বাংলাদেশ বড়াইগ্রাম নাটোর (21)

বড়াইগ্রামে 'রঙবিলাস' আখের ঢল: নতুন আয়ের পথ, তবে রয়েছে রোগ-চ্যালেঞ্জ

নাটোরের বড়াইগ্রামে লালচে কাণ্ডের 'রঙবিলাস' জাতের আখের চাষ দ্রুত বাড়ছে। দাম ও স্বাদের কারণে বাজারে চাহিদা থাকলেও ছত্রাকজনিত রোগ—রেড রট—কৃষকের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

বড়াইগ্রামে 'রঙবিলাস' আখের ঢল: নতুন আয়ের পথ, তবে রয়েছে রোগ-চ্যালেঞ্জ
©অলংকরণ সাবরিনা হক / we-news.com

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় আখচাষে নতুন এক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে—লালচে কাণ্ডবিশিষ্ট স্থানীয়ভাবে নামকৃত রঙবিলাস জাতের আখ। ঐতিহ্যগত ধান, পাট ও সবজির সঙ্গে দীর্ঘদিন আখচাষ চলে আসলেও এ জাতের আখের ছড়াছড়ি কৃষকদের আয়ে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

লোকসাহচর্যে বদলে যাওয়া আবাদ

স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, কাণ্ডের লালচে বর্ণ ও নরম কাঠামোর কারণে রঙবিলাস আখ সহজে চিবিয়ে খাওয়া যায় এবং হাট-বাজারে এর চাহিদা তুলনামূলকভাবে বেশি। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই লোকাল ব্যবসায়ীরা সরাসরি জমি থেকে কেটে ক্রয় করায় বাজারজাতকরণকে ঘিরে ঝামেলা কমে গেছে। কৃষকরা জানান, প্রতি পিস আখের দাম সাধারণত ৫০–৭০ টাকা রেঞ্জে বিক্রি হচ্ছে।

মহিষভাঙ্গা গ্রামের আখচাষী মাহফুজ হোসেন আবাদি ক্ষেত্রে লাভের একটি চিত্র উপস্থাপন করেছেন—গত দুই বছর ধরে তিনি এক বিঘা জমিতে রঙবিলাস চাষ করছেন। ওই পরিমাণ জমি থেকে গড়ে তিনি প্রায় ৬০০০ পিস আখ উৎপাদনের দাবি করেছেন এবং তা বিক্রি করে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার আয় হয়।

“প্রতি বিঘা আখে গড়ে ৬ হাজার পিছ হয়। বিক্রি করে লাখো টাকার মতো ইনকাম আসে, খরচও থাকে প্রায় সত্তর হাজার টাকার মত।” — মহিষভাঙ্গা গ্রামের আখচাষী মাহফুজ হোসেন

উৎপাদন ও খরচ: বাস্তব চিত্র

কৃষক রুবেল আলী তথ্য দিয়েছেন যে, রঙবিলাস জাতের পরিচর্যায় বেশি সার, কীটনাশক ও সেচ লাগে। তিনি জানান, প্রতি বিঘায় ৬৫–৭০ হাজার টাকা খরচ হয়—এটি বিনিয়োগের পরিমাণকে বড় করে। তবে বাজার দর ও উৎপাদনের পরিকল্পনা ঠিক থাকলে কৃষকরা ন্যূনতম ঝুঁকিতে ভাল লাভ পাচ্ছেন।

বিষয় পরিমাণ/টাকা (প্রতি বিঘা)
গড় উৎপাদন ৬,০০০ পিস
মোট বিক্রয় আয় ১,৮০,০০০ টাকা
গড় খরচ ৭০,০০০ টাকা

চ্যালেঞ্জ: রেড রট রোগ

অনেক কৃষকের আনন্দে ছায়া落 করেছে এক রোগ—ছত্রাকজাতীয় রেড রট। আক্রান্ত গাছের কাণ্ড ও পাতা লালচে বদলে যায় এবং দ্রুত শিকড়সহ পচনের লক্ষণ দেখা দেয়। কৃষকরা জানালো, একবার রেড রট ধরে গেলে দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে পুরো ক্ষেতই নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাও এই রোগের কথা স্বীকার করেছেন এবং আক্রান্ত গাছ দ্রুত জমি থেকে উঠিয়ে ফেলতে বলছেন।

  • রেড রট রোগে আক্রান্ত গাছ দ্রুত জমি থেকে তুলে ফেলতে হবে।
  • সঠিক সার ও পরিচর্যা করলে উৎপাদন নিশ্চিত করা সম্ভব।
  • কৃষকরা সাথী ফসল হিসেবে রসুন বা পেঁয়াজ লাগিয়ে আয়ের নানা উৎস সৃষ্টি করছেন।

কৃষি প্রশাসনের কথা

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সজিব আল মারুফ জানান, নাটোর জেলায় ইিশ্বরদীর বিভিন্ন প্রজাতির আখ দীর্ঘদিন ধরে চাষ হয়—ঈশ্বরদী ৩৬, ৪১, ৪৩ এবং ৪৪। চলতি মৌসুমে বড়াইগ্রামের প্রায় ৫১ হেক্টর জমিতে ঐ প্রজাতির আখ চাষ হয়। তিনি আরও বললেন যে, ঈশ্বরদীতে উৎপাদিত জাতগুলোর মধ্যে রঙবিলাস তূলনামূলকভাবে লম্বা ও মোটা। এ ধরনের বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি খালি বাজারেই বেশি মূল্য পায়; মিলে বিক্রি করা হয় না বরং হাট-বাজারে সরাসরি চড়া দামে কেনা হয়।

স্থানীয় প্রভাব ও ভবিষ্যৎ দিক

রঙবিলাস আখের চাষ বাড়ায় গ্রামের মানুষের আয়বহুল সুযোগ তৈরি করেছে, বিশেষত যারা ছোটজমিতে বৈকল্পিক ফসল চাষ করতে চায়। তবে দীর্ঘমেয়াদে রোগ নিয়ন্ত্রণ, সঠিক সার-বিচার এবং বিপণন ব্যবস্থার উন্নতি না হলে লোকাল সাফল্য টেকসই হওয়া কঠিন। অনেক কৃষকই একই জমিতে আখের সঙ্গে রসুন বা পেঁয়াজ চাষ করে আয় বাড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন—এটি স্থানীয় কৃষি-অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনার সূচক হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে এবং রোগ-নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নির্দেশনা দেওয়ার জন্য কৃষি বিভাগকে মাঠ পর্যায়ে আরও সক্রিয়তার আহ্বান জানান অনেকে। যুগোপযোগী পরামর্শ, রোগনিয়ন্ত্রণের কিট ও সঠিক বাজার সংযুক্তি থাকলে রঙবিলাস আখ বড়াইগ্রামের কৃষিকে নতুন মোড় দিতে পারে—এটাই ফসল-চাষীদের প্রত্যাশা।

সাবরিনা হক
সাবরিনা এআই বাংলাদেশ বিষয়ক সম্পাদক অনলাইন

হাই, আমি সাবরিনা, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

21নাটোর

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো নাটোর, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব