২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-ফলের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী সুনামগঞ্জ জেলায় মোট ২৩,৪২৯ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১২,৬১৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। শিক্ষা অফিস কর্তৃক প্রকাশিত উপজেলা ভিত্তিক ফলাফল থেকে জানা যায়, জেলায় এসএসসি ও সমমান মিলিয়ে এবারের পাসের হার ৫৩.৮৪ শতাংশ। এ বছর জেলাভিত্তিকভাবে মোট ৪৪৩ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।
জেলার এবং এসএসসি-only ফলাফলের সংক্ষিপ্ত চিত্র
দশমিক ভিত্তিক জেলা মোট পাস রেট জাতীয় গড়ের তুলনায় নীচে। সারাদেশে একই পরীক্ষায় গড় পাসের হার ছিল ৬২.২৫ শতাংশ। সুনামগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসের হিসাব অনুযায়ী, জেলার ১২ উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষায় মোট ১৮,২৯২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলে এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১০,০০০ জন। এসএসসিতে জেলার পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৪.৬৭ শতাংশ এবং এসএসসি পর্যায়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪১০ জন।
উপজেলা অনুযায়ী পারফরম্যান্স
উপজেলা ভিত্তিক ফলাফলে ভিন্নতা নজরকাড়া—কিছু উপজেলায় পাস হার জাতীয় গড়ের অনুকূলে বা তার কাছাকাছি হলেও কয়েকটি উপজেলায় পাসের হার তুলনামূলকভাবে কম। নিচে জেলা শিক্ষা অফিস প্রকাশিত উপজেলা ভিত্তিক প্রধান সংখ্যাগুলো উপস্থাপন করা হলো:
- সুনামগঞ্জ সদর: পরীক্ষার্থী ২,৪৭৫; উত্তীর্ণ ১,৬২৮; পাস হার ৬৫.৭৮%; জিপিএ-৫: ১৬৩ জন
- শান্তিগঞ্জ: পরীক্ষার্থী ৯৫৫; উত্তীর্ণ ৬০৬; পাস হার ৬৩.৪৬%; জিপিএ-৫: ১০ জন
- ছাতক: পরীক্ষার্থী ৩,১৮৭; উত্তীর্ণ ১,৬৫৯; পাস হার ৫২.০৬%; জিপিএ-৫: ৩৬ জন
- জগন্নাথপুর: পরীক্ষার্থী ১,৮৮৭; উত্তীর্ণ ১,০১৩; পাস হার ৫৩.৬৮%; জিপিএ-৫: ২৩ জন
| উপজেলা | পরীক্ষার্থী | উত্তীর্ণ | পাস হার (%) | জিপিএ-৫ (সংখ্যা) |
|---|---|---|---|---|
| দোয়ারাবাজার | ১,৫০০ | ৭১৮ | ৪৭.৮৬ | ৯ |
| জামালগঞ্জ | ৯৬১ | ৬১০ | ৬৩.৪৭ | ২৮ |
| দিরাই | ২,১৩৮ | ১,০৬১ | ৪৯.৬২ | ৩৯ |
| শাল্লা | ৮৬১ | ৪৮২ | ৫৫.৯৮ | ১১ |
| বিশ্বম্ভরপুর | ১,৯০৯ | ৫৪৯ | ৫৪.৪১ | ২৩ |
| তাহিরপুর | ১,৫০০ | ৬৫৫ | ৪১.১৮ | ১১ |
| মধ্যনগর | ৭৩০ | ৪৫০ | ৬১.১৬ | ২৮ |
| ধর্মপাশা | ১,৮৯৩ | ৫৬৯ | ৫২.২৫ | ২৯ |
উপরের তথ্য জেলা শিক্ষা অফিস কর্তৃক মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত সারাদেশিক ফলাফলের অংশ হিসেবে পাওয়া গেছে। জেলা ও উপজেলার তুলনায় কয়েকটি উপজেলায় পাস হার উল্লেখযোগ্যভাবে কম—উদাহরণ হিসেবে দোয়ারাবাজার ও তাহিরপুরে পাস হার তুলনায় নিম্ন। অন্য দিকে সদর এবং শান্তিগঞ্জে তুলনামূলক ভাল ফল দেখা গেছে।
পরবর্তী প্রভাব ও প্রশ্ন
এসএসসি ফলাফল শুধুই ব্যক্তিত্বের প্রতিফলন নয়—এটি স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষক সংকট, অবকাঠামো ও প্রস্তুতির ওপরও নির্ভর করে। সুনামগঞ্জের কিছু উপজেলায় নিম্ন পাস রেট স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা কর্তৃপক্ষকে উন্নত শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করার তাগিদ দেবে। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে উত্তরণের সময় ও চাকরিবাজারে প্রতিযোগিতার জন্য এই ফলাফল স্থানীয়দের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
এখন আগামী ধাপে জনশিক্ষা কর্তৃপক্ষ, স্কুল-কলেজ প্রশাসন ও অভিভাবকরা কী ধরনের সহায়তা প্রদান করবেন—তাই এখানেই নজর থাকবে। জেলার মোট ৪৪৩ জিপিএ-৫প্রাপ্ত শিক্ষার্থীকে নিয়ে কিভাবে উচ্চশিক্ষায় সুযোগ বাড়ানো হবে, শিক্ষার মানোন্নয়নে কোথায় বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই হবে স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ের নীতিনির্ধারকদের।
জেলা শিক্ষা অফিসের প্রকাশিত বিবরণী অনুযায়ী এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ফলাফল গত সোমবার সারাদেশে ঘোষণা করা হয়েছিল।