নাটোরের পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যে একজন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রাকিবুল হাসান জেমসকে কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে রাত দুই ঘণ্টার জন্য প্যারোলে ছাড়া করে তার বাবার জানাজায় অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময় শেষে পুলিশি নিরাপত্তায় তাঁকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স চালক হিসেবে কাজ করা তার বাবা আবুল কালাম আজাদ শুক্রবার মঙ্গলবার (রিপোর্ট অনুযায়ী) মৃত্যু বরণ করলে পরিবারের আবেদন মোতাবেক জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে জেমসকে প্যারোলের অনুমতি দেওয়া হয়। অ্যাম্বুলেন্স চালক হিসেবে জনসেবার পরিচয়ে পরিচিত ছিলেন যাচাই করা ব্যক্তিটি।
কারাগার সূত্রে জানা যায়, রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। নির্ধারিত দুই ঘণ্টার মধ্যে নাটোর শহরের দক্ষিণ বড়গাছা বুড়াদরগাহ জামে মসজিদ ঈদগাহ মাঠে বাবার জানাজায় তিনি অংশ নেন। পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা শেষে পুলিশ তাকে ফের কারাগারে নিয়ে যায়।
আইনি অনুসন্ধান ও গ্রেপ্তার সংক্রান্ত পটভূমি
জানা গেছে, জেমস ২০১৫ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত নাটোর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্বপালন করেছেন। তার বিরুদ্ধে গত ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে নাটোর-২ আসনের তৎকালীন সাংসদ শফিকুল ইসলাম শিমুলের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের পর পাঁচজনের পোড়া মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা কয়েকটি মামলার আসামি ছিলেন। ওই ঘটনায় তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।
পুনর্বাসনের সময়সীমা ও গ্রেপ্তারের বিবরণে বলা হয়েছে, গত ঈদে অসুস্থ বাবাকে দেখতে বাড়ি আসার সময়—গত ২২ জুন— পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। সেসময় থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
অনুমোদন ও প্রশাসনিক প্রসেস
পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্যারোলের আবেদন করা হয়। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাত আরা ফেরদৌস আবেদনটি মঞ্জুর করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।
| তারিখ | ঘটনা |
|---|---|
| ৫ আগস্ট ২০২৪ | নাটোর-২ আসনের সাংসদ শফিকুল ইসলাম শিমুলের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ; পরবর্তীতে পোড়া মরদেহ উদ্ধারের মামলা। |
| ২২ জুন (বছর সূত্রে) | জেমস গ্রেপ্তার হন—কারাগারে ছিলেন। |
| রাত ৮টা–১০টা | প্যারোলে দুই ঘণ্টা মুক্তি; বাবার জানাজায় অংশগ্রহণ। |
স্থানীয় উপস্থিতি ও প্রতিক্রিয়া
জানা যায়, বাবার জানাজার সময় উপস্থিত ছিলেন নাটোর পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সাবেক পৌর মেয়র শেখ এমদাদুল হক আল মামুন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি ভিপি সানোয়ার হোসেন তুষারসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ও স্থানীয় মুসল্লিরা। পরিবারের আবেদনের পর প্রশাসনিক অনুমোদন সাপেক্ষে জেমসকে প্যারোলে দেওয়ার বিষয়টি নাটোর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনসুর রহমান প্রকাশ করেছেন।
- প্যারোলে মুক্তির সময়কাল: ২ ঘণ্টা
- পুলিশি নিরাপত্তা: পুরো সময় কড়া পাহারা
- পুনরায় কারাগারে স্থানান্তর: প্যারোলের সময়সীমা শেষে
আইনগত পরিণতি ও প্রশ্নোত্তর
জেমসের বিরুদ্ধে অগ্নিকাণ্ড ও সেই ঘটনায় মানুষের মৃত্যুর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে বিভিন্ন মামলা চলছে। এসব মামলার প্রক্রিয়া ও তদন্ত কতদূর এগিয়েছে, আদালতের পরবর্তী কার্যক্রম কবে—এরেখানকার আরও তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই চলছে। প্যারোল দেয়ার ব্যাপারে প্রশাসনিক অনুমতি ও বিধিগত শর্তাবলী মেনে কার্যক্রমটি চালানো হয়েছে বলে থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, এমন ঘটনায় পরিবারের মর্যাদা ও সামাজিক সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে প্যারোলে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়—তবে তদন্তপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অপরদিকে মামলার তদন্তকারীরাও বলছেন, তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে এবং প্যারোল মঞ্জুর হওয়া আদালত বা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাস্তবায়িত হয়েছে।
নাটোর জেলায় রাজনৈতিক পরিচয়সম্পন্ন ব্যক্তিদের আইনি জটিলতা ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে স্থানীয় প্রেক্ষাপটেই এই ঘটনা গুরুত্ব পেয়েছে। মামলার যাবতীয় তথ্য ও আদালতের সিদ্ধান্ত অনুসারে পরবর্তী আপডেট সংবাদে জানানো হবে।