নাটোর সদর উপজেলার পাইকেরদৌল গ্রামের ইউনুছ আলীর ছেলে ইমরান হোসেন গত এক দশক ধরে একটি ডাকাতির মামলায় আসামি হিসেবে আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন। কিন্তু মামলার নথি ও ইমরানের লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, ঐ ডাকাতির সময় তিনি ঘটনাস্থলে থাকতে পারেননি—কারণ তখন তিনি কারাগারে ছিলেন।
মামলার সময়সূচি ও সংঘাতপূর্ণ তথ্য
নথি ও অভিযোগ থেকে পাওয়া তথ্য সাজালে ঘটনার সময় ও মামলার দায়ের-তফসিল সম্পর্কে এই মৌলিক বিবরণ উঠে আসে:
- ২০১৬ সালের ২১ সেপ্টেম্বর—ইমরান রাজশাহীর দায়রা জজ আদালতে একটি অস্ত্র মামলায় আত্মসমর্পণ করেন; আদালত জামিন না মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠায়।
- ২০১৬ সালের ২২ নভেম্বর—ইমরান জামিনে মুক্ত হন এবং বাড়ি ফেরেন।
- ২০১৬ সালের ৪ নভেম্বর—নথি অনুযায়ী ওইদিন একটি বাসে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।
- ২০১৭ সালের ১৯ জুলাই—নাটোর সদর থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা (তৎকালীন এসআই এস এম আবু সাদাদ) ইমরানকে ডাকার মাধ্যমে গ্রেপ্তার করেন।
- প্রায় দুই বছর পর—তদন্ত শেষে সেই মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই আলী আকবর আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন; এতে ইমরানসহ ১৭ জনের নাম ছিল।
| তারিখ | ঘটনা |
|---|---|
| ২০১৬-০৯-২১ | অস্ত্র মামলায় আত্মসমর্পণ; কারাগার পাঠানো |
| ২০১৬-১১-০৪ | বাসে ডাকাতির ঘটনা (নথি অনুযায়ী) |
| ২০১৬-১১-২২ | জামিনে মুক্তি |
| ২০১৭-০৭-১৯ | নাটোর সদর থানায় গ্রেপ্তার (ডাকাতির মামলায়) |
অভিযোগ ও পুলিশি প্রতিক্রিয়া
ইমরানের দাবি অনুযায়ী, তিনি ঘটনার সময় কারাগারে ছিলেন—যা মামলার প্রমাণপত্রে প্রতীয়মান। ওই তথ্য জানানো সত্ত্বেও নিয়মিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আদালতে জমা পড়ে এবং দীর্ঘ সময় তিনি বিচারপ্রক্রিয়ায় জড়িত ছিলেন। তিনি এ বিষয়ে গত ২০ জুলাই রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।
“অভিযোগটি নাটোর সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার তদন্ত করছেন। তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে,”
উক্ত মন্তব্যটি করেছেন পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ। তাঁর কথায়, এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) উদয় কুমার সাহাকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
স্থানীয় প্রেক্ষাপট ও সম্ভাব্য প্রভাব
একটি ব্যক্তিকে অযথাই চিহ্নিত করা ও দীর্ঘ সময় বিচারিক প্রক্রিয়ায় জড়িয়ে রাখার ঘটনা স্থানীয় সমাজে ভয়ের অনুভূতি বাড়ায়। কৃষক-সেচকার হিসেবে পরিচিত ইমরান হোসেনের মতো একজনের বিরুদ্ধে দীর্ঘকাল ধরে এমন ঝামেলা পরিবারের অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনে প্রভাব ফেলে।
স্থানীয়রা বলছেন, পুলিশের তদন্ত ও নথিপত্র যাচাই আরও স্বচ্ছ হলে অনাকাঙ্ক্ষিত আরোবাধা ও সময়-অর্থের ক্ষতি রোধ করা যায়। অন্যদিকে অভিযোগটি যদি সত্য সাব্যস্ত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা দাবি উঠবে—যা পুলিশি জবাবদিহিতার একটি পরীক্ষা হিসেবে গণ্য হবে।
পরবর্তী ধাপ কি হবে?
- নাটোর সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার তদন্ত চালাবেন।
- রেঞ্জ পুলিশ অভিযোগবস্তুর সত্যতা বোঝার পর প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবে।
- আদালতীয় দস্তাবেজ যাচাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধন বা মামলা থেকে অব্যাহতি প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে—তবে আদালতের পক্ষ থেকে আইনি সিদ্ধান্ত ছাড়া নিশ্চিত কিছু বলা যাবে না।
এই ঘটনার মৌলিক প্রশ্ন থাকে—কীভাবে একটি মামলায় কেউ আসামি করা হলো যেখানে তিনি প্রমাণযোগ্যভাবে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তদন্ত শেষে যে ফল বের হবে, তা স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার সূচক হিসেবে গণ্য হবে। নাটোর থেকে ইমরান হোসেনের লিখিত অভিযোগ ও পুলিশের প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে শুরু হওয়া তদন্ত পুলিশের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা পরিমাপ করবে।
রিপোর্টার: ইমরান হোসেনের দায়-অসামিতার বিষয়টি আদালতীয় রেকর্ড, অভিযোগপত্র ও পুলিশের তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে; এই প্রতিবেদনে আমরা প্রকাশিত নথি ও প্রাপ্ত বক্তব্যই তুলে ধরেছি।