ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার ইসলামপুর এলাকায় পাথরের স্তরের নিচে ভিজিয়ে রাখা অবস্থায় মোট ১ হাজার ৯২৫ পিস ভারতীয় শাড়ি উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। উদ্ধারকৃত মালামাল ও ওই ট্রাকের আনুমানিক সিজার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ কোটি ৭৫ হাজার ৫০০ টাকা, জানিয়েছে বিজিবি সদর ব্যাটালিয়ন।
কীভাবে ধাওয়া ও তল্লাশি চালানো হয়
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ট্রানজিট ক্যাম্পের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার সন্ধ্যায় সরাইল ব্যাটালিয়নের একটি বিশেষ টহল দলের সদস্যরা ইসলামপুর এলাকা থেকে ঢাকা অভিমুখী একটি পাথরবোঝাই ট্রাককে সন্দেহ করে থামায়। গাড়ির চালচলনে অনিয়ম দেখায় দ্রুত তল্লাশি শুরু করা হয়। তল্লাশির সময় পাথরের স্তরের নীচে লুকানো পৃথক প্যাকেটে শাড়িগুলি পাওয়া যায় এবং সেগুলি তুলে নেওয়ার পর চালক-হেলপারদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
জব্দকৃত মালামাল ও পরবর্তী ব্যবস্থা
বিজিবি বলেছে, উদ্ধারকৃত শাড়ি ও ট্রাক বর্তমানে আখাউড়া কাস্টমস অফিসে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে। তদন্তকারীরা ঘটনার সঙ্গে কোনো সিন্ডিকেট জড়িত আছে কি না এবং শাড়িগুলো দেশের ভিতর থেকে ছড়িয়ে দেওয়ার কৌশল সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছেন।
- জব্দকৃত শাড়ি: ১,৯২৫ পিস
- অনুমানিক সিজার মূল্য: ২,৭৫,০০০০ টাকা (দুই কোটি পঁচাত্তর হাজার পাঁচশ টাকা)
- অভিযানকারী ইউনিট: ২৫ বিজিবি, সরাইল ব্যাটালিয়ন
- অভিযানের সময়: সোমবার সন্ধ্যা—প্রায় সাড়ে ৬টা
- জায়গা: ইসলামপুর, বিজয়নগর উপজেলা
বিজিবি পতাকার ব্যাখ্যা ও প্রতিশ্রুতি
“সীমান্ত দিয়ে চোরাচালানি পণ্য প্রবেশ ঠেকাতে বিজিবিদের গোয়েন্দা নজরদারি ও আভিযানিক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
শাহবিন্দু মন্তব্যে লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাব্বার আহমেদ জানিয়েছিলেন যে সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্যে আরো সক্রিয়তা বৃদ্ধি করা হয়েছে। তিনি ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখা হবে বলেও জানান।
স্থানীয় প্রভাব ও উদ্বেগ
অভিযানটি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রশাসনকে সতর্ক করে দিয়েছে। সীমান্তের কাছে লোকাল ট্রান্সপোর্টে পণ্য লুকিয়ে এনে দেশের অভ্যন্তরে ছড়িয়ে দেয়া চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকার অভিযোগ রয়েছে। এই ধরনের বড় পরিসরের জব্দ এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তার ওপর প্রশ্ন তোলে; একই সঙ্গে রাজস্ব খাতে লোকসান হওয়ার বিষয়টি সরকারী তৎপরতার দাবি করে।
তদন্তের পরবর্তী ধাপ
বিজিবি ও সংশ্লিষ্ট কাস্টমস কর্তৃপক্ষ মিলিয়ে ট্রাক ও মালামাল হস্তান্তরের পর বিস্তারিত তদন্ত পরিচালনা করবে। তদন্তে জানা হবে মালামাল কোথা থেকে উপস্থিত হয়েছে, ট্রানজিট রুট কী ছিল এবং কে/কারা এই লুকানো চালান সম্পৃক্ত — এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান অভিযানে পরিচিত কারিগররা।
স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, যদি অপরাধীদের বিরুদ্ধে যোগ্যতামাফিক প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| আবশ্যিক ইউনিট | ২৫ বিজিবি (সরাইল ব্যাটালিয়ন) |
| অবস্থান | ইসলামপুর, বিজয়নগর |
| জব্দকৃত মালামাল | ১,৯২৫ পিস ভারতীয় শাড়ি |
| অনুমানিক মূল্য | ২ কোটি ৭৫ হাজার ৫০০ টাকা |
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্তবর্তী এলাকা ও ট্রানজিট রুটগুলোতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিত করতে বিজিবি ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ একসঙ্গে কাজ করবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। অভিযান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যগুলো কাস্টমস হস্তান্তরের পর আরও প্রকাশ করা হবে।