভিযান চলাকালে একদল মাদক পরিবহণকারী ব্যাগ ফেলে দৌড়ে পালালে তাদের মধ্যে ৮-৯ জন ব্যক্তিকে দেখতে পেয়েছে বিজিবি সদস্যরা।
অভিযানের সময়কার পরিস্থিতি
সরাইল ব্যাটালিয়ন সূত্রে জানা যায়, অভিযানের সময় সিংগারবিল বিওপির একটি বিশেষ টহলদল সীমান্ত পিলার ২০১৬/এমপি থেকে প্রায় ৩০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নোয়াবাদী এলাকায় দুরবে অবস্থান নেয়। সেখানে তারা কয়েকজনকে মাথায় বস্তা নিয়ে ভারত থেকে আসতে দেখে ধাওয়া করলে ওই ব্যক্তিরা পালিয়ে যায় এবং বস্তাগুলো ফেলে যায়। পরে সেগুলো তল্লাশি করে মোট ৮টি চটের বস্তা উদ্ধার করা হয়। বস্তাগুলোর ভেতরে থাকা কার্টনে অভিনব কৌশলে লুকান হয়েছে ৯৫৮ বোতল ইস্কফ সিরাপ।
কোন কর্তৃপক্ষ কি জানিয়েছে
বিজিবি জানায়, উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যগুলো মালিকবিহীন অবস্থায় আটক করা হয়েছে। বিষয়টি জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে ধ্বংসের জন্য সেগুলো ব্যাটালিয়ন সদরে জমা রাখার কার্যক্রম চলছে। সরাইল ব্যাটালিয়ন (২৫ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাব্বার আহমেদ বলেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান রোধে তাদের অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
উদ্ধারকৃত মালামাল ও তৎপরতা
অভিযানে উদ্ধারকৃত মালামাল সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত তথ্য:
- উদ্ধারকৃত বোতলের সংখ্যা: ৯৫৮ বোতল
- উদ্ধারকৃত বস্তার সংখ্যা: ৮টি চটের বস্তা
- অভিযানকাল: ভোর সাড়ে ৪টার সময়
- অবস্থান: বিজয়নগর উপজেলার নোয়াবাদী, সীমানার অভ্যন্তরীণ অংশ
| দিক | বিবরণ |
|---|---|
| দায়িত্বশীল ইউনিট | সরাইল ব্যাটালিয়ন (২৫ বিজিবি), সিংগারবিল বিওপি |
| অভিযান সময় | রোববার ভোর সাড়ে ৪টা |
| উদ্ধারকৃত বস্তু | ৯৫৮ বোতল ইস্কফ সিরাপ (কার্টনে গোপন) |
প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও আগাম করণীয়
বিজিবি জানিয়েছে যে উদ্ধারকৃত পণ্যগুলো মালিকবিহীন হিসেবে হ্যান্ড্লিং করা হচ্ছে এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া ও ধ্বংস কার্যক্রমে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে। স্থানীয় সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার রাখতে এবং চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলো নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় প্রভাব ও উদ্বেগ
সীমান্তের কাছে বসবাসকারী মানুষজনের জন্য এমন ধরনের মাদকচোরাচালান উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রবেশ করে আসা মাদকদ্রব্য স্থানীয় সমাজে ছড়িয়ে পড়লে জনস্বাস্থ্য এবং যুবসমাজের নিরাপত্তায় প্রভাব পড়তে পারে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই ধরনের চক্র মোকাবিলায় সর্বদা সজাগ থাকার প্রয়োজন বলেছে।
পাঠকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- শুধু সীমানা নয়, স্থানীয়দেরও মাদকদ্রব্যকে সন্দেহ হলে সংশ্লিষ্ট ইউনিটে (বিজিবি/পুলিশ/মাদকভ্রাম্যমান) জানাতে অনুরোধ করা হচ্ছে।
- উদ্ধারকৃত মালামাল নিয়ে জনগণের নিরাপত্তা ও তথ্য-প্রমাণ রাখার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলতে হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর ও আশেপাশের সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান রোধের অভিযানের তথ্য-প্রমাণ প্রতিনিয়ত সংগ্রহ করে আইনগত কাঠামোর মাধ্যমে কার্যক্রম চলবে বলে বিজিবি সূত্রে জানা গেছে।
রিপোর্ট: হাবিবুর রহমান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি