নাটোরের বাগাতিপাড়া ও লালপুর উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬-এর তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারের নিয়োগফল প্রকাশের পর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বুধবার দুপুরে দুই উপজেলার যুবক-নেতারা উপজেলা পরিষদ এলাকায় জড়ো হয়ে ইউএনও কার্যালয় ঘেরাও করলে ঘটনা উত্তাপ নেয়। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে উত্তপ্ত সংর্ঘষে ইউএনওর কক্ষের দরজা-জানালায় আঘাত ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে।
কার্যসূচি ও ঘটনার ধরণ
বাগাতিপাড়া ও লালপুরে নিয়োগফলকে অনিয়ম ও দলীয় সমর্থকদের জন্য সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ করে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের কর্মী-সমর্থকেরা বাড়তি প্রতিক্রিয়া দেখান। বাগাতিপাড়া থেকে মালঞ্চি রেলগেট এলাকা থেকে বের হওয়া মিছিলে উপস্থিত ছিলেন উপজেলার ছাত্রদলের একসময়কার আহ্বায়ক সোহেল রানা। মিছিলটি উপজেলা পরিষদ ভবনের সামনে পৌঁছে, দ্বিতীয় তলায় ইউএনওর কক্ষের সামনে অবস্থান করে নানা ধরণের স্লোগান দেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও উপজেলা পরিষদের কর্মচারীরা জানান, একপর্যায়ে উত্তেজনা বাড়লে বিক্ষোভকারীরা ইউএনও কক্ষের দরজা ও জানালায় লাথি মারেন, ফুলের পাত্র ছুঁড়ে মারেন এবং দরজায় আঘাত করে ভাঙচুর করেন। একই সময়ে লালপুরেও ইউএনও অফিস ঘেরাও করে অনুরূপ বিক্ষোভ হয়েছে।
সাংবাদিক নির্যাতন ও চিত্রধারণে বাধা
বিক্ষোভকারীরা ওই ঘটনায় উপস্থিত সাংবাদিকদের ধাক্কা-মাঠা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। অনলাইন ও টেলিভিশন চ্যানেলের কয়েকজন প্রতিনিধির কাছে থেকে ভিডিও ও ছবি মুছে ফেলা হয়েছে বলে তারা জানায়। আক্রান্তদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নামগুলো হচ্ছে—স্টার নিউজের নাটোর প্রতিনিধি তারিকুল হাসান, এনটিভি অনলাইনের প্রতিনিধি সজিবুল ইসলাম, এবং স্থানীয় সংবাদকর্মী ফজলুর রহমান, খাদেমুল ইসলাম ও অন্যান্যরা।
স্টার নিউজ টেলিভিশনের নাটোর প্রতিনিধি তারিকুল হাসান বলেন, ঘটনাটি লাইভ টেলিকাস্ট করার সময় তাকে বাধা দিয়ে ধাক্কা দেওয়ার পাশাপাশি লাঞ্ছিত করা হয়।
আহত সাংবাদিকরা দাবি করেছেন, তাদের হাত থেকে মোবাইল নিয়ে ভিতরের ভিডিও-ছবি মুছে ফেলা হয় এবং লাইভ সম্প্রচার বাধাগ্রস্ত করা হয়। ঘটনার ভিডিও-প্রমাণ ও পরবর্তীতে হামলাকারীদের শনাক্ত করাসহ আইনি প্রক্রিয়া প্রত্যাশা করা হচ্ছে বলে আক্রান্ত প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন।
প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিক্রিয়া
লালপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম পলাশ জানান, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় শান্তি আছে এবং ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে বিক্ষোভের সময় ইউএনওকে অবরুদ্ধ রাখার অভিযোগও উঠেছে; সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রশাসন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের কথা জানিয়েছে।
উপজেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনওদের নামও উল্লেখ করা হয়েছে—বাগাতিপাড়া ইউএনও দেবাশীষ বসাক ও লালপুর ইউএনও বরকত উল্লাহ—যাদের বিরুদ্ধে বিএনপি ও ছাত্রদল নেতৃত্ব অনিয়ম করে আশেপাশের তালিকায় বিএনপির কর্মীদের বাদ রাখার অভিযোগ আনেন। ঘটনাস্থলে থাকা সূত্রগুলো বলছে ক্ষমতাসীন দলের কিছু কর্মী নিয়োগে সুবিধা পেয়েছেন এমন অভিযোগ প্রদর্শন করা হয়েছে।
স্থানীয় প্রভাব ও পরবর্তী করণীয়
এই ধরনের বিক্ষোভ ও প্রশাসনিক স্থাপনায় আক্রমণ স্থানীয় শুরুকারী পরিষেবা এবং সাধারণ মানুষের প্রশাসনিক কাজে বাধা সৃষ্টি করে। জরুরি পরিষেবা, পদে নিয়োগের স্বচ্ছতা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা—এসব বিষয় দ্রুত মীমাংসা করা না হলে এলাকায় পুনরায় উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা আছে।
- ঘটনার সময় ও স্থান: বুধবার দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত, বাগাতিপাড়া ও লালপুর উপজেলা পরিষদ এলাকা।
- প্রধান অভিযোগ: ফ্যামিলি কার্ড তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়ম ও নিয়োগ বাণিজ্য।
- আহত/ভুক্তভোগী: কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলা ও তাদের মোবাইল ফোন জব্দ করে ভিডিও মুছে ফেলার অভিযোগ।
| প্রাসঙ্গিক নাম | ভূমিকা/পদ |
|---|---|
| দেবাশীষ বসাক | বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (উল্লেখিত) |
| বরকত উল্লাহ | লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (উল্লেখিত) |
| সোহেল রানা | ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক (মিছিলে নেতৃত্ব) |
স্থানীয়রা ও সাংবাদিক সংগঠনগুলো এই ঘটনার বিষয়টি মনোযোগ দিয়ে দেখছেন। তদন্তে দ্রুত সারা পাওয়া ও দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ হলে পরিস্থিতি নিরপেক্ষভাবে নিরুপণ সম্ভব হবে—এমনটাই প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ন্যায়ের বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুততর পদক্ষেপ দাবি করছে দেশনাগরিক ও সংবাদকর্মীরা।