নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের চক কোয়ালীপাড়া এলাকায় শনিবার ভোরে এক আনসার সদস্যের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা। নিহতের নাম শাহজাহান (৫৩), তিনি ওই এলাকার মৃত নাদের আলীর ছেলে।
পূর্বের সন্ধ্যার অবস্থান ও সন্ধান-পদক্ষেপ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শাহজাহান ও স্থানীয় রফিকুল ইসলাম খালেক প্রামাণিকের পুকুরপাড়ের একটি ঘরে ছিলেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাড়িতে ফেরার কথা বলে শাহজাহান সেখানে থেকে বের হন। এরপর আর তিনি বাড়ি ফেরেননি।
শনিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে পুকুরের মালিক আব্দুল খালেকের ছেলে রফিকুল ইসলাম পুকুরপাড়ে গিয়ে একটি আমগাছের সঙ্গে শাহজাহানের শার্ট ও স্যান্ডেল ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। বিষয়টি পরিবারের জানালে তারা প্রথমে রাতভর কোন খোঁজ না পেয়ে উদ্বিগ্ন হন এবং পরে স্থানীয়দের সঙ্গে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
| ঘটনার সময়রেখা | বিবরণ |
|---|---|
| শুক্রবার সন্ধ্যা–রাত | সাড়ে ১০টায় খালেক প্রামাণিকের পুকুরপাড়ের ঘরে উপস্থিত; রাত সাড়ে ১১টায় বাড়ি যাওয়ার কথা বলে বের হন |
| শনিবার ভোর ~৫:৩০ | পুকুরপাড়ে শার্ট ও স্যান্ডেল ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়; পরে পুকুরে মরদেহ ভাসতে দেখে উদ্ধার |
মরদেহ উদ্ধার ও প্রাথমিক অনুমান
স্থানীয়রা পুকুরপাড় থেকে প্রায়১৫ গজ দূরে পানিতে শাহজাহানের মরদেহ ভাসতে দেখে দ্রুত টেনে তুলে বাড়িতে নিয়ে যান। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুল্লাহ শেখ ঘটনাস্থলে গিয়ে বলেন, পুকুরটিতে সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাসের কারণে মাছ মারা গেছে—এই প্রেক্ষাপট থেকে তার ধারণা, মাছ ধরতে পুকুরে নেমে কোনো কারণে তিনি আর ওপরে উঠতে পারেননি।
"পুকুরে গ্যাসের কারণে মাছ মারা যাওয়ায় মাছ ধরতে গিয়ে শাহজাহান পানিতে নেমেছিলেন বলে আমরা ধারণা করছি,"—আব্দুল্লাহ শেখ বলেন।
নিহতের ছেলে আসিফ আলী বলেন, তার বাবা প্রায়ই গভীর রাত পর্যন্ত বাড়ির বাইরে থাকতেন, তাই শুক্রবার রাতে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা প্রথমে বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবেই নিয়েছিলেন। সকালে পুকুরপাড়ে শার্ট ও স্যান্ডেল পড়ে থাকার খবরে খোঁজাখুঁজি শুরু করলে পরে পুকুরে মরদেহ দেখতে পান তারা।
পুলিশি کارروائی ও ময়নাতদন্ত
বাগাতিপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমনচন্দ্র দাস জানান, পুকুরে মরদেহ ভাসার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
পুলিশ এখনও মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করে কিছু জানাননি; ময়নাতদন্ত ও তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে, বলেছে পুলিশ।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তার প্রশ্ন
একদিকে পরিবারের সদস্যদের আক্ষেপ, অন্যদিকে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক—পুকুরে গ্যাস জমাট বাঁধা বা পরিবেশগত কারণে এমন দুর্ঘটনা হলে তা নিয়মিত সতর্কতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পুনরাবৃত্তি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। পুকুরপালক ও স্থানীয় নেতারা বলছেন, পুকুরে মাছ মারা গেলে তা দ্রুত জানিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগকে যোগাযোগ করা উচিত।
- পুকুরে গ্যাস-জমাট বা বিষক্রিয়া থাকলে আগে থেকেই সতর্কতা নেওয়া
- রাতবেলা একা পুকুরে নেমে মাছ ধরার ঝুঁকি কমানো
- অনুত্তীর্ণ ঘটনার দ্রুত পুলিশের জানানো ও মৎস্য দপ্তরের সহায়তা নেওয়া
ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে আলোচিত ও উদ্বেগের বিষয় হলেও পুলিশ ও ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ছাড়া মৃত্যুর প্রকৃতি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছেনা। ময়নাতদন্ত ও তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হলে ঘটনার চূড়ান্ত চিত্র সামনে আসবে।