চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে একটি ট্যাংক থেকে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় কমপক্ষে নয়জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে স্থানীয় কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে; পরিবারগুলোতে শোক ও হতাশার ছায়া নেমে এসেছে।
দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপট ও উদ্ধারকার্য
স্থানীয় ও মালিকপক্ষের বরাত দিয়ে জানা যায়, পতিত ট্যাংক থেকে বিষাক্ত গ্যাস বের হয়ে দ্রুতই এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে এলাকাবাসী ও শ্রমিকরা অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময়ে আরও কয়েকজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং তাদের অবস্থার বিষয়ে এখনই বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
নিহত ও পরিবারের বর্ণনা
নিহতদের মধ্যে ভাটিয়ারীর মো. সেকান্দারের ছেলে দুই সহোদর মনসুর ও নাসির রয়েছেন। তাদের বাড়িতে কান্নার রাজ্য বিরাজ করছে। নিহত মনসুরের মেয়ে রূপা বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন এবং নিজেকে বাবার পাশে দেখতে চেয়েছেন। নিহতদের পিতার ভাষ্য থেকে জানা যায়, পরিবারের রোজগার চালাতে ঘরের বড় ভাই ও অন্য ভাই শিপইয়ার্ডে কাজ করতেন — এখন সেই দুই ছেলেকে জীবিত ফেরত পাওয়া যাচ্ছে না।
“আমার চার ছেলের মধ্যে দুজন প্রবাসী। অন্য দুই ছেলে বাড়ির কাছে শিপইয়ার্ডে কাজ করে সংসার চালাত। এই কাজে যে ছেলেদের চিরদিনের জন্য হারাতে হবে, তা কখনো ভাবিনি।”
এ ছাড়াও মারা যাওয়া শ্রমিকদের মধ্যে পলাশ দাশ ও সানি দাশের পরিবারও বিধ্বস্ত। পলাশের স্ত্রী ভূমি রানী দাশ গর্ভবতী — তাহাদের কন্যাশিশুর আগমনের আগেই পলাশের মৃত্যু পরিবারে নতুন মাথা নেমেছে।
মালিকপক্ষ ও প্রতিশ্রুতি
ঘটনাস্থল সংশ্লিষ্ট পক্ষ সূত্রে জানানো হয়েছে, মালিকপক্ষ নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে প্রতি পরিবার ১০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে ক্ষতিপূরণ নিয়েও আহত ও নিহতদের পরিবারে নীরব উদ্বেগ বিরাজ করছে—টাকা দিয়ে যে সন্তান ফিরে পাওয়া যায় না বলে পরিবারগুলো দাবি করছে।
- স্থায়ী উপার্জন হারানো পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
- নিহতদের পরিবারের মধ্যে অনাগত শিশু ও কন্যাশিশুদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় উদ্বেগ বাড়ছে।
- কর্মস্থলের নিরাপত্তা ও তত্ত্বাবধানে তৎপরতা নিয়ে স্থানীয়ভাবে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও দাবি
নিহতদের প্রতিবেশী ও আত্মীয়রা দাবি করছেন, ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাঁদের অনুরোধ—মালিকপক্ষ বা সরকার যেন কেবল ক্ষতিপূরণেই সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং শ্রমিকদের পরিবারকে স্থায়ীভাবে সমর্থন প্রদানের ব্যবস্থা করা হোক। আহত পরিবারের সদস্যরা বলেন, দায়িত্ব নেওয়া না হলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান পাওয়া যাবে না।
অবশিষ্ট প্রশ্ন ও তদন্তের প্রয়োজন
এ ঘটনায় এখনই স্পষ্ট নয়—ট্যাংকে কী ধরনের পদার্থ থেকে গ্যাস নির্গত হয়েছিল, নিরাপত্তা প্রটোকল কোথায় ব্যর্থ হলো, কাজ চলাকালীন পর্যাপ্ত ওয়ার্কসেফটি মাপকাঠি মেনে চলা হয়েছিল কি না। বন্দোবস্তকারী কর্তৃপক্ষ জানায়, বিষয়টি এখন তদন্তে রয়েছে এবং তদন্তে পাওয়া ফলে পরবর্তীতে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
| বিষয় | প্রাথমিক তথ্য |
|---|---|
| স্থান | ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড, ভাটিয়ারী, সীতাকুণ্ড |
| সময় | শুক্রবার সকাল (তারিখ: ১৪ আগস্ট) |
| মৃতের সংখ্যা | ৯ (প্রাথমিক) |
| মালিকপক্ষের ঘোষণা | প্রতি নিহতের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা |
পরবর্তী করণীয় ও পাঠক সচেতনতা
এই ধরনের দুর্ঘটনায় জরুরি পদক্ষেপ হওয়া উচিত—কর্মস্থলে রাসায়নিক ও গ্যাসের উপস্থিতি পরীক্ষা-নিরীক্ষা, নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ ও জরুরি উদ্ধার ব্যবস্থার স্থাপন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকেও সুবিধা-উপকারে দ্রুত অন্তর্ভুক্ত করা এবং শ্রম আইন কার্যকর করার আহ্বান রয়েছে।
আমরা এই ঘটনায় আরো বিস্তারিত তথ্য ও কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা সংগ্রহ করে প্রকাশ করব। ঘটনায় আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি এবং নিহতদের পরিবারদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।
নাসির উদ্দিন, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
WE NEWS