নাটোরের বড়াইগ্রামের বনপাড়া পৌর এলাকায় বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে বিএনপির দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন। হামলার পর নিরানব্বইয়েরও বেশি লোক-শক্তি এলাকায় উপস্থিত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেলেও পুলিশ দ্রুত টহল বাড়িয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে কমপক্ষে ৩ জনকে আরও চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে; তাদের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
ঘটনার পরিসর ও ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত
স্থানীয় সূত্র ও দলীয় নেতাকর্মীদের বর্ণনায়, সকাল থেকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। দুপুরে বনপাড়া বাইপাস সড়কের সামনে কয়েকজন বিএনপি নেতাকর্মী চা খাচ্ছিলেন। তখনেকালে প্রতিপক্ষের প্রবেশে লাঠি-ডন্ডা নিয়ে হামলা শুরু হয়। হামলায় সামিলদের সংখ্যা তথাকথিতভাবে উল্লেখ করা হচ্ছে; ঘটনাস্থলে স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠায়।
আহত ও চিকিৎসা অবস্থার তালিকা
| নাম | বয়স | পদবী/পরিচিতি | চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা |
|---|---|---|---|
| হোসেন আলী ফকির | ৫৭ | বনপাড়া পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক | রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি (গুরুতর) |
| মমতাজউদ্দিন শেখ | ৫৫ | পৌর কৃষক দলের সভাপতি | রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি (গুরুতর) |
| আকতার হোসেন | ৫২ | পৌর বিএনপির ৭ নম্বর ওয়ার্ড নেতা | রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি (গুরুতর) |
| রবিউল ইসলাম মৃধা | ৫০ | পৌর বিএনপির ৯ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি | স্থাণীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা |
| নাজমুল | ৩৫ | যুবদল কর্মী | স্থাণীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা |
| সোহেল | ৪৮ | যুবদল কর্মী | স্থাণীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা |
স্থানীয় ক্ষতি ও পরিস্থিতি
ঘটনা স্থানীয়দের বর্ণনায়, হামলার সময় একটি চায়ের দোকান ভাঙচুর করা হয় এবং কমপক্ষে পাঁচটি মোটরসাইকেল নষ্ট করা হয়েছে। আহতদের সঙ্গে থাকা কিছু নেতাকর্মীও হামলার শিকার হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পুলিশকে খবর দেয়।
- চা দোকান—ভাঙচুর হয়েছে
- মোটরসাইকেল—কমপক্ষে পাঁচটি ভাঙচুর
- আহত—৭ জন, তিনজনকে বাইরো-শহরে পাঠানো হয়েছে
পুলিশের পদক্ষেপ ও তদন্ত
বড়াইগ্রাম থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং পৌর শহরে পুলিশের টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। তিনি অপরাধীদের শনাক্ত ও ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে বলেও জানান।
"বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে; হামলার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে,"
ওসি শফিকুলের এই বক্তব্য পুলিশের তদন্তের অগ্রগতি ও আশ্বাসের ইঙ্গিত দিলেও স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত বিবাদ নয়—এটি দলের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকেন্দ্রিক বিরোধের ফল। উভয় পক্ষের অভিযোগপত্র ও পাশে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ একত্র করে প্রমাণাদি যাচাই করা হচ্ছে বলেও থানা সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
বড়াইগ্রামের রাজনৈতিক কার্যকলাপে কিছুদিন ধরেই দলীয় শাখা-প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে। এনিয়ে স্থানীয় জনজীবন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে আশঙ্কা বাড়ছে—বিশেষ করে যারা দৈনন্দিন কাজকর্ম সড়কপথে করে তারা এ ধরনের হিংসায় অনুশোচিত। সাধারণ মানুষ বলছে, স্থায়ী শান্তি ও সহনশীল রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরে না গেলে এলাকায় পরিবেশ আরো অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে।
এই ঘটনার পর থানায় দেওয়া মামলা, গ্রেফতারির সংখ্যা বা অভিযুক্তদের পরিচয় সম্পর্কে এখনও আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশের তদন্ত শেষে অভিযোগ ও প্রমাণের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে, গতকাল থানা সূত্রে জানানো হয়েছে।
নাটোর—বড়াইগ্রাম থেকে সংগ্রহকৃত প্রতিবেদন।