সৌদি আরবে একটি সোফা কারখানায় গত দুর্ঘটনায় নিহত নাটোরের প্রবাসী রবিউল ইসলাম-এর মরদেহ শুক্রবার সকালের জানাজা শেষে তার নিজ গ্রাম নলডাঙ্গার মহিষডাঙ্গা ভট্টপাড়া থেকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। জানাজা উপলক্ষে স্থানীয় মানুষ, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা ভিড় করেন এবং বিভিন্ন সময় কাঁদার শব্দ গ্রামটি ভারাক্রান্ত করে তোলে।
পরিবারের ব্যথা ও প্রস্থানের কাহিনি
রবিউল ইসলাম মহিষডাঙ্গা গ্রামের আশরাফুল ইসলামের ছেলে। পরিবার জানিয়েছে, ভাগ্য পরিবর্তনের তাগিদে কয়েক বছর আগে ধার-দেনা করে তিনি সৌদি আরবে যান। সেখানে দীর্ঘ সময় বৈধ কাগজপত্র না থাকায় লুকিয়ে কাজ করতে হয়েছিল। প্রায় তিন বছর পর বৈধ কাগজপত্র সংগ্রহ করতে সক্ষম হন এবং গত দেড় বছরে কিছু টাকা দেশে পাঠিয়েছেন। তারপরও পরিবারের ঋণ পুরোপুরি মেটেনি। পরিকল্পনা ছিল ঋণ শোধ করে বাবা-মায়ের জন্য বাড়ি নির্মাণ করে কিছু সময় কাজ করে দেশে ফিরে আসবেন। কিন্তু সেই ইচ্ছা পূরণ হয়নি—তিনি দেশে ফিরেছেন নিথর দেহেই।
নির্ঘাত ঘটনাটির প্রেক্ষাপট
সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরবে ওই অগ্নিকাণ্ডে মোট ৯ জন নিহতের মরদেহ পরিচয় শনাক্ত হয়ে দেশে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে একজন হলেন নাটোরের রবিউল। অন্যান্যের মধ্যে সাতজন নওগাঁর আত্রাই উপজেলার এবং একজন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বাসিন্দা। নলডাঙ্গা উপজেলার আরও দুই প্রবাসীর মরদেহ এখনও আসেনি; তারা শনাক্ত ও যাচাই-বাছাই শেষে দ্রুত দেশে আনার পদক্ষেপ চলছে বলে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে।
| বিষয় | সংখ্যা/বিবরণ |
|---|---|
| পরিচয় শনাক্ত মরদেহ | ৯ জন |
| নাটোর (নলডাঙ্গা) থেকে শনাক্ত মৃত | ১ জন (রবিউল ইসলাম) |
| নলডাঙ্গা উপজেলা থেকে মোট প্রবাসী নিহত | প্রাথমিকভাবে ৩ জন (মরদেহগুলোর মধ্যে একজন আসা এবং বাকিদের প্রত্যাবর্তন চলছে) |
প্রশাসনের ভূমিকা ও পুনরায় প্রেরণের প্রক্রিয়া
নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল ইমরান খান জানিয়েছেন, রবিউলের মরদেহ বৃহস্পতিবার রাতেই বাড়িতে পৌঁছায় এবং শুক্রবার সকালে জানাজা শেষে দাফন করা হয়েছে। তিনি জানান, সৌদি আরব থেকে অন্যান্য মৃতদেহ শনাক্ত ও যাচাই-বাছাই শেষে দ্রুত দেশে আনার প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।
- রবিউল ইসলামের দাফন—মহিষডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পরিবারের কবর স্থানে দাফন করা হয়েছে।
- অবশিষ্ট মৃতদেহ—নলডাঙ্গা উপজেলার আরও দুজন প্রবাসীর মরদেহ এখনো দেশে এসে পৌঁছায়নি; তাদের প্রত্যাবর্তনের তৎপরতা চলছে।
- পরিবারের আর্থ-সামাজিক অবস্থা—রবিউল বিদেশগমনে ধার-দেনা করেছিলেন; কিছু টাকা দেশে পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু ঋণ পুরোপুরি মিটেনি।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও সহমর্মিতা
রবিউলের বাড়িতে মরদেহ পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারি এবং আন্তর্জাতিক দুর্দশার স্বচ্ছ ফল—একজন মানুষ যোগ্য জীবিকা অর্জনের জন্য নিয়েছেন বিপুল ত্যাগ—এসব প্রতিফলিত হয়। রাত থেকেই গ্রামবাসী ও আত্মীয়-স্বজনরা বাড়িতে ভিড় করেন; অনেকে কাঁদতে দেখা যায়। স্থানীয়রা বলেন, প্রবাসীর নিরাপত্তা ও কাজের পরিবেশের বিষয়গুলো সবসময়ই উদ্বেগের কারণ। বিদেশে কর্মরতদের শ্রমিক অধিকার, নিরাপদ কর্মব্যবস্থা এবং দুর্ঘটনা হলেও দ্রুত ও সক্ষমভাবে মরদেহ প্রত্যাবর্তনের কার্যক্রম গভীর গুরুত্ব বহন করে।
ঘটনাটি স্থানীয় প্রবাসী পরিবারের জন্য মানসিক ও আর্থিকভাবে বড় খারাপিয়াল হয়ে দাঁড়াল। প্রশাসন ও স্থানীয় নেতারা শোক সন্তপ্ত পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং মরদেহ পশ্চাৎপট নিয়ে দ্রুত পুনরায় প্রক্রিয়া চালানোর কথাও জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা, বৈধতা ও শ্রম সুরক্ষার বিষয়গুলো নিয়েও স্থানীয়ভাবে নতুন করে প্রশ্ন ওঠেছে—কীভাবে বিদেশগামী শ্রমিকদের সুনিশ্চিত করা যায় এবং দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে দ্রুত সহযোগিতা নিশ্চিত করা যায় তা নিয়ে পুনর্বিবেচনা দরকার বলেও অনেকে মনে করছেন।