নাটোরের লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে গত ১২ আগস্টে ঘটে যাওয়া বিক্ষোভের সময় হামলা, ভাঙচুর ও সরকারি কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করার ঘটনায় পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ (এজাহার) দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ দুটি উপজেলা প্রশাসনের কর্তৃপক্ষ নিজা থানায় লিখিতভাবে দিয়েছেন বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
এজাহারের মূল অভিযোগ ও প্রাসঙ্গিক সময়সীমা
এ বিষয়ে লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আবু মাসুদ রানা এবং বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. শুকুর আলী সোমবার (১৭ আগস্ট) respective থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন। পরে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুই থানার কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এজাহারে বলা হয়েছে, ফ্যামিলি কার্ড শুমারি তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফল বাতিলের দাবিতে জনসমুদ্রের মতো মানুষ উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে জড়ো হন। একপর্যায়ে কিছু সংখ্যক বিক্ষোভকারী ইউএনওর কার্যালয়ে প্রবেশ করে স্লোগান দেন এবং কর্তৃপক্ষকে চাপ দিতে থাকেন। অভিযোগে বলা হয়েছে কারণ দর্শানোর ছাড়পত্র না পেয়ে পরিস্থিতি উত্তেজিত হয়।
অভিযোগের বিবরণ ও দায়েরকৃত নামের পরিসংখ্যান
এজাহারে উপজেলার কর্মকর্তাদের ওপর শারীরিকভাবে হামলা, কক্ষে থাকা আসবাবপত্র ভাঙচুর ও সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ বা তার ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ উল্লেখ আছে। এছাড়া এক সরকারি কর্মকর্তাকে মারধর করে তাঁকে লাঞ্ছিত করার, অপর একজন কর্মকর্তার শার্ট ছিঁড়ে ফেলার এবং কার্যালয়ে থাকা কর্মকর্তাদের উপর গুলি-ধমকি ও প্রাণনাশের হুমকির কথাও অভিযোগে লেখা হয়েছে।
“বিক্ষুব্ধরা কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে নিয়োগের ফলাফল বাতিলের জন্য চাপ দিতে থাকেন।”
- লালপুর ঘটনার বিরুদ্ধে নামজারি করা হয়েছে ১৮ জন।
- বাগাতিপাড়া ঘটনার বিরুদ্ধে নামজারি করা হয়েছে ২৫ জন (সরকারদলীয় নেতা)।
- দুই ঘটনার মোট অভিযুক্ত হিসেবে বলা হয়েছে অজ্ঞাতনামা হিসেবে ৪০–২০০ জনের মধ্যে বিভিন্ন সংখ্যা; এক স্থানীয় সূত্রে মোট ১৪০–২০০ জনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশি ব্যবস্থা ও তদন্তের পথে
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম এবং বাগাতিপাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রাজ্জাক এ ঘটনার এজাহার গ্রহণ এবং তদন্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশের প্রাথমিক বিবরণ অনুযায়ী, অভিযোগ যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নাটোরের দু'টি উপজেলার প্রশাসনিক ভবনে সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর এহিসেবে আক্রমণের ঘটনা স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য গুরুত্ব বহন করে। কারণ সরকারি সেবা প্রদানের কেন্দ্রীয় স্থান হিসেবে উপজেলা প্রশাসনকে সুরক্ষিত রাখা প্রয়োজন।
| উপজেলা | নামজারি করা ব্যক্তির সংখ্যা | অজ্ঞাতনামা অভিযুক্তের সংখ্যা (প্রতিবেদনসূত্র) |
|---|---|---|
| লালপুর | ১৮ | ৪০–৫০ |
| বাগাতিপাড়া | ২৫ (সরকারদলীয় নেতা) | ১০০+ (প্রতিবেদন অনুসারে 'শতাধিক') |
অভিযোগে উল্লেখিত আচরণগুলো সরকারের সাধারণ সেবাগ্রহণ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিরাপত্তার ব্যাপারে সতর্কতামূলক প্রশ্ন তোলে। স্থানীয় জনগণ, বিশেষ করে যে নাগরিকরা ফ্যামিলি কার্ড সংগ্রহ বা অন্যান্য সরকারি কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন, তাদের আতঙ্কও বাড়তে পারে।
এ ঘটনায় হঠাৎ বিক্ষোভের তীব্রতা ও অফিস ভেতরে ঢুকে সরকারি কর্মীদের ওপর আক্রমণের ব্যাপারগুলো তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে—কেন উপস্থিতরা এ পর্যায়ে উত্তেজিত হয়, কি পরিস্থিতিতে কক্ষের ভেতর থেকে বসা কর্মকর্তাদের প্রতি সহিংসতার পথ নেওয়া হয় এবং ঘটনাগুলোর মূলউদ্দীপক কী ছিল তা পুলিশ ও প্রশাসন নির্ধারণ করবেন।
স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ পরবর্তী সময়ে মামলার অনুসারে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছে।